


Screenshot
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা পরোক্ষভাবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি বর্ণবাদী ভিডিওর বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক পডকাস্ট সঞ্চালকের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের একসময় যে ‘লজ্জা’ এবং ‘শিষ্টাচার’ বোধ ছিল, তা এখন হারিয়ে গেছে।
গত ৭ ফেব্রুয়ারী আপত্তিকর ওই ভিডিওর একটি অংশে ওবামা ও তার স্ত্রী মিশেল ওবামাকে বানরের রূপে দেখানো হয়েছে। ভিডিওটি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের নেতাদের কাছ থেকেই ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে।
হোয়াইট হাউস শুরুতে ভিডিওটির পক্ষে সাফাই গেয়েছিল এবং এই সমালোচনাকে ‘ভুয়া ক্ষোভ’ বলে অভিহিত করেছিল। পরবর্তীতে এই পোস্টের জন্য একজন কর্মীকে দায়ী করা হয় এবং ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়।
লিবারেল পডকাস্টার ব্রায়ান টাইলার কোহেনের সঙ্গে ৪৭ মিনিটের এক পডকাস্টে কথা বলেন ওবামা। রাজনৈতিক আলোচনার ধরণ সম্পর্কে জানতে চান। কোহেন সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি বিতর্কের মধ্যে ট্রাম্পের এই পোস্টটির কথা উল্লেখ করেন।
‘দ্য লায়ন স্লিপস টুনাইট’ গানের সুর দেওয়া ওই ক্লিপটি ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা একটি ভিডিওর শেষ অংশে যুক্ত ছিল। ওই মূল ভিডিওটিতে ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটার জালিয়াতি সম্পর্কে ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছিল।
এই পোস্টটি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জ্যেষ্ঠ সদস্যদেরসহ বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। রিপাবলিকান পার্টির একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ সিনেটর টিম স্কট এটিকে ‘এই হোয়াইট হাউস থেকে দেখা সবচেয়ে বর্ণবাদী বিষয়’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ক্লিপটি কৃষ্ণাঙ্গ মানুষকে বানরের সাথে তুলনা করার বর্ণবাদী ব্যঙ্গচিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয় এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি গত অক্টোবরে কনজারভেটিভ মিম ক্রিয়েটর ‘জেরিয়াস’ কর্তৃক শেয়ার করা একটি এক্স পোস্ট থেকে নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ভিডিওর সেই অংশটি ‘দেখেননি’ যেখানে ওবামাদের দেখানো হয়েছে। তিনি ক্ষমা চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কোনো ভুল করিনি।’
শনিবার প্রকাশিত ৪৭ মিনিটের পডকাস্টটির শুরুতেই সঞ্চালক যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিসকোর্স’ বা রাজনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে মন্তব্য করতে বলেন। জবাবে ওবামা বলেন, এটি এমন এক নিষ্ঠুরতার স্তরে নেমে গেছে, যা আগে দেখা যায়নি।
কোহেন উল্লেখ করেন, হোয়াইট হাউস অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর ‘ভুক্তভোগীদের’ ‘দেশীয় সন্ত্রাসী’ বলে দাবি করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘মাত্র কয়েক দিন আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প আপনার মুখ একটি বানরের শরীরে বসিয়ে একটি ছবি পোস্ট করেছেন।’
ওবামা জবাবে বলেন, ‘এটা স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ যে আমেরিকার অধিকাংশ মানুষ এ ধরনের আচরণকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ‘এটা সত্য যে এসব বিষয় মনোযোগ আকর্ষণ করে। এটাও সত্য যে এগুলো মূল বিষয় থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়।’
তবে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভ্রমণের সময় তিনি এমন সব মানুষের দেখা পেয়েছেন যারা ‘এখনও শালীনতা, সৌজন্য এবং দয়াশীলতায় বিশ্বাস করে’।
তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনে এক ধরনের ভাঁড়ামি চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, যারা এক সময় মনে করতেন যে পদের প্রতি সম্মান, শিষ্টাচার এবং সৌজন্যবোধ থাকা প্রয়োজন, তাদের মধ্যে এখন আর এসব নিয়ে কোনো লজ্জা কাজ করে বলে মনে হয় না, তাই না? সেই বোধটা হারিয়ে গেছে।’ তার উত্তরে তিনি ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি।
সাক্ষাৎকারের সময় ওবামা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। তিনি অভিবাসন বিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠিত হওয়া প্রতিবাদকারীদের প্রশংসা করেন, নির্বাচনী এলাকার পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করেন এবং তার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি সম্পর্কে কথা বলেন, যা আগামী বছর শিকাগোতে খোলার কথা রয়েছে।













