


ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সুইডেনে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ নোবেল ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছেন। অ্যাসাঞ্জ দাবি করেছেন, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা ও হামলার পক্ষে অবস্থান নেওয়া মাচাদোকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, যা ‘তহবিলের গুরুতর অপব্যবহার’ এবং সুইডিশ আইনের আওতায় ‘যুদ্ধাপরাধে সহায়তা ও উৎসাহ প্রদান’ হিসেবে ধরা যেতে পারে।
গত অক্টোবরে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একনায়কতন্ত্র থেকে মুক্তির শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য মাচাদোকে নোবেল কমিটি পুরস্কৃত করেছিল। তবে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের মতে, এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে নোবেল শান্তি পুরস্কারকে শান্তির হাতিয়ার থেকে যুদ্ধের উপাদানে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
অ্যাসাঞ্জ অভিযোগ করেন, মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপকে সমর্থন করছেন, যাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এটি নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা আলফ্রেড নোবেলের উইলে বর্ণিত আদর্শের লঙ্ঘন। নোবেলের ১৮৯৫ সালের উইলে স্পষ্টভাবে বলা আছে, শান্তি পুরস্কার দেওয়া হবে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে, যারা মানবতার উপকারে জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখবে।
মাচাদোর নোবেল জয় শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি গাজায় ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা ও হামলার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সমালোচিত হয়েছেন। নোবেল জয় ঘোষণার পরপরই তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে সমর্থন জানান এবং ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দেন।
অতিরিক্তভাবে, মাচাদো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নেওয়া কঠোর অবস্থানকেও সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে, মাদুরো অপরাধী মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ও লাতিন আমেরিকার উপকূলে কথিত মাদকচক্রের নৌযান লক্ষ্য করে ২০টির বেশি সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ১০৪ জন নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে লাতিন আমেরিকায় মোতায়েন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমান বাহিনীর বিশাল বাহিনী, যা ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
অ্যাসাঞ্জ বলেন, মাচাদোর এসব সামরিক অবস্থান শান্তির মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি সতর্ক করে বলেন, নোবেলের তহবিল ‘যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ব্যবহারের বাস্তব ঝুঁকিতে’ রয়েছে। যদিও শান্তি পুরস্কার নরওয়েতে ঘোষিত হয়, আর্থিক সিদ্ধান্তে স্টকহোমভিত্তিক ফাউন্ডেশনকে দায় নিতে হবে।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ২০০৬ সালে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০১০ সালে মার্কিন সেনা গোয়েন্দা বিশ্লেষক চেলসি ম্যানিংয়ের ফাঁস করা বিপুল তথ্য প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। মামলার মাধ্যমে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের নীতি ও তহবিল ব্যবহারের ওপর গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা













