২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ

‘এত আমদানির পর এখন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা না এলে আর কবে আসবে?’- প্রশ্ন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর

‘এত আমদানির পর এখন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা না এলে আর কবে আসবে?’- প্রশ্ন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এয়ারক্রাফট, তেল, সয়াবিনসহ যে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ, তার প্রেক্ষিতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সহায়তা আসা উচিত বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এত বেশি আমদানির পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সম্পর্ক দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের, তাতে এখন যদি এই সমর্থন না আসে, তবে কবে আসবে— মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন প্রশ্নও রেখেছেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এয়ারক্রাফট, তেল, সয়াবিনসহ যে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ, তার প্রেক্ষিতে এখন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সহায়তা আসা উচিত বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এত বেশি আমদানির পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে সম্পর্ক দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের, তাতে এখন যদি এই সমর্থন না আসে, তবে কবে আসবে— মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন প্রশ্নও রেখেছেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন সহায়তা ও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংক ও দেশটির সহায়তাসংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেমন কিছু পাইনি। কিন্তু বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক যেভাবে এগিয়েছে, আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেকগুলো এয়ারক্রাফট কিনছি; তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য ও কমোডিটি আমদানি করছি। তাই তাদের কাছ থেকে আমাদের জন্য এখন বাড়তি সহায়তা আসা উচিত। তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছে। এখন দেখা যাক।

বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সাংবাদিকদেরকে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গেও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশ এই পথে এগিয়ে যেতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক নীতির মূল জোর হচ্ছে বিনিয়োগ। আমরা ঋণ থেকে সরে এসে সরাসরি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগের দিকে বেশি যেতে চাই।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির বিষয়টি তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এয়ারক্রাফট, তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির কারণে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যেও এর প্রভাব পড়ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের জোর দিয়ে বলেছি, বাংলাদেশ যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এত বেশি আমদানি করছে এবং দুই দেশের সম্পর্ক যেখানে এসে দাঁড়িয়েছে, এখন যদি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই সমর্থন না আসে, তাহলে আর কবে আসবে? আমরা যে সহায়তাগুলো আশা করছি, সেগুলো এখন আসা উচিত। তিনি জানান, বাংলাদেশের এ অবস্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়েছে। তবে, প্রত্যাশিত সহায়তা বাস্তবে কতটা এবং কীভাবে পাওয়া যাবে, তা এখন দেখার বিষয়।

এতগুলো বোয়িং কেনা হচ্ছে, এখন মার্কিন সহায়তা বাড়া উচিত বললেন অর্থমন্ত্রী

“আমরা জোর করে তুলে ধরেছি (যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায়) যে এখন যদি না আসে (সমর্থন) তো কবে আসবে।“ যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পাশাপাশি দেশটি থেকে তেল, গম ও নিত্যপণ্য আমদানি বাড়ানোর পর এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহায়তা বাড়ার প্রত্যাশা করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, “আমরা জোর করে তুলে ধরেছি (যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায়) যে এখন যদি না আসে (সমর্থন) তো কবে আসবে? “এরকম একটা সম্পর্ক যেখানে বাংলাদেশ এতগুলো আমদানি করে। আমরা ব্যালেন্স অব পেমেন্টকে (আমদানি-রপ্তানির পার্থক্য) তারা যেটা কমাতে বলছে, কমানো হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে এই সহায়তাগুলো আসা উচিত। তারা একমত হয়েছে, দেখা যাক কী হয়।”

বুধবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার বিষয় সাংবাদিকদের সঙ্গে তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এসব বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, এখানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সভা হয়েছে। ‘ইউএস অ্যাসিস্ট্যান্স অন ডেট ম্যানেজমেন্টসহ’ সামগ্রিক ইউএস-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর আলোচনা হয়েছে।

“…ইউএসএ এর পক্ষ থেকে যে বডিটা গ্রান্ট দেয়, তাদের সাথে আলোচনা হয়েছে। ট্রেজারির সাথে সেটা আলোচনা হয়েছে। বিগত দিনে সেটা আমরা সেভাবে কোনো কিছু পাইনি। আমরা তাদেরকে বলেছি বাংলাদেশ-ইউএস রিলেশনশিপ যেখানে গেছে, যেখানে বাংলাদেশ অনেকগুলো উড়োজাহাজ কিনছে, তেল কিনছে, তারপরে আপনার সয়াবিন কিনছে, ভোগ্যপণ্য কিনছে, সেই ক্ষেত্রে আজকে সময় এসেছে ইউএসএ এর এই সমর্থনগুলো ইউএসএ এর পক্ষ থেকে আসা উচিত।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছর যে বাণিজ্য যুদ্ধের সূচনা করেন সেটির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ৩৫ শতাংশ শুল্কের চাপ সামলাতে দেশটি থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি বাড়ানো শুরু করে বাংলাদেশ। দুই ধাপে মার্কিন উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করেছে সরকার।

এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের দিন কয়েক আগে ৯ ফেব্রুয়ারি সই হয় ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) নামের ঢাকা-ওয়াশিংটন বাণিজ্য চুক্তি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে এ চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার পক্ষেই সায় দেয়। পরে বোয়িং কেনার চুক্তিও করে। এমন প্রেক্ষাপটে ‍যুক্তরাষ্ট্র থেকে সহায়তা বাড়ার আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী।