২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকিতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামিয়েছিলাম, তাও নোবেল পেলাম না, আফসোস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকিতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামিয়েছিলাম, তাও নোবেল পেলাম না, আফসোস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

গত ২০২৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানকে যুদ্ধে জড়ানো থেকে বিরত রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে ফের দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত সংঘাতের বড় ধরনের বিস্তার তিনি ঠেকিয়েছিলেন উভয় পক্ষকে সর্বোচ্চ ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ২৩ অক্টোবর শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনি প্রচার সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি আটটি ‘যুদ্ধ’ ‘মীমাংসা’ করার দাবির পুনরাবৃত্তি করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ভারত ও পাকিস্তানকে থামিয়েছি। দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ—আমি তাদের থামিয়েছি। বাণিজ্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছি। আমি বলেছিলাম, ‘আপনারা যদি এমনটা করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবেন না, বিপুল অর্থও আয় করতে পারবেন না। আমি আপনাদের উভয়ের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব, যাতে আপনারা কোনো ব্যবসাই করতে না পারেন।’ এতে তারা খুব বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়েছিল। এরপর তারা গুলি চালানো বন্ধ করে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটে।’

তথাকথিত এই কূটনৈতিক অর্জনের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার ক্ষোভও তিনি এই সমাবেশে আবারও প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি কি নোবেল পুরস্কার পেয়েছি? না।’

গত বছর পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাত তিনি থামিয়েছিলেন বলে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন। তবে নয়াদিল্লি বরাবরই কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার কথা অস্বীকার করেছে।

ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার জন্য পাকিস্তানের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) তার ভারতীয় সমকক্ষকে অনুরোধ করার পরই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

গত বছরের ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করেছিল। সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ভারতীয় বাহিনী।

ভারতের সেই হামলায় মূল সন্ত্রাসী লঞ্চপ্যাডগুলোতে আঘাত হানা হয়েছিল। পরবর্তীতে পাকিস্তানের অনুরোধ পাওয়ার পর ১০ মে এই অভিযান স্থগিত করে ভারত। – সংবাদ সুত্র ইন্ডিয়া টুডে