২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে সহ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ঐতিহাসিক ধস, উঠে এলো নতুন জরিপে

মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে সহ ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ঐতিহাসিক ধস, উঠে এলো নতুন জরিপে

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তীব্র বা দৃঢ় সমর্থনের হার (স্ট্রং অ্যাপ্রুভাল রেটিং) কমে মাত্র ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। নেপোলিটান নিউজ সার্ভিস-এর চলতি অক্টোবরে করা জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপকারী সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের সূচকে ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের এই সমর্থনের হার এযাবৎকালের সর্বনিম্ন।

এক নজরে জরিপ চিত্র

সার্বিক কাজের মূল্যায়ন: নতুন এই জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সার্বিক সমর্থন জানান ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা, অন্যদিকে ৫৮ শতাংশ ভোটার তীব্র অসন্তোষ ও অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।

নিট সমর্থন সূচক: সমর্থক ও অসমর্থকদের মধ্যকার পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে তাঁর নিট অ্যাপ্রুভাল রেটিং দাঁড়িয়েছে মাইনাস ১৭ (-১৭) পয়েন্টে।

তীব্র বিরোধিতা: প্রেসিডেন্টের প্রতি তীব্র বা জোরালো অসন্তোষ প্রকাশ করা ভোটারের হার পৌঁছেছে ৪৬ শতাংশে।

জরিপের ধরণ: রক্ষণশীল বা কনজারভেটিভ ঘরানার সুপরিচিত জনমত জরিপকারী স্কট রাসমুসেনের পরিচালনাধীন ‘আরএমজি রিসার্চ’ ৫ থেকে ১৩ অক্টোবরের মধ্যে ২,০০০ জন নিবন্ধিত ভোটারের ওপর নেপোলিটান নিউজ সার্ভিসের জন্য এই অনলাইন জরিপটি পরিচালনা করে।

মার্জিন অব এরর: নমুনায় ভুলের সম্ভাব্য মাত্রা (মার্জিন অব এরর) ছিল প্লাস বা মাইনাস ২.২ শতাংশ পয়েন্ট।

রাজনৈতিক চাপ ও নির্বাচনের পূর্বাভাস

পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—ব্যালট পেপারে তাঁর নাম না থাকলেও তারা যেন ধরে নেন যে নির্বাচনে তিনি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অর্থাৎ, রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোটাররা যেন তাঁর মতো করেই ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেন, এমন কথা বলছেন তিনি।

গত কয়েক সপ্তাহে তিনি বারবার এই প্রচার বার্তাটি বারবার বলে যাচ্ছেন। এমন এক সময়ে তিনি এই বার্তা দিচ্ছেন, যখন প্রাক-নির্বাচনী বিভিন্ন আগাম পূর্বাভাস ও জরিপ মডেল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষে (প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেট) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের দৌড়ে ডেমোক্র্যাটরাই স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

নির্বাচনী পোর্টাল ‘ভোটহাব’-এর ১৫ অক্টোবরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ দখলের সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ এবং সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার সম্ভাবনা ৫৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রেডিকশন মার্কেটগুলোতেও ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (ইউনিফায়েড ডেমোক্রেটিক কন্ট্রোল) অর্জনের সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে; যেখানে ‘পলিমার্কেট’-এ তা ৬৩ শতাংশ এবং ‘কালশি’-তে ৬২ শতাংশে কেনাবেচা হচ্ছে। অবশ্য এই আর্থিক সংখ্যাগুলো সরাসরি কোনো ভোট বা নিশ্চিত ফলাফল নয়, বরং বাজি ধরা ব্যক্তিদের সম্মিলিত অনুমানের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লড়াইয়ে নামা রিপাবলিকান প্রার্থীদের একদিকে যেমন ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকদের সংঘবদ্ধ করতে হচ্ছে, আবার অন্যদিকে দেশের ট্রাম্পবিরোধী জনমত আরও বিস্তৃত ও তীব্র হওয়ার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

তবে ট্রাম্পের এই নিম্নমুখী জনপ্রিয়তা নির্বাচনী মাঠে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে—এমন দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল নিউজউইককে এক বার্তায় বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে তাঁর ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের মাধ্যমে মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ এক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন—এ সত্যটি কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। আর প্রেসিডেন্ট খুব ভালো করেই জানেন কীভাবে তার সমর্থকদের সাথে যুক্ত থাকতে হয়।”

তিনি আরও বলেন, “রিপাবলিকান পার্টির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা, সেরা বার্তাবাহক এবং অনন্য এক অনুপ্রেরণাদায়ী মুখ। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” – দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউজউইক