৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ট্রাম্প জোট নড়বড়ে, রিপাবলিকানরা এখন কী করবে?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরাট ধসের পর, রিপাবলিকানরা এখন আত্মপর্যালোচনা করছেন। গত সপ্তাহের নির্বাচনী পরাজয়ের পর দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নানা প্রশ্ন সামনে আসছে। তবে এর কোনো সহজ উত্তর নেই, কারণ রিপাবলিকানরা এখন দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে—তারা কি ‘ট্রাম্পের নীতি ও রাজনৈতিক ভাবধারায়’ আরও বেশি জোর দেবে, নাকি ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ সময়ে নতুন কোনো পথে এগোবে। ফ্লোরিডার বিদায়ী গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এই মধ্যবর্তী নির্বাচনকে রিপাবলিকানদের জন্য ‘প্রায় ধ্বংসাত্মক এক ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

অন্যদের কথায় অবশ্য কিছুটা ইতিবাচক সুর শোনা গেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই ফলাফলের জন্য ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ‘দলটি এই পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তা সত্ত্বেও ভ্যান্সে এর মতে এর পরবর্তী পরিণতি বেশ বিশৃঙ্খল হবে।

ভ্যান্স বলেন, ‘কী ঘটেছে এবং কেন ঘটেছে তা নিয়ে প্রচুর কোন্দল ও বিতর্ক হবে।’ ডানপন্থীদের এমন বৈচিত্র্যময় প্রতিক্রিয়া সেই মতভেদকেই তুলে ধরে, যা ২০১৬ সালে ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত উত্থানের মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এবং এটি কখনোই পুরোপুরি দূর হয়নি। কোন দল বা পক্ষ জয়ী হবে তা এখনই বলা মুশকিল। তবে রিপাবলিকানরা যখন নিজেদের ক্ষত সারানোর চেষ্টা করছে, ভ্যান্সের ভবিষ্যৎবাণী করা সেই আন্তঃদলীয় লড়াই ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ রিনা শাহ বলেন, ‘দলটিকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা কি একজন ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকবে, নাকি রক্ষণশীলতার মতো আরও বিস্তৃত ধারণার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হবে যা একদম কট্টর রিপাবলিকান এলাকাগুলোর বাইরেও জয় এনে দিতে পারে।’ ডানপন্থার সমালোচক “নেভার ট্রাম্পার” দল—যারা ট্রাম্পের প্রথম হোয়াইট হাউস প্রচারণার বিরোধিতা করেছিলেন—নির্বাচনের দেশব্যাপী ঐতিহাসিক পরাজয়ের কথা উল্লেখ করে রিপাবলিকান পার্টিকে ট্রাম্প-পূর্ববর্তী মূল ভাবধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি করছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক দশকের রাজত্বকালে দলটি অনেক বদলে গেছে। অধিকাংশ রিপাবলিকানই অভিবাসনের মতো অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে আরও কট্টর ডানপন্থার দিকে ঝুঁকেছেন। তারা জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলের সেই সামরিক হস্তক্ষেপমূলক পররাষ্ট্রনীতি প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের জন্ম দিয়েছিল।

কংগ্রেসে দলটির সেই তুলনামূলক মধ্যপন্থী ও মূলধারার অংশ—যারা শুরু থেকেই ট্রাম্পকে অপছন্দ করতেন—তারা বলতে গেলে আর নেই। তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ট্রাম্প সমর্থক কট্টর রক্ষণশীলরা, যারা ট্রাম্পের দেশপ্রেমী ও জনতাবাদী স্লোগানেরই প্রতিধ্বনি তোলেন।

চলতি বছরেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। টেক্সাসের জন কর্নিন এবং মেইনের সুসান কলিন্সের মতো পুরোনো ঘরানার রিপাবলিকানরা, যারা বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্পের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন, তারা ভোটে হেরে বিদায় নিয়েছেন।
নির্বাচনের তিন দিন পর ট্রাম্প সুসি ওয়াইলসকে সরিয়ে স্টিফেন মিলারকে তার নতুন হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিযুক্ত করেছেন।

এই পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয়, ট্রাম্পের তার ক্ষমতার অবশিষ্ট বছরগুলোতে নিজের নীতি বা অবস্থানে নমনীয়তা আনার কোনো পরিকল্পনা নেই। মিলার, যিনি প্রেসিডেন্টের মুখ্য অভ্যন্তরীণ নীতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের অনুগত সহযোগী এবং তার কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য পরিচিত।

‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আন্দোলনের অন্যতম রূপকার স্টিভ ব্যানন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দলতিতে এক “গৃহযুদ্ধের” আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। পরবর্তীতে, তিনি রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য অর্থনীতি এবং “বৈদেশিক যুদ্ধকে” দায়ী করেন। তিনি ট্রাম্পকে ঢালাওভাবে অবৈধ অভিবাসী বিতাড়নের ওপর আরও জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।

তবে অন্যান্য রিপাবলিকান কৌশলবিদরা বলেছেন, এই মধ্যবর্তী নির্বাচন ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেই’ (মাগা) ভক্তদের জন্য একটি বড় ধাক্কা এবং সতর্কবার্তা, যারা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির পরেও তার এই রাজনৈতিক আন্দোলনকে টিকিয়ে রাখতে চান।

রিপাবলিকান কৌশলবিদ উইট এয়ার্স বলেন, ‘এখনও প্রচুর মাগাভক্ত ভোটার রয়েছেন যারা সব পরিস্থিতিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তবে রিপাবলিকান পার্টির একটি বড় অংশ রয়েছে যারা মাগাভক্ত নন, এবং তারাই এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ।’

অস্টিনের ‘ইয়ং রিপাবলিকানস’-এর নেতা শ্রাডারের মনোভাবও ঠিক এমনই। নির্বাচনের ফলাফলের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার প্রথম প্রকাশ্যে আসা অনুষ্ঠানটিতে কীভাবে হোয়াইট হাউসের বলরুম প্রকল্প ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে দেখিয়েছেন—সে বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে শ্রাডার বলেন, ট্রাম্প এখনো এক “প্রাকৃতিক পরাশক্তি”।

তবে তিনি আরও বলেন, ‘আমি এমন সব বিষয় ও ইস্যুতে নজর দিতাম যা বলরুম নয় কিংবা কোনো কিছুর নাম পরিবর্তন করা নয়। আমার মনোযোগ থাকত সেই বিষয়গুলোর ওপর, যা সত্যিই সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

মধ্যবর্তী নির্বাচনের তাৎক্ষণিক ফলাফলের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা ইঙ্গিত দেয় যে ২০২৮ সালের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেই রিপাবলিকানরা বেশি লাভবান হতে পারেন।

‘ভ্যান্স ছিলেন ফেভারিট — এখন লড়াই সব পক্ষের জন্যই পুরোপুরি উন্মুক্ত’

ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল্যায়নে খুব হিসাব-নিকাশ করে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন এবং “আমেরিকা ফার্স্ট” (আমেরিকা আগে) নীতিতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি একটি সূক্ষ্ম সমালোচনা ছিল, যেখানে তিনি একটি অপ্রিয় যুদ্ধের প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে দ্বিমত পোষণ করেন, অথচ একই সাথে মাগা সমর্থক গোষ্ঠীর কাছে জনপ্রিয় সেই রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকেও আলিঙ্গন করেন।

ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর ওপর তার দল ২০২৮ সালের নির্বাচনের সমীকরণের স্বার্থেই নজর রাখবে। কারণ এই উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে ভ্যান্স এবং অন্যান্য “আমেরিকা ফার্স্ট” সমর্থকদের প্রকাশ করা উদ্বেগের পালে নতুন করে হাওয়া লাগার ঝুঁকি তৈরি হবে।

এক্স-এ দেওয়া তার নির্বাচন-পরবর্তী বিশ্লেষণমূলক বিবৃতিতে ভ্যান্স ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পুনর্বিবেচনা করার বিষয়ে ডানপন্থীদের মধ্যে বাড়তে থাকা দাবির প্রতিও সুর মিলিয়েছেন। তবে তিনি অভিবাসন আইন প্রয়োগে কিছু পরিবর্তনের বিষয়েও খোলামেলা মনোভাব দেখিয়েছেন। আর এই অবস্থান হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলারের নীতির সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক—যিনি ভ্যান্সের মিত্র হওয়া সত্ত্বেও প্রেসিডেন্টের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিবাসন এজেন্ডার মূল রূপকার ছিলেন।

রাজনৈতিক কৌশলবিদদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের এই ভরাডুবি ২০২৮ সালের মনোনয়নের ক্ষেত্রে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের পথকে বেশ জটিল করে তুলেছে। এয়ার্স বলেন, ‘এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ২০২৮ সালে রিপাবলিকান মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে জেডি ভ্যান্সই ছিলেন সবচেয়ে ফেভারিট বা এগিয়ে থাকা প্রার্থী। কিন্তু এই নির্বাচনের পর, মনোনয়নের সেই লড়াই এখন সবার জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে গেছে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের সামনে নিজেদের বিকল্পগুলো ভেবে দেখার জন্য কিছুটা সময় থাকলেও, খুব শীঘ্রই তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট পদে লড়াই করতে ইচ্ছুক যে কাউকেই আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হোয়াইট হাউস প্রার্থিতা ঘোষণার জন্য চাপের মুখে পড়তে হবে। এমনকি কেউ কেউ চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই প্রচারণা শুরু করতে পারেন।

ভ্যান্সের এই নির্বাচনী বিশ্লেষণকে অনেকেই তার নির্বাচনে দাঁড়ানোর পরিকল্পনার এক অনানুষ্ঠানিক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন। ফলে শেষ পর্যন্ত এই প্রাথমিক নির্বাচনে যে বহু প্রার্থীর ভিড় জমবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।

হোয়াইট হাউসের সম্ভাব্য অন্যান্য দাবিদারদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ, ফ্লোরিডার গভর্নর ডিস্যান্টিস, জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি এবং নিউ জার্সির সাবেক গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি— ছাড়াও তালিকায় আরও অনেকে রয়েছেন।

পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও কংগ্রেস প্রার্থীদের ইসরায়েলে আমেরিকার সমর্থন থেকে শুরু করে ট্যারিফ বা শুল্ক নীতি এবং এআই বিপ্লবের মতো সময়ের প্রধান প্রধান বিষয়গুলোতে বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরে পা দেওয়ার সাথে সাথে তার প্রভাব কিছুটা হ্রাস পেতে পারে, তবে আগামী দুই বছর দলের মধ্যে তার কণ্ঠস্বরই সবচেয়ে জোরালো থাকবে। কিন্তু এই উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় তিনি গভীরভাবে হস্তক্ষেপ করবেন নাকি দূরে থাকবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্প বিভিন্ন সময়ে ভ্যান্স এবং রুবিওর প্রশংসা করেছেন, তবে তার স্থানে তিনি কাকে দেখতে চান—সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর তিনি এড়িয়ে গেছেন। এয়ার্স বলেন, ‘কারা শেষ পর্যন্ত এই দৌড়ে নামবেন তা সময়ই বলে দেবে। তবে আমার ধারণা, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আমরা যেমনটা ভেবেছিলাম, প্রার্থী তালিকা তার চেয়ে অনেক বড় এবং আরও বৈচিত্র্যময় হতে যাচ্ছে।’

ভরাডুবির পর ট্রাম্পকে নীতি পরিবর্তনের আহ্বান রিপাবলিকানদের

৪ নভেম্বর বুধবার রিপাবলিকান মিত্র ও রাজনৈতিক কৌশলবিদেরা ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবর্তন, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য দায়ী নীতিগুলো থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। এসব নীতির মধ্যে ইরান যুদ্ধ ও শুল্ক আরোপের বিষয়টিও রয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের চাপ দিচ্ছেন রিপাবলিকানরা। এ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নির্বাচনী আসনে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থীদেরও প্রত্যাখ্যান করেছেন ভোটাররা।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার মেয়াদের শেষ কয়েক বছর শুরু হওয়ার সময়ই এমন চাপের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। অভিজ্ঞ রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ জন ফিহেরি নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের জন্য ‘বড় বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ফিহেরি বলেন, ‘তার পুরো প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। এখন থেকে প্রতিটি দিন পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরও বেশি করে ক্ষমতাহীন হয়ে পড়বেন।’ তবে নির্বাচনের ফলাফলকে নিজের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের কারণ হিসেবে দেখছেন—এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প। ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমি এটিকে আমার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছি না।’

এখন ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দেওয়া, তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত করা এবং মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগের বিরোধিতা করার ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে নির্বাহী ক্ষমতা আগ্রাসীভাবে ব্যবহার করে আসা ট্রাম্প একক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজের কর্মসূচি বাস্তবায়নে আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া নিজের এমন একটি রাজনৈতিক এজেন্ডা অব্যাহত রাখবেন কি না, সে সিদ্ধান্তও তাকে নিতে হবে, যা নিয়ে কিছু রিপাবলিকানের আশঙ্কা, এই অবস্থান রাজনৈতিক দায় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৮ সালে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এমন উত্তরসূরিদের জন্যও বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ৪ নভেম্বর বুধবার প্রেসিডেন্টের অবস্থান থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য তিনি ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। রিপাবলিকানরা যদি মনে করেন, দলটির ভোটারদের ওপর ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের প্রভাব দুর্বল হয়ে পড়ছে, তাহলে এ ধরনের দূরত্ব তৈরি আরও সাধারণ ঘটনা হয়ে উঠতে পারে বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ ও দলীয় কর্মকর্তারা।

হোয়াইট হাউসে কর্মী পরিবর্তন ও তদন্তের আশঙ্কা

হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সেখানে জ্যেষ্ঠ সহকারীদের মধ্যে পদত্যাগ, মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই মুহূর্তে এখানে থাকা সত্যিই খুব খারাপ অভিজ্ঞতা। কর্মীদের মনোবল যতটা নিচে নামতে পারে, ঠিক ততটাই নেমে গেছে।’

তিনি জানান, নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ আগে অভ্যন্তরীণ জনমত জরিপে দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের আশঙ্কা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করার পরও ট্রাম্প ইরান যুদ্ধের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করতে অস্বীকৃতি জানান।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত তিনি বিষয়টি নিয়ে একেবারেই চিন্তা করেননি। তিনি কারও কথা শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।’ মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্প স্বীকার করেন, আট মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকান প্রার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে সংঘাত শুরু করার সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান ধরে রাখেন তিনি।

যুদ্ধের বাইরেও রিপাবলিকানদের উদ্বেগ রয়েছে। রিপাবলিকান রাজনৈতিক পরামর্শকের বরাত দিয়ে জানা যায়, মিশিগান ও আইওয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট নির্বাচনী আসনে পরিচালিত ফোকাস গ্রুপগুলোর আলোচনায় এ গ্রীষ্মে জাতীয় পর্যায়ের রিপাবলিকান রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের উদ্বেগ বাড়তে থাকে। কারণ, আরও বেশি রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটার হোয়াইট হাউসের বলরুম এবং ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সংস্কারকাজে প্রেসিডেন্টের মনোযোগ দেওয়ার বিরোধিতা করেন।

এক রিপাবলিকান রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘ট্রাম্প যদি আগামী দুই বছরও একই বিষয় নিয়ে কথা বলতে থাকেন, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে আমরা আবারও বড় ব্যবধানে পরাজিত হব।’

তবে বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের নিয়ে আকস্মিকভাবে হোয়াইট হাউসের বলরুম নির্মাণকাজের স্থান পরিদর্শনে যান। এ প্রকল্পে তিনি যে সময় ব্যয় করছেন, তার পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে এটি স্বস্তিদায়ক।’

এদিকে হোয়াইট হাউসও প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান দেখিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশ করে তাতে লেখা হয়েছে, ‘জনসাধারণের অবগতির জন্য: ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।’

তবে ট্রাম্পের হাতে এখনো যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হোয়াইট হাউস কয়েক মাস ধরে অভিবাসন, শুল্ক, আবাসন ও কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয়সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব আদেশের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা সত্ত্বেও নিজের কর্মসূচির কিছু অংশ এগিয়ে নিতে পারবেন তিনি।

তবে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে কংগ্রেসের তদন্ত থেকে প্রশাসনকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। হোয়াইট হাউসের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কেউই এসব তদন্তের মুখোমুখি হতে চায় না।’ – বিবিসি ও রয়টার্স