২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

আইশা ওয়াহাব যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান হলেন

আইশা ওয়াহাব যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান হলেন

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সিনেট সদস্য ও ডেমোক্র্যাট আইশা ওয়াহাব যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অফ রিপ্রজেনেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদের একটি শূন্য আসন পূরণের লক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হবেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। এনবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশ ভোট গণনার পর ওয়াহাব ৫৩ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন এবং হার্নান্দেজ পেয়েছেন প্রায় ৪৭ শতাংশ ভোট।

আফগান-আমেরিকান ওয়াহাব শপথ গ্রহণের পর সেই আসনটি গ্রহণ করবেন যা আগে ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলের দখলে ছিল; সোয়ালওয়েল যৌন অসদাচরণের অভিযোগের মুখে (যা তিনি অস্বীকার করেছিলেন) গত এপ্রিলে পদত্যাগ করেছিলেন। এর ফলে কংগ্রেস বা প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ২১৩-তে, আর রিপাবলিকানদের দখলে থাকবে ২১৮টি আসন।

সান ফ্রান্সিসকো ও সান হোসের কাছাকাছি অবস্থিত এই নির্বাচনী এলাকাটি ডেমোক্র্যাটদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ওয়াহাব হবেন যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রথম আফগান-আমেরিকান সদস্য। প্রগতিশীল ধারার এই ডেমোক্র্যাট নেতা এর আগে স্টেট আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী ও আফগান-আমেরিকান হিসেবেও ইতিহাস গড়েছিলেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট এবং অন্যান্য একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল-পন্থী লবিং গ্রুপ ‘আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’-র সুপার প্যাক ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ হার্নান্দেজকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে আগস্টের শুরু থেকে প্রায় ২.৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।

ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিরোধিতা করেছেন বিশিষ্ট প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটরা; এর অন্যতম কারণ হলো প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে রিপাবলিকানদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। নভেম্বরে ওয়াহাব ও হার্নান্দেজ আবারও একে অপরের মুখোমুখি হবেন। সেই নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য কংগ্রেসের আসনটি গ্রহণ করবেন।

অসমতা হ্রাসের লক্ষ্যে কাজ করা স্টেট আইনপ্রণেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা ওয়াহাব এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন যা ক্যালিফোর্নিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম স্টেট হিসেবে জাতিভেদ-ভিত্তিক বৈষম্য স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করার পথে নিয়ে যেত। তবে ২০২৩ সালে গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম সেই উদ্যোগটি বাতিল করে দেন; তাঁর মতে, বিদ্যমান আইনগুলোতে বংশপরিচয়-ভিত্তিক বৈষম্য ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ রয়েছে।