৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির একটি ডলারও অপচয় হয়নি বরং বর্তমান কমিটি বিদায়ের সময় তহবিলে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার গচ্ছিত থাকবে – সংবাদ সম্মেলনে কার্যকরী পরিষদ

নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির একটি ডলারও অপচয় হয়নি বরং বর্তমান কমিটি বিদায়ের সময় তহবিলে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার গচ্ছিত থাকবে – সংবাদ সম্মেলনে কার্যকরী পরিষদ

নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির একটি ডলারও অপচয় হয়নি বরং বর্তমান কমিটি বিদায়ের সময় তহবিলে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার গচ্ছিত থাকবে বলে সংবাদ সম্মেলনে আশ্বস্ত করেছেন কার্যকরী পরিষদের বতর্মান নেতৃত্ব। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রি-বার্ষিক (২০২৭-২০২৯) নির্বাচন।

নির্বাচনেী প্রচারণায় বিদায়ী কমিটির কার্যক্রম এবং সংগঠনের আয়-ব‍্যয় তথা অর্থের হিসাব ঘিরে কেউ কেউ নানা অভিযোগ তুলেছেন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্বচ্ছতার স্বার্থে সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান কার্যকরী পরিষদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সকল অভিযোগের জবাব দিয়ে বলেছেন- বর্তমান কার্যকরী কমিটি সোসাইটিরএকটি ডলারও অপচয় করেনি বরং এই কমিটির বিদায়ের সময়সংগঠনের ফান্ডে প্রায় এক মিলিয়ন ডলার বা তারও বেশী অর্থ ব্যাংকেগচ্ছিত রেখে যাবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ সহ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের কয়েকজন সদস্য, কার্যকরী কমিটির অধিকাংশ সদস্য। বর্তমান কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি সহ কার্যকরী কমিটির কয়েকজন সদস্য সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির ভবনক্রয় সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান জনাব শাহ নেওয়াজ বলেন, সোসাইটির জন‍্য উপযুক্ত হবেনা – এমন বিবেচনায় প্রাথমিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরও ভবনটি ক্রয় করা হয়নি এবং বায়না হিসেবে দেওয়া সম্পূর্ণ অর্থ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, বায়না দেওয়ার জন‍্য তিনি যে ১ লক্ষ ২৫ হাজার ডলার সোসাইটিকে প্রদান করেছেন, তা ঋণ নয়, অনুদান। এ অর্থ তিনি কখনো ফেরত নেবেন না এবং ভবিষ্যতে সোসাইটির ভবন ক্রয়ের জন‍্য আলাদা একাউন্টে রাখা হবে। ভবিষ্যতে যারাই নির্বাচিত হয়ে সোসাইটির দায়িত্ব নেবেন, তাদেরই তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন, প্রয়োজনে ২ মিলিয়ন ডলারও দেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে কার্যকরী কমিটির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী কতৃক পঠিত বক্তব্যের শুরুতে বলা হয়: ‘আমরা কোনো কাদাছোড়াছুড়ি বা ব্যক্তিগত বিতর্কে যেতে চাই না। আমরা হিসাব, নথি ওপ্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলতে চাই। যারা এই অভিযোগ করছেন, তাদেরপ্রতি আমাদের স্পষ্ট আহ্বান বর্তমান কার্যকরী পরিষদ ৭ লাখ ২৫ হাজারডলার খরচ বা আত্মসাৎ করেছে, এর পক্ষে ন্যূনতম কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ থাকলে তা সোসাইটির সদস্যদের সামনে প্রকাশ করুন’।

নিউ ইয়র্ক সিটির এলমহার্স্ট এলাকায় বাংলাদেশ সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দীর্ঘ লিখিত বক্তব্যে গত প্রায় দুই বছরে সোসাইটির বিভিন্ন কার্যক্রম ও আয়-ব‍্যয় তথা অর্থের হিসাবের বিস্তারিত তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। এরপর সোসাইটির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

জনাকীর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে সোসাইটির বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের সদস্য আজিমুর রহমান বুরহান, আব্দুর রহীম হাওলাদার, মোহাম্মদ আতরাউল আলম, আহসান হাবীব, জুনেদ চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার ও নাঈমটুটুল সহ কর্মকর্তাদের মধ্যে সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান কামরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খান, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান (জিলানী), কার্যকরি সদস্য জাহাঙ্গীর সোহরাওয়ার্দি , হাছান খান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলী তার ৮ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যেরশুরুতে বাংলাদেশ সোসাইটির ভালো সময়ে এবং বিভিন্ন কঠিন সময়েপাশে থাকা এবং আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও পাশে থাকার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আজ আমাদের এইসংবাদ সম্মেলন আহ্বান করতে হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বিভিন্ন জনসমাগমে সোসাইটির কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশ সোসাইটি বর্তমান কার্যকরী পরিষদ এবং এর কর্মকর্তানিয়ে বেশ কিছু মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত বক্তব্য দিয়ে আসছেন । এসব বক্তব্য আমাদের ব্যথিত করেছে এবং কমিউনিটির মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তাই আজ আমরা কোনো পাল্টাঅভিযোগ বা ব্যক্তিগত আক্রমণের জন্য নয়, বরং উত্থাপিত বিষয়গুলোর প্রকৃত তথ্য ও বাস্তবতা আপনাদের মাধ্যমে কমিউনিটির সামনে তুলে ধরতে উপস্থিত হয়েছি।

মোহাম্মদ আলী বলেন, নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটি ৫১ বছরের একটিপ্রতিষ্ঠান। বর্তমান কার্যকরী পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সোসাইটির কার্যক্রম হবে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সদস্যদের জন্য সহজলভ্য। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে সেই দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ১৬ ডিসেম্বর২০২৪-এর অভিষেক অনুষ্ঠানে বিদায়ী কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্যে জানানো হয়েছিল যে, সোসাইটির অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ডলার রেখে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাংকহিসাব ও আর্থিক দায়দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর আমরা দেখতে পাই, অ্যাকাউন্টে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ লক্ষ ৩৫ হাজার৬৭৩.৮৯ ডলার। এছাড়াও অভিষেক অনুষ্ঠানসহ পূর্ববর্তী কমিটির দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সেবা ও অন্যান্য খাতে প্রায় ২০ হাজার ডলারের বকেয়া দায়ও আমাদের পরিশোধ করতে হয়েছে। অর্থাৎ, সবদায় সমন্বয় করলে কার্যত মাত্র ১ লক্ষ ১৬ হাজার ডলারের নিট আর্থিক অবস্থার নিয়ে আমরা বাংলাদেশ সোসাইটির দায়িত্ব গ্রহণ করি।

তিনি বলেন, আমরা কার্যত মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার ডলার নিয়ে যাত্রাশুরু করেছিলাম । কিন্তু এই সময়ে অর্থ সঞ্চয় করতে গিয়ে আমরা সোসাইটির কার্যক্রম থামিয়ে রাখিনি গত ২০ মাসে বরং অত্যন্ত জমকালো আয়োজনে বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করেছি, পবিত্র রমজানে নিউইয়র্ক সিটির বাঙালি অধ্যুষিত চারটি এলাকায় মোট ৮টি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন সেমিনার, এনআইডি কার্ড সংক্রান্ত সেমিনারসহ বিভিন্নসামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছি। সোসাইটির কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে, তাঁর পরিবারের এই কঠিন সময়ে আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি। প্রয়োজন অনুযায়ী ফিউনারেল সহায়তা, সোসাইটির নিজস্ব কবরের ব্যবস্থা অথবা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি। এতসব কর্মসূচি, অনুষ্ঠান, সহযোগিতা ওজনকল্যাণমূলক ব্যয় করার পরও গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশ সোসাইটির অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ প্রায় এক মিলিয়ন ডলার (৯ লাখ ১৯ হাজার ডলার)। রেকর্ড অনুযায়ী, বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছরের ইতিহাসে এ পরিমাণ অর্থ সোসাইটির একাউন্টে গচ্ছিত থাকার নজির নেই।

কমিউনিটির দায়িত্বশীল কারো কারো ‘৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার ব্যয়ের অভিযোগ ’ সম্পর্কে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বিভিন্ন বক্তব্যে বলা হচ্ছে, বর্তমান কার্যকরী পরিষদ নাকি বাংলাদেশ সোসাইটির ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার খরচকরেছে, এমনকি ‘হরিলুট’ করেছে। অত্যন্ত গুরুতর এই আর্থিক অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা কোনো কাদা ছোড়াছুড়ি বাব্যক্তিগত বিতর্কে যেতে চাই না। আমরা হিসাব, নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতেকথা বলতে চাই। যারা এই অভিযোগ করছেন, তাদের প্রতি আমাদেরস্পষ্ট আহ্বান বর্তমান কার্যকরী পরিষদ ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার খরচ বাআত্মসাৎ করেছে, এর পক্ষে ন্যূনতম কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ থাকলেতা সোসাইটির সদস্যদের সামনে প্রকাশ করুন। আমরা সেই প্রমাণকেস্বাগত জানাব এবং প্রকাশ্যেই তার জবাব দেব। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া এতবড় আর্থিক অভিযোগ বারবার প্রচার করা কোনোভাবেই দায়িত্বশীলআচরণ হতে পারে না।

তিনি বলেন, সোসাইটির ৫০ বছর পূর্তির বড় আয়োজন, গত দুই বছরেবাঙালী অধ্যুষিত চারটি এলাকায় ৮টি ইফতার মাহফিল, দুটি একুশেফেব্রুয়ারীর অনুষ্ঠান, দুই দুইটি বাংলা স্কুল পরিচালনা খরচ এবং আরওবহু সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি আমরাপরিচালনা করেছি। একই সময়ে অফিস পরিচালনা ও

সোসাইটির নিয়মিত কার্যক্রমও অব্যাহত ছিল। জানুয়ারী ২০২৫ থেকেআগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত আমাদের হিসাব অনুযায়ী, সোসাইটির নিয়মিতঅপারেটিং ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার ৪৭ ডলার এবং বিভিন্নঅনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ৪১৮ ডলার।অর্থাৎ সব মিলিয়ে ব্যয়ের হিসাব ৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৬৫ ডলার, ৭ লাখ২৫ হাজার ডলার নয়। অথচ ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার ‘হরিলুটের’ যেঅভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে, তার সঙ্গে বাস্তব হিসাবের মিল কোথায়?

বাংলাদেশ সেন্টার ক্রয় সম্পর্কে তিনি বলেন, এনিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান কার্যকরী পরিষদের অন্যতম প্রধাননির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গবাংলাদেশ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা। আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, পূর্ববর্তী দায়দেনা সমন্বয়ের পর আমাদের কার্যকর আর্থিক অবস্থান ছিলমাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার ডলার। আমাদের বিশ্বাস ছিল সৎ উদ্দেশ্য, সঠিক পরিকল্পনা এবং কমিউনিটির সহযোগিতা থাকলে এই স্বপ্নবাস্তবায়ন সম্ভব। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর জ্যামাইকা এলাকায় একটিভবন আমাদের পছন্দ হয়। অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কমিউনিটিরসুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পরকার্যকরী পরিষদ ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের আলোচনায় ক্রয় প্রক্রিয়াএগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আমাদের অ্যাটর্নির মাধ্যমে ৩১ অক্টোবর২০২৫ শর্তসাপেক্ষ ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। সোসাইটির পক্ষ থেকে ২লাখ ডলার ডিপোজিট প্রদান করা হয়, যার মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজারডলার বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ ব্যক্তিগতভাবেঅনুদান হিসেবে প্রদান করেন। চুক্তিটি ছিল শর্তসাপেক্ষ। ভবনটিতেকিছু ভায়োলেশন ও অন্যান্য অসঙ্গতি ছিল এবং সেগুলো সমাধানেরশর্তেই আমরা এগিয়েছিলাম। পরবর্তীতে বিক্রেতা পক্ষ নির্ধারিত শর্তপূরণ করতে না পারায় সোসাইটির বৃহত্তর স্বার্থে আমরা চুক্তি বাতিলকরি এবং সম্পূর্ণ ২ লাখ ডলার ডিপোজিট ফেরত নিয়ে আসি। তিনিবলেন, আমরা কখনো বলিনি, ‘ভবন কিনে ফেলেছি।’ আমরাবলেছিলাম ‘প্রথম ধাপ সম্পন্ন করেছি’ কারণ শর্তসাপেক্ষ চুক্তি স্বাক্ষরএবং ২ লাখ ডলার ডিপোজিট প্রদানের মাধ্যমে বাস্তবেই ক্রয় প্রক্রিয়াশুরু হয়েছিল। আমাদের অনুরোধ একটাই অভিযোগের আগে তথ্যযাচাই করুন। বাংলাদেশ সেন্টার কোনো ব্যক্তি বা একটি পরিষদের স্বপ্ননয়; এটি আমাদের পুরো কমিউনিটির এবং আগামী প্রজন্মের জন্যএকটি স্থায়ী ঠিকানা গড়ার স্বপ্ন।

সোসাইটির ভবনের ভায়োলেশন ও জরিমানা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্যসম্পর্কে তিনি বলেন, অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই এইভায়োলেশনগুলো বর্তমান কার্যকরী পরিষদের সময়ে সৃষ্টি হয়নি এবংএর বিপরীতে আরোপিত জরিমানাও আমাদের মেয়াদকালের নয়।আমরা দায়িত্ব গ্রহণের সময় এগুলো পূর্ববর্তী সময় থেকেউত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি। এ সংক্রান্ত তথ্য নিউইয়র্ক সিটির সংশ্লিষ্টদপ্তরের পাবলিক রেকর্ডে রয়েছে; যে কেউ চাইলে তা যাচাই করতেপারেন। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেখতে পাই, সোসাইটির ভবনেরওপর পূর্ববর্তী সময়ের বিভিন্ন ভায়োলেশন বাবদ প্রায় ৮২ হাজারডলারের মত জরিমানা রয়েছে। বছরের পর বছর এক কমিটি থেকেআরেক কমিটির কাছে বিষয়টি চলে এসেছে, কিন্তু এর স্থায়ী সমাধানহয়নি। তিনি বলেন, আমরা চাইলে দায়িত্ব নিয়েই সোসাইটির অর্থ থেকেপুরো জরিমানা পরিশোধ করে বিষয়টি শেষ করে দিতে পারতাম। কিন্তুআমরা মনে করেছি, সেটি সোসাইটির অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার হবে না।যে অর্থ সোসাইটির সদস্যদের, সেই অর্থ থেকে এক ডলার খরচ করারআগেও আমাদের দেখতে হবে আইনসম্মতভাবে সেই ব্যয় কমানোর বাএড়ানোর কোনো সুযোগ আছে কি না। এই দায়িত্ববোধ থেকেই আমরাদায়িত্ব গ্রহণের পর একটি পেশাদার ফার্মকে নিয়োগ দিয়েছি। যেহেতুবাংলাদেশ সোসাইটি একটি নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠান, তাই আইনগতভাবেজরিমানা কমানো, সমন্বয় করা কিংবা সম্ভব হলে সম্পূর্ণ মওকুফেরকোনো সুযোগ রয়েছে কি না সেই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এ ধরনেরপ্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ, এবং কাজটি এখনো চলমান। তিনি আরোবলেন, আমাদের প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে প্রায় ৮২ হাজার ডলারেরজরিমানার পরিমাণ কমিয়ে প্রায় ৩১ হাজার ডলারে নিয়ে আসা হয়েছে।

বার্ষিক ইফতার মাহফিলের ব্যয় নিয়ে তোলা অভিযোগ-কে ‘ভুল ব্যাখ্য ওবিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আলী বলেন, সোসাইটিরবার্ষিক ইফতার মাহফিল নতুন কোনো আয়োজন নয়। যুগ যুগ ধরে এটিসোসাইটির একটি নিয়মিত ও অত্যন্ত সংবেদনশীল ধর্মীয়-সামাজিকআয়োজন। তবে অতীতে এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অনুষ্ঠিতহতো। সময়ের সঙ্গে বাস্তবতা বদলেছে। আজ নিউইয়র্কের বিভিন্নএলাকায় বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীর বসবাস। সেই বাস্তবতাকেসামনে রেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সোসাইটি যদি সবার হয়, তাহলে সোসাইটির আয়োজনও সবার দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে। এটিআমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও একটি অংশ ছিল। তাই একটিএলাকায় একটি বড় অনুষ্ঠান করে নির্দিষ্টসংখ্যক মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধনা রেখে, বাঙালী অধ্যুষিত চারটি এলাকায় ইফতার মাহফিল নিয়েগিয়েছি। গত দুই বছরে আমরা মোট ৮টি ইফতার মাহফিল আয়োজনকরেছি, যাতে সাধারণ সদস্য, পরিবার, শিশু-কিশোর, নতুন প্রজন্মসহকমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষ সহজে অংশ নিতে পারেন।

