২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

গ্রিন কার্ড ধারীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার নাকচ করতে সুস্পষ্ট প্রমাণের প্রয়োজন নেই – সুপ্রিম কোর্টের রায়

গ্রিন কার্ড ধারীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার নাকচ করতে সুস্পষ্ট প্রমাণের প্রয়োজন নেই – সুপ্রিম কোর্টের রায়

যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে যে, কোনো গ্রিন কার্ডধারীকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য আবেদনকারী হিসেবে গণ্য করার আগে অভিবাসন আইনের অধীনে সরকারকে এমন কোনো স্পষ্ট ও জোরালো প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে না যে তিনি কোনো অপরাধ করেছেন।

মামলাটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসকারী এক অভিবাসীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত, যার বিরুদ্ধে নকল পণ্য বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এই মামলায় আপীল কোর্টের রায় ‘কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন’, ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ এবং অভিবাসন আদালতগুলোর কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখত।

বিচারকদের ৬-৩ ভোটে দেওয়া এই রায়ে—যেখানে আদালতের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস মতামত লিখে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ইউ.এস. সেকেন্ড সার্কিট কোর্ট অফ আপিল’-এর আগের একটি রায় বাতিল করা হয়েছে। ওই আগের রায়ে বলা হয়েছিল যে, কোনো বৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় প্রবেশে বাধা দেওয়ার আগে সীমান্ত কর্মকর্তাদের কাছে এমন জোরালো প্রমাণ থাকতে হবে যে তিনি ‘নৈতিক স্খলনজনিত’ (moral turpitude) কোনো অপরাধ করেছেন।

মামলার বাদী মুক চই লাউ (Muk Choi Lau) একজন চীনা নাগরিক যিনি গ্রিন কার্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগেই তাঁর বিরুদ্ধে নকল পণ্য তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং দেশে ফিরে প্যারোলে থাকার সময় তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনে (INA) বলা হয়েছে যে, গ্রিন কার্ডধারীরা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পুনরায় প্রবেশ করলে সাধারণত তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য “আবেদনকারী” হিসেবে গণ্য করা হয় না। তবে ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের’ ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে; এই ধরনের অপরাধের মধ্যে জালিয়াতি বা চুরির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত।

সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকদের পক্ষে বিচারক থমাস লেখেন, “সরকার লাউকে যথাযথভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য “আবেদনকারী” হিসেবে বিবেচনা করেছে এবং সে অনুযায়ী তাঁকে প্রবেশের অযোগ্য (inadmissible) হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। আইএনএ (INA)-এর কোনো বিধান অনুযায়ী সীমান্ত কর্মকর্তার কাছে এমন স্পষ্ট ও জোরালো প্রমাণ থাকার প্রয়োজন ছিল না যে লাউ নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধ করেছেন।”

‘স্কোটাসব্লগ’ (SCOTUSblog)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা লাউয়ের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের মে মাসে নিউ জার্সি স্টেটে প্রায় ৩ লাখ ডলার মূল্যের নকল ‘কুজি’ (Coogi) শর্টস বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছিল।

বিচার শুরুর আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছিলেন, তবে ঐ বছরের ১২ই জুন ফিরে আসার পর নিউ ইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে আটকে দেন।

অভিবাসন কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন যে লাউ-এর ক্ষেত্রে ‘নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ’-সংক্রান্ত ব্যতিক্রমী বিধানটি প্রযোজ্য হবে এবং তাঁকে প্যারোলে মুক্তি দেন। এর ফলে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার জন্য তিনি সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার সুযোগ পান, তবে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়।

এক বছর পর, তিনি ট্রেডমার্ক জালিয়াতির অভিযোগ স্বীকার করে নেন এবং তাঁকে দুই বছরের প্রবেশন (probation) বা শর্তসাপেক্ষ নজরদারির সাজা দেওয়া হয়।

২০১৪ সালের মার্চ মাসে—ওবামা প্রশাসনের আমলে—ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি লাউ-কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য বিবেচনা করে তাঁকে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া শুরু করে।

২০১২ সালের জুন মাসে তাঁকে দেশে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে কেবল প্যারোল (parole)-এ থাকার সুযোগ দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত অভিবাসন কর্মকর্তারা নিয়েছিলেন, লাউ তা চ্যালেঞ্জ করেন; তাঁর যুক্তি ছিল যে তাঁকে ভুলভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল।

মামলাটি বর্তমানে ‘ব্ল্যাঞ্চ বনাম লাউ’ (Blanche v. Lau) নামে পরিচিত; শুরুতে এটি প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির নামানুসারে ‘বন্ডি বনাম লাউ’ (Bondi v. Lau) নামে পরিচিত ছিল এবং পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়।

হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ‘বর্ডার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সেন্টার’-এর পরিচালক লোরা রিস এক বিবৃতিতে বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ব্যবধানে একটি সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট রায় দিয়েছে, কারণ অভিবাসন সংক্রান্ত আইনের বিশ্লেষণটি নিজেই বেশ সহজবোধ্য। ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট’ (INA)-এর আওতায় ‘কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন’-এর কর্মকর্তাদের জন্য এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টাকারী কোনো বিদেশি নাগরিক নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধ করেছেন—এ বিষয়ে তাদের কাছে ‘সুস্পষ্ট ও জোরালো প্রমাণ’ থাকতে হবে।

তাছাড়া এ ধরনের শর্ত বাস্তবায়ন করাও বাস্তবসম্মত নয়, কারণ প্রবেশপথে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের হাতে একবারে বিপুল সংখ্যক বিমানযাত্রীকে যাচাই-বাছাই করার জন্য অত্যন্ত সীমিত সময় থাকে।”

রিস আরও বলেন: “লাউয়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলাকালীন তাকে সরাসরি প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান বা আটক করার পরিবর্তে সীমান্ত রক্ষী কর্মকর্তা তাকে ‘প্যারোল’-এর মাধ্যমে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন—যা তার জন্য সুবিধাজনকই ছিল। তা সত্ত্বেও, লাউ আরও বেশি কিছু দাবি করেছিলেন—অর্থাৎ অপরাধে জড়িত থাকা সত্ত্বেও এবং আইএনএ (INA)-এর বিধানের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার। তিনি তার দাবির ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করেছিলেন এবং সুপ্রিম কোর্ট যথার্থভাবেই তার মামলাটিকে আইনের সঠিক পথে ফিরিয়ে এনেছে।”