১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খামেনি নিহত হওয়ার পরও হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের

এক সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, একাধিক সিনিয়র নেতার মৃত্যু তেহরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারলেও, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় উত্তরসূরি নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নেতৃত্বের ক্ষতি সত্ত্বেও হার্ডলাইনার বা আইআরজিসি-র উপাদানগুলো নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারে।

মার্কিন সামরিক উদ্দেশ্য : ট্রাম্প ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো দেশটির পারমাণবিক, সামরিক এবং ব্যালিস্টিক-মিসাইল সক্ষমতা স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে দেওয়া।

অ্যাক্সিওস-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সম্ভাব্য পথগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ পথ বেছে নিয়ে পুরো বিষয়টি দখল করে নিতে পারি, অথবা দুই-তিন দিনের মধ্যে এটি শেষ করে ইরানিