আগামী ৪,৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটির ( ৩৯-২০ ২৭ স্ট্রিট, নিউ ইয়র্ক-১১১০১ ) ইভাঞ্জেল খ্রিস্টিয়ান সেন্টারে। ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা ( FOBANA)’র ৪০তম কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনের প্রস্ততির অগ্রগতি জানাতে ফোবানার হোস্ট কমিটি ও সেন্ট্রাল কমিটির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল ২ এপ্রিল সন্ধ্যা ৮টায় জ্যাকসন হাইটসের এক বাঙালী রেস্টুরেন্টে।

ফোবানা চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কানাডা থেকে আগত ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি দেওয়ান মনিরুজ্জামান, হোস্ট কমিটির কনভেনার নুরুল আমিন বাবু, সদস্য সচিব- বিশিষ্ট লেখক ও ছড়াকার মঞ্জুর কাদের,৪০ তম ফোবানার উপদেষ্টা লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব লুৎফুন নাহার লতা,জয়েন্ট অক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি সুব্রত তালুকদার, চিফ কো- অর্ডিনেটর আব্দুল হামিদ, সেমিনার কমিটির আহ্বায়ক কবি ফকির ইলিয়াস, মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর সাংবাদিক পিনাকি তালুকদার, কো-অর্ডিনেটর জাহাঙ্গীর আলম, জসীম উদ্দিন, বাংলাদেশ লিয়াজু কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপদেষ্টা হাকিকুল ইসলাম খোকন, মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আসলাম আহমাদ খান, এ এইচ এম আলী খবির মেইনষ্টিম লিয়াজু কমিটির কো চেয়ার আজহার চৌধুরী, কো- অডিনেটর শিবলী ছাদিক প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই সকলকে স্বাগত জানান ফোবানা চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী। তিনি জানান, ৪০তম ফোবানা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হয়েছে। এবারের ফোবানায় থাকবে বঙ্গবন্ধুর উপর সেমিনার এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভিত্তিক নানান অনুষ্ঠান।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হোস্ট কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি মঞ্জুর কাদের। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সূচী এবং কর্ম পরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
সেন্ট্রাল কমিটির এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি দেওয়ান মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য, আমাদের এই গর্বিত ইতিহাসের উপর বারবার আঘাত এসেছ এবং তা রুখে দিতেই এবারের ফোবানার শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে—চেতনায় ৭১, হৃদয়ে বাংলাদেশ।
হোস্ট কমিটির কনভেনার নুরুল আমিন বাবু জানান, বাঙালির সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে একাত্তরের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ। সেই মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে আমরা যদি সবাইকে একত্রিত করতে পারি তাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম বুঝবে, গর্ব করবে। তিনি বলেন, জাতি, ধর্ম, বর্ণের উর্ধ্বে উঠে এবারে ফোবানা হবে বাংলা ও বাঙালির মিলনমেলা। তিনি আরো বলেন, নিউ ইয়র্কে আসন্ন ৪০তম ফোবানাই হবে শ্রেষ্ঠ ফোবানা। এ ফোবানার সাথে অন্য কোন ফোবানার বিরোধ নেই।
৪০তম কনভেনশনের উপদেষ্টা নাট্যজন লুৎফুন নাহার লতা বলেন, হাজার বছর ধরে পথ চলা বাঙালি জাতির সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। আছে গর্বিত সংস্কৃতি ও সভ্যতা। তিনি বলেন, বাংলার মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি সন্তান আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক- বাহক। তারা পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাক না কেন, বাংলাদেশের একেকজন দূত হিসেবে সেখানেই ছড়িয়ে দেবে আমাদের গর্বের ইতিহাস এবং ফোবানা সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।
সেমিনার কমিটির আহ্বায়ক কবি ফকির ইলিয়াস বলেন, বঙ্গবন্ধু, বাঙালি ও বাংলাদেশ একসূত্রে গাঁথা। তিনি বাঙালির গর্বিত ইতিহাসের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ মে একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলায় সকলকে আমন্ত্রণ জানান।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি ৪০তম ফেবানা কনভেনশনের চীফ পেট্রন শফিক আলম, তবে তিনি টেলিফোনে একাত্বতা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের সাথে প্রশ্নোত্তরকালে ফোবানা সেন্ট্রাল কমিটির চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী জানান, কনভেনশন সফল করতে বাংলাদেশের প্রথিতযশা শিল্পী, সাহিত্যিক, কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী ও যুক্তরাষ্ট্রের মেধাবী মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি জানান- ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের প্রধান উপদেষ্টা ও ফোবানার ফাউন্ডার চেয়ারম্যান খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী বিশেষ পারিবারিক সমস্যার কারণে আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে উনার সঙ্গে পরামর্শক্রমে এডওয়ার্ড সহ অন্যান্য কর্মসূচী চূড়ান্ত করা হবে। তিনি ৪০তম ফোবানা কনভেনশন সফল করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করে, সকলের উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।














