৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

মামদানি প্রশাসনকে ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর সমন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক

মামদানি প্রশাসনকে ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর সমন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি প্রশাসনকে ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর সমন মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক । ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চাইছে, যাদের অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং যারা সম্ভবত অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে।

নিউ ইয়র্ক সিটিকে গৃহহীন আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী ব্যক্তিদের বিষয়ে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের চাহিদামতো তথ্য হস্তান্তর করতে হবে—গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক এমন রায় দিয়েছেন।

১২ পৃষ্ঠার এক আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ, যিনি একজন ফেডারেল বিচারক লুইস কাপলান নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE)-এর তলব আদেশের (সাবপিনা) প্রতি সাড়া দেয়। এই তলব আদেশে ব্রঙ্কসের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী গৃহহীন পুরুষদের নাম ও জন্ম তারিখসহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে।

বিচারকের আদেশ অনুযায়ী, ফেডারেল সরকার তদন্ত করছে যে আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী কেউ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন কি না এবং তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো (ডিপোর্টেশন) প্রয়োজন কি না। তদন্তের অংশ হিসেবে, ফেডারেল কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু সহিংস অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ওপর নজর দিচ্ছে এবং তালিকা থেকে নাম বাছাই করার জন্য একজন ‘স্পেশাল মাস্টার’ (বিশেষ তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগে সম্মত হয়েছে।

বিচারক ক্যাপলান তাঁর লিখেছেন, “সংস্থাটি একজন ‘স্পেশাল মাস্টার’ নিয়োগে সম্মত হয়েছে এবং তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী নথিপত্রগুলো একটি বৈধ তদন্তের জন্য প্রাসঙ্গিক—এই বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, তলবনামাটি (সাবপোনা) ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।”

তিনি উভয় পক্ষকে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির জন্য দুই সপ্তাহের সময় দিয়েছেন। নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগ এই মামলা সংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য সিটি হলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। মেয়র মামদানি-র মুখপাত্র ইভন রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, শহর কর্তৃপক্ষ আপিল করবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে, প্রশাসন এখন “পরবর্তী পদক্ষেপগুলো মূল্যায়ন করছে”।

এছাড়া, নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস জানিয়েছেন যে, তিনিও বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। “আমি এই রায় সম্পর্কে অবগত আছি এবং আমরা আপিল করার বিষয়টি পর্যালোচনা করছি,” পুয়ের্তো রিকোতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ‘সোমোস’ (Somos) সম্মেলনে—যা এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত নয়—পলিটিকো (POLITICO)-কে তিনি এ কথা বলেন। মেয়র মামদানির সহযোগী এবং ‘নিউ ইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন’-এর প্রধান মুরাদ আওয়াদদেহ মেয়রের প্রশাসনের প্রতি আপিল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আইসিই (ICE)-এর প্রাথমিক দাবি ছিল শহরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা প্রতিটি ব্যক্তির নাম ও জন্মতারিখ। এটি কোনো তদন্ত নয়, বরং নির্বিচারে তথ্য সংগ্রহের একটি ফাঁদ। সিটি কর্তৃপক্ষের অবশ্যই আপিল করা উচিত। এছাড়া সিটি হল এবং আলবানি (নিউ ইয়র্ক স্টেট প্রশাসন)-এর উচিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো তাদের আশ্রিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে পারবে, তা সীমাবদ্ধ করে দেওয়া। যে রেকর্ডটির অস্তিত্বই নেই, সেটি আইসিই সাবপিনা (আদালতের তলব আদেশ)-এর মাধ্যমে চাইতে পারে না।”

এই সাবপিনা নিয়ে লড়াইটি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে। আইসিই প্রথমে দুটি আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দাদের সম্পর্কে অনেক বিস্তৃত তথ্য চেয়েছিল, পরবর্তীতে তারা তাদের দাবির পরিধি কিছুটা কমিয়ে আনে। এর জবাবে সিটি কর্তৃপক্ষ যুক্তি দেয় যে, আইসিই আসলে অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে তথ্য খোঁজার চেষ্টা করছে (যাকে ইংরেজিতে ‘ফিশিং এক্সপেডিশন’ বলা হয়) এবং তাদের এই অনুরোধ পূরণ করতে গেলে প্রশাসনকে অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ একটি তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

আদেশনামা অনুযায়ী, সিটি কর্তৃপক্ষ বিচারক কাপলানের সামনে আরও যুক্তি দেয় যে, আইসিই “ফেডারেল প্রশাসনিক সাবপিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিউ ইয়র্ক শহরের ‘স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি’ (অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য নিরাপদ শহর) আইনকে পাশ কাটাতে ও দুর্বল করতে চাইছে।” সিটি প্রশাসন ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এই সাবপিনাকে “তদন্তমূলক হওয়ার চেয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলেই অভিহিত করেছে।

তবে বিচারক কাপলান এতে টলেননি। পুয়ের্তো রিকোর সিনেটে উত্থাপিত এমন একটি আইনের বিরুদ্ধে আয়োজিত সমাবেশে—যেখানে আইসিই-কে স্কুলগুলোতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল—নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র মামদানি বলেন, ৩ নভেম্বর মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে, আমেরিকান জনগণ চায় সরকার যেন আইসিই-র এই ‘সন্ত্রাসের অভিযান’ রুখে দাঁড়ায়।

তিনি বলেন, “নিউ ইয়র্ক শহরে আমরা সরাসরি দেখেছি আইসিই কী ধরনের ধ্বংসলীলা চালায়—আমাদের রাস্তায় গুলি চালানো হয়েছে, পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ হয়েছে, বাবা-মাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এমনকি ৫ বছরের এক শিশুর জীবনকেও বিপন্ন করা হয়েছে। আমাদের দেশকে অবশ্যই এই ত্রাসের অধ্যায় পেছনে ফেলে মানবিকতার এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে হবে।”

আইসিই-র এই সাবপিনা এমন একটি সিটিতে বড় ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি করতে পারে, যা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য একটি নিরাপদ সিটি (স্যাঙ্কচুয়ারি সিটি) হিসেবে পরিচিত। উল্লেখ্য, সম্প্রতি এই শহরেই অভিবাসন কর্মকর্তারা দিনের আলোয় জনাকীর্ণ রাস্তায় গুলি চালিয়ে একটি মিনিভ্যান থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করেছিলেন, যে গাড়িতে ৫ বছরের এক শিশুও ছিল।