যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় মসজিদের সভাপতি সালাহ সারসুরকে আটক করেছেন দেশটির ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
৫৩ বছর বয়সী সালাহ সারসুর ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা বলে জানিয়েছে ইসলামিক সোসাইটি অব মিলওয়াকি। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সারসুর মিলওয়াকি শহরের তাঁর নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর, প্রায় এক ডজন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই বা আইস) কর্মকর্তার একটি দল তাঁকে আটক করে।
বৃহস্পতিবার সারসুরের সমর্থকরা দ্রুত তাঁর মুক্তির দাবি জানান। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের “বিদেশনীতি-সংক্রান্ত হুমকি” হিসেবে দেখিয়ে তাকে আটক করা হয়েছে—যা তাদের মতে ভিত্তিহীন।
আইনজীবীদের দাবি, ইসরায়েলের সমালোচনা এবং কিশোর বয়সে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে হওয়া একটি মামলার কারণে তাকে টার্গেট করা হয়েছে। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর দিকে পাথর নিক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে জানান আইনজীবী মুনজেদ আহমদ।
ইসরায়েলের সামরিক আদালতে গ্রেপ্তার ফিলিস্তিনিদের বিচার হয়, যেখানে তাঁদেরকে দ্রুত দণ্ডিত করার রেকর্ড রয়েছে ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির। বিচার চলাকালে আইনি লড়াইয়ের সুযোগও তেমন পান না ফিলিস্তিনিরা। যদিও ইসরায়েল বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
তবে আইস এজেন্টদের হাতে সারসুর আটক হওয়ার পর—নতুন করে এসব তথ্য সামনে আসছে।
তাঁর আইনজীবী মুনজেদ আহমদ বলেন, “আমাদের সরকারের কোনো বিদেশি সরকারের স্বার্থে কাজ করা উচিত নয়। আমার কাছে স্পষ্ট, ফিলিস্তিনি বয়ানকে দমিয়ে দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
আইনজীবীরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে সারসুরের কোনো অপরাধের রেকর্ড-ও নেই।
এই ঘটনাকে তারা মাহমুদ খলিলের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেছেন, যিনি কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কর্মী এবং ‘বিদেশনীতি-সংক্রান্ত হুমকি’ অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মুখে রয়েছেন।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং আইসের কাছে ইমেইল পাঠায় দ্য গার্ডিয়ান। কিন্তু, এর তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
গত পাঁচ বছর ধরে সারসুর ইসলামিক সোসাইটি অব মিলওয়াকির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার আইনজীবীরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডধারী এবং মিলওয়াকিতে বসবাস করছেন। তার স্ত্রী ও চার প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
এই আটকের ঘটনায় মিলওয়াকির মেয়র ক্যাভেলিয়ার জনসন-সহ শীর্ষ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ক্যাভেলিয়ার এ ঘটনাকে “চরম অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। সংবাদ সুত্র দ্য গার্ডিয়ান