তিনি বলেন, অভিযোগে বলা হচ্ছে, বর্তমান কার্যকরী পরিষদ ইফতারমাহফিলে প্রায় ৮৯,০০০ হাজান ডলার খরচ করেছে। সংখ্যাটি মোট ব্যয়হিসেবে ঠিক, কিন্তু যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেখানে পুরো চিত্রটিবলা হচ্ছে না। এই ৮৯,০০০ হাজার ডলার একটি ইফতার মাহফিলেরখরচ নয়; এটি দুই বছরে চারটি এলাকায় অনুষ্ঠিত মোট ৮টি ইফতারমাহফিলের সম্মিলিত ব্যয়। এই মোট ব্যয়ের মধ্যে ৪২ হাজার ৫৭০ডলারের বেশি এসেছে স্পন্সর ও শুভাকাঙ্খীদের সহযোগিতা থেকে। এরএকটি উল্লেখযোগ্য অংশ দিয়েছেন আমাদের বোর্ড অব ট্রাস্টি এবংকার্যকরী পরিষদেও কর্মকর্তরা। অর্থাৎ সোসাইটির নিজস্ব ফান্ড থেকে৮টি অনুষ্ঠানের জন্য ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৪৬ হাজার ৪৩০ ডলার, গড়ে প্রতিটি ইফতার মাহফিলে মাত্র ৫,৮০৩.৭৫ ডলার।

সোসাইটির কর্মকর্তাদের নামে ইস্যুকৃত চেক সম্পর্কে সাধারণ সম্পাদকমোহাম্মদ আলী বলেন, এনিয়ে সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করাহচ্ছে। সোসাইটির কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক সময় এমনকিছু জরুরি খরচ আসে, যেখানে নগদ অর্থে পেমেন্ট করতে হয়। অথচসোসাইটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ইচ্ছামতো নগদ অর্থ উত্তোলন করেখরচ করার প্রচলিত ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রয়োজনে সভাপতি, সিনিয়রসহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ কিংবা অন্যকোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিজের পকেট থেকে সোসাইটির অনুমোদিতখরচটি পরিশোধ করেন। পরে সেই খরচের যথাযথ রসিদ বা ভাউচারজমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করা হয় এবং ব্যয়টি সঠিক প্রমাণিতহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তার নিজের খরচ করা অর্থ ফেরত দেওয়ারজন্য তার নামে চেক ইস্যু করা হয়।

বার্ষিক সাধারণ সভা, হিসাব ও অডিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশসোসাইটি কোনো ব্যক্তির ইচ্ছায় পরিচালিত হয় না; এটি পরিচালিত হয়এর গঠনতন্ত্র ও বিধি অনুযায়ী। বর্তমান কার্যকরী পরিষদ সেই নিয়মমেনেই দায়িত্ব পালন করছে এবং মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত সেভাবেইপরিচালনা করবে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত ডিসেম্বর মাসে আমরাবার্ষিক সাধারণ সভা করেছি। সেখানে সিপিএ রিপোর্টসহ সোসাইটিরআয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ফিউনারেল সার্ভিস ও কবরের অর্থ নিয়ে বিভ্রান্তি’র অভিযোগ সম্পর্কেমোহাম্মদ আলী বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে শুনছি, বলা হচ্ছে বর্তমানকার্যকরী পরিষদ নাকি কবর বা ফিউনারেল সার্ভিসের অর্থ শেষ করেফেলেছে কিংবা সেই অর্থের কোনো হিসাব নেই। আমরা অত্যন্ত দায়িত্বেরসঙ্গে পরিষ্কার করে বলতে চাই এটি সঠিক নয়। একটি ডলারও হারিয়েযায়নি। অর্থের হিসাব আছে এবং অর্থ তার নির্ধারিত জায়গায় রয়েছে।বরং স্বচ্ছতা আরও নিশ্চিত করতে ফিউনারেল ও কবর সংক্রান্ত অর্থেরজন্য সম্পূর্ণ পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবংকার্যকরী পরিষদে এ বিষয়ে রেজুলেশনও গৃহীত হয়েছে। এই খাতের অর্থএই ফান্ডেই থাকবে এবং ফিউনারেল ও কবরের প্রয়োজনেই ব্যবহৃত হবে।

কবর ক্রয়সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ১৬ ডিসেম্বর২০২৪ শপথ গ্রহণ করি এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১ জানুয়ারী ২০২৫থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করি। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পরব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়ে জানতে পারি, আমাদের শপথগ্রহণের দিনই বিদায়ী কার্যকরী পরিষদের সময় একটি প্রতিষ্ঠানের কাছথেকে কবর ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার প্রদান করাহয়েছিল। সেই অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়ায় গঠনতান্ত্রিক প্রশ্ন দেখা দেওয়ায়কার্যকরী পরিষদ ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটিগঠন করা হয়। আমাদের আহ্বানে বিদায়ী পরিষদের তৎকালীনসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায়তাঁদের প্রক্রিয়াগত এবং সাংবিধানিক ভুলটি বুঝতে পারেন এবং অর্থফেরত আনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। পরবর্তীতেবর্তমান কার্যকরী পরিষদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গেদফায় দফায় আলোচনা করে। আলোচনার পর তারা সম্পূর্ণ ২ লাখ ৪০হাজার ডলার কয়েকটি কিস্তিতে বাংলাদেশ সোসাইটিকে ফেরত দেওয়ারবিষয়ে সম্মত হন। তাঁদের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য আমরাকৃতজ্ঞ।

অন্যান্য অভিযোগ সম্পর্কে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের বিরুদ্ধেআরও কিছু অভিযোগ, অপবাদ, ভুল ব্যাখ্যা এবং অর্ধসত্য তথ্যবিভিন্নভাবে প্রচার করা হচ্ছে। আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর সেইপ্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। আমাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, অধিকাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে; কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখনোচলমান রয়েছে। বর্তমান কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, এবং মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ারসর্বোচ্চ চেষ্টা আমরা করে যাব।

লিখিত বক্তব্যেও সবশেষে মোহাম্মদ আলী কমিউনিটির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আসুন, বিভ্রান্তি নয় সত্যকে সামনে রাখি। বিভাজন নয় ঐক্যকে শক্তিশালী করি। ব্যক্তির ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠানকে রাখি, আর আগামী প্রজন্মের জন্য সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশসোসাইটি গড়ে তুলি’। সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে আতাউর রহমান সেলিম বলেন, আমরা গঠনতন্ত্র মেনেই সোসাইটি পরিচালনা করছি। একটি ডলারওতছরুপ হচ্ছে না, হবেও না। সকল আয়-বয়ের হিসাব রয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে শাহ নেওয়াজ বলেন, সোসাইটির আগামীনির্বাচনের পর যে বা যারাই বিজয় হন না কেনো আমি তাদেওসহযোগিতা করবো এবং বাংলাদেশ সেন্টার প্রতিষ্ঠা হবেই ইনশাল্লাহ। সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সহ কয়েকজন কর্মকর্তার সংবাদ সম্মেলনেঅনুপস্থিত থাকা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ আলী বলেন, আমরা সবাইকেজানিয়েছি। কে বা কারা কেনো আসলো না এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।

সোসাইটি বা কর্মকর্তাদের সম্পর্কে মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেআইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সোসাইটিরকর্তকর্তা বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটি সবার। আমরা সবাই মিলেসোসাইটিকে শক্তিশালী করতে চাই। চাই সত্য প্রকাশ হোক, সবাইসত্যটা জানুক। সবার কাছে তাই আশা করি।

সাংবাদিক সম্মেলন প্রসঙ্গে বর্তমান কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার বক্তব্য
কার্যকরী কমিটি আহুত সাংবাদিক সম্মেলনে অনুপস্থিত বর্তমান কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি এক বিবৃতিতে বলেছেন, সদস্যরা যদি বাংলাদেশ সোসাইটির অভ্যন্তরীণ অডিট (Internal Audit) দাবি করেন, তাহলে সেটি সোসাইটির জন্য কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বরং 501(c)(3) হিসেবে ফেডারেল ও স্টেট ট্যাক্স-ছাড় পাওয়া একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের হিসাবের স্বচ্ছতা দাবি করা, প্রশ্ন করা এবং অভ্যন্তরীণ অডিট চাওয়ার অধিকার রয়েছে।

২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউইয়র্কের নির্বাহী কমিটির আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে যে বিরোধ চলছে, সেখানে মূল বিষয় হচ্ছে—শুধু মোট আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখানো হবে, নাকি কোন অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় খরচ হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাবও দেখানো হবে।

কেন সদস্যরা Internal Audit চাইছেন?

একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে একজন Certified Public Accountant (CPA)-এর রিপোর্ট থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু এই রিপোর্ট সাধারণত মোট আয়, মোট সম্পদ এবং বিভিন্ন খাতে মোট কত অর্থ খরচ হয়েছে—এসবের একটি সামগ্রিক চিত্র দেয়।

এতে সাধারণত: প্রতিটি লেনদেনের বিস্তারিত তালিকা থাকে না। অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কত অর্থ দিয়েছে, কাকে কত অর্থ দেওয়া হয়েছে, কোন অনুষ্ঠানে ঠিক কত অর্থ খরচ হয়েছে—এসব প্রতিটি লেনদেন আলাদাভাবে দেখা যায় না। বর্তমানে সদস্যরা Internal Audit চাইছে, কারণ গত ২০ মাসের বর্তমান কমিটির খরচ নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।সদস্যরা মূলত: জানতে চাইছেন—বড় বড় অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন খাতে ঠিক কে অর্থ দিয়েছে এবং সেই অর্থ কোথায় ও কাকে দেওয়া হয়েছে।

যেসব হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

বর্তমান কমিটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কমিউনিটির কিছু সদস্যের মধ্যে যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ রয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি বিষয় হলো:আর্থিক অসঙ্গতি নিয়ে বিতর্ক: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী এবং সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের জবাব দেন এবং অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেন।

LED স্ক্রিনে বিস্তারিত হিসাব দেখানোর বিষয়: সংবাদ সম্মেলনে প্রতিটি লেনদেনের বিস্তারিত হিসাব LED স্ক্রিনে দেখানোর যে দাবি করা হয়েছিল মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি পক্ষ থেকে সেটি গ্রহণ না করায় সমালোচকেরা বলেন যে সাধারণ সদস্যদের সামনে লেনদেনগুলো একে একে যাচাই করার সুযোগ হয়নি।

$240,000 নিয়ে প্রশ্ন: বর্তমান নেতৃত্ব আগের কমিটি থেকে পাওয়া $135,000 এর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছে। কিন্তু সমালোচক ও অভ্যন্তরীণভাবে অভিযোগকারীদের দাবি, বাংলাদেশ সোসাইটির “Bangladesh Cemetery” প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত আরও $240,000 ফেরত পাওয়া অর্থের বিষয়টি যথেষ্টভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অর্থও যদি সোসাইটির হাতে এসে থাকে, তাহলে মোট কত ডলার কমিটির কাছে ছিল তা বোঝার জন্য বক্তব্যর মাধ্যমে বলা এবং দেখানো উচিত।

Treasurer-এর দায়িত্ব কী?

অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের Treasurer (কোষাধ্যক্ষ)-এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো—প্রতিটি চেক বা অর্থপ্রদানের যথাযথ কাগজপত্র থাকা, সেটি অনুমোদিত হওয়া এবং প্রয়োজন হলে তার হিসাব যাচাই করা যায়—এটি নিশ্চিত করা। প্রত্যেকটি লেনদেন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক কমিটির এর মাধ্যমে অনুমোদন করা হয়েছে।

তাই কোনো সদস্য যদি বিস্তারিত হিসাব দেখতে চান বা Internal Audit দাবি করেন, সেটিকে স্বাভাবিকভাবেই স্বচ্ছতার একটি দাবি হিসেবে দেখা যেতে পারে। বর্তমান নির্বাচনকে ঘিরে অডিটের দাবি নিয়ে নির্বাচনী বিতর্ক তৈরি হয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। বর্তমান নেতৃত্ব তাদের আর্থিক হিসাব পরিষ্কার ও সঠিক বলে সদস্যদের কাছে তুলে ধরতে চাইছে। অন্যদিকে, সমালোচকেরা বলছেন, সদস্যদের বিস্তারিত হিসাব দেখার সুযোগ থাকা উচিত।

একটি সুস্থ অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সঠিক হিসাব রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হলে সদস্যদের কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হয় এবং অপ্রয়োজনীয় সন্দেহও কমতে পারে।

সহজ কথায় মূল কথা হলো

সদস্যরা Internal Audit চাইলে সেটি নিজেই কোনো সমস্যা নয়। বরং তারা জানতে চাইছেন, সোসাইটির অর্থ কোথা থেকে এসেছে এবং কোথায় খরচ হয়েছে। শুধু মোট আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, প্রয়োজন হলে বড় বড় লেনদেনের বিস্তারিত তথ্যও সদস্যদের সামনে তুলে ধরা—এটাই স্বচ্ছতার মূল উদ্দেশ্য। আমি মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি যতদিন কোষাধ্যক্ষ থাকব হিসাব কে স্বচ্ছ কাঁচের ন্যায় তুলে ধরব যাতে মানুষ দেখতে পারেন ইনশাআল্লাহ।