নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে (২৫ অক্টোবর) “পরিবর্তনের শ্লোগান’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী “কুনু-ফিরোজ’প্যানেলের উদ্যোগে নিউইয়র্ক বসবাসরত বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লাবাসীর পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভা ও নির্বাচনী সমাবেশ হয়েছে। সভায় নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন। সভারবক্তাগণও বিশেষ করে বৃহত্তর কুমিল্লার বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সকল ভেদাভেদ ভুলে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বলেও দাবী করেছেন। এই সভার মধ্য দিয়ে সকল কুমিল্লাবাসী ঐক্যবদ্ধ হবেন বলেও আশাদাদ ব্যক্তকরা হয়।

অপরদিকে সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদকপদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ বলেছেন, আমরা কোন বিভক্তির পক্ষে নই, আমরা সকল বাংলাদেশীকে ঐক্যবদ্ধ করারপক্ষে। বাংলাদেশ সোসাইটিকে শক্তিশালী করার পক্ষে। আমরা প্রতিশ্রæতি দিয়ে প্রতিশ্রæতি রক্ষা করতে চাই। নির্বাচনঘিরে কোন মিথ্যা প্রতিশ্রæতি দিতে চাই। জীবনের শেষ ঠিকানা কবরস্থান নিয়ে লুকোচুরি করতে চাই না। সভায় বক্তারা‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল-কে যোগ্য ও সবার সেরা পরিষদ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
গত ৪ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে ‘কুনু-ফিরোজ’ কুমিল্লাবাসীদের পক্ষ থেকে প্রথম বৃহৎ আকারে মতবিনিময় ও নির্বাচনী সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিপুল সংখ্যক বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী সহ বাংলাদেশীরা উপস্থিতি ছিলেন। সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সভার কার্যক্রম চলে।

বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট জামাল আহমেদ জনির সভাপতিত্বে সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ, বৃহত্তর কুমিল্লার কৃতি সন্তান ও সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাবেক সদস্য এমদাদুল হক কামাল, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, যুগ্ম আহবায়ক ভিপি জহির মোল্লা, আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রধান সমন্বয়কারী বাবুল চৌধুরী, সহ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ নওশেদ হোসেন, কবি শামসুল আলম, জালালাবাদ এসোসিয়েশনঅব আমেরিকা’র সাবেক সভাপতি বদরুন্নাহার খান মিতা, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র বর্তমান সভাপতি মইনুল ইসলাম, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সহ সভাপতি ও রুপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সাবেক সভাপতি মামুন মিয়াজী, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশ নিউ ইয়র্কের সাবেক সভাপতি ওয়াসিম উদ্দিন ভূইয়া, শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন নিউইয়র্ক-এর সভাপতি মোস্তফা রিপন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন, জেএফকে এয়ারপোর্ট এমপ্লয়ী এসোসিয়েশনের সভাপতি মামুন মজুমদার, কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম, কুইন্স নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক হাজী আবু তাহের, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট মিজানুর রহমান মিজান, মঞ্জুরুল আলম হারুন, মোহাম্মদ আলম সরকার, সৈয়দ মোহাম্মদ শওকত, ইয়ার আহমেদ ও বদরুল হক আজাদ।

সভায় আমন্ত্রিত অতিথি সহ ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ সভাপতি পদপ্রার্থী দুলাল বেহেদু, কসবা সোসাইটির উপদেষ্ঠা ও সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ কালাম ভূইয়া, সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা নাদের আইয়ুব, সিলেট সদর সমিতি ইউএস’র সভাপতি সাইফুর খান হারুন, ব্রাক্ষণবাড়িয়াকমিউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাহীন, ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচলনা কমিটির সদস্য সচিব মির্জা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। সভায় প্যানেল নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন এম ও জি রাসেল ভূইয়া। সভাপরিচালনা করেন বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি ইউনুস সরকার ও সিদ্দিক পাটোয়ারী।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা ওয়ালিউল্লাহআতিকুর রহমান। এর আগে ব্যক্তিগত জরুরী কাজের জন্য চলে যেতে হয় বিধায় বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সভাপতি , বিশিষ্ট রাজনীতিক ও মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান মিয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের প্রতিসর্বাত্বক সমর্থন জানান।

এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুইন্স সোসাইটির সভাপতি ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া সোসাইটির সাবেক সভাপতি কাজী তোফায়েল ইসলাম। উল্লেখ্য, সভায় সোসাইটির আগামী নির্বাচনে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতারী বৃহত্তর কুমিল্লার ৬জন প্রার্থীকে সভায় বিশেষভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় এবং তারা এ সকলে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

প্রার্থীরা হলেন- সহ সভাপতিপদপ্রার্থী, বর্তমানে সোসাইটির সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভূইয়া, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ ও পুনরায় একই পদেপ্রার্থী মফিজুল ইসলাম ভূইয়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক বি মেহের চৌধুরী, কার্যকরী পরিষদ পদপ্রার্থী সিদ্দিকপাটোয়ারী, প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল বাছির ও কাওছার আলম।

সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির খান পল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, খুলনা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি ওয়াহিদ কাজী এলিন, কুমিল্লা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি জাকির হোসেন, কসবা সমিতি ইউএসএ’র উপদেষ্টা মোহাম্মদনাসিম, ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহŸায়ক টি মোল্লা সহ রেজাউল করীম, আবুল ভূইয়া স›িদ্বপী, মোস্তফা মামুন মজুমদার, কবীর হোসেন প্রমুখ।

সভায় আজমল হোসেন কুনু তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে বলেন, আগেও বলেছি, এখনো বলছিসোসাইটির নির্বাচন ঘিরে কোন মিথ্যা প্রতিশ্রæতি, আশ্বাস দেবো না। সোসাইটির কোন অর্থ অপচয় করবো না। তবেপ্রয়োজনের জন্য যা করা দরকার তাই করবো। আমরা সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে মিথ্যার রাজনীতি করতে চাই না, বা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। তিনি বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত নামের জন্য সোসাইটির একটি অর্থও ব্যয় করবো না।যেদিন সোসাইটির একাউন্টে ভবন কেনার অর্থ জমা থাকবে সেদিনই ভবন কিনবো। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে আমাদের প্রথম কাজ হবে ফিউনেরাল হোম প্রতিষ্ঠা করা।

ফিরোজ আহমেদ বলেন, আমরা জবাবদিহীমূলক সোসাইটি গড়তে চাই। নিউ ইমিগ্র্যান্টদের চাকরীর সুযোগের পথদেখানো, নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান চালু সহ প্রবাসীদের সমস্যা মোকাবেলায় তিনি কতিপয় কর্মসূচীবাস্তবায়নের প্রতিশ্রæত দেন এবং নতুন প্রজন্মকে সোসাইটীমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাবুল চৌধুরী বলেন, আমাদের শেষ ঠিকানা কবরস্থান নিয়ে সোসাইটিতে ছিনিমি খেলতে দেয়া হবে না। তিনি প্রশ্নরেখে বলেন, যারা দুই বছরের দায়িত্ব পালন করতে পারেনি, তারা আবার তিন বছর সময় বাড়িয়ে কি দায়িত্ব পালনকরবেন? তিনি বলেন, আমরা জবাবদিহিমূলক সবার সোসাইটি চাই। এজন্য ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের বিকল্প নেই।

সভায় আবুল কালাম ভূইয়া, মফিজুল ইসলাম ভূইয়া ও সিদ্দিক পাটোয়ারী বলেন, আমরা বিগত নির্বাচনে‘সেলিম-আলী’ প্যানেল থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু কমিটির কর্মকতাদের অস্বচ্ছতা, স্বজনপ্রীতিআর বুহত্তর চাঁপুরবাসীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে আমরা ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সাখে সম্পৃক্ত হবেনির্বাচন করছি। আজকের সভায় বৃহত্তর চাঁদপুরবাসী যে ঐক্যের দৃষ্টান্ত করেছে তা সোাসাইটি ততঅ কমিউনিটিরইতিহাসে দৃষ্টন্ত হয়ে থাকবে।

জামাল উদ্দিন আহমেদ জনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ৯০ হাজার ডলার কিভাবে ইফতারে খরচ হয়, ২৪ হাজার ডলার ফটোকার্ড, ম্যাগাজিনে খরচ হয়েছে- তার হিসাব দিতে হবে। কবর ক্রয়ের অর্থ কেন ফেরৎ আনা হলো তার ব্যাখ্যা দিতে হবেএবং বিদায়ী কমিটিকে আগের মূল্যেই সোসাইটির কবর ক্রয় করে দিতে হবে। তিনি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজআহমেদ-কে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে এই প্যানেল-কে জয়যুক্ত করার অনুরোধ জানান।

সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামাল আহমেদ জনি। প্যানেলের প্রার্থীর হলেন: সভাপতি- আজমল হোসেন কুনু, সিনিয়র সহ সভাপতি- দুলাল বেহেদু, সহ সভাপতি- আবুল কালাম ভূইয়া, সাধারণসম্পাদক-ফিরোজ আহমেদ, সহ সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ- মফিজুল ইসলাম ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক- মোহাম্মদ জামিল আনসারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচারসম্পাদক- সৈয়দ গৌসুল হোসাইন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক- কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক- মোহাম্মদ এ আখতার, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মোর্শেদ আলম, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়কসম্পাদক- বেগম এম চৌধুরী, যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক- কাজী আর হাসান এবং কার্যকরী সদস্য- সিরাজুদ্দিন হক, মোহম্মদ এ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আবুল বাসার, মাসুদুল হক সানু, মোহাম্মদ কাওসার আলম ও মোহাম্মদ এম ইসলাম। নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য, আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

















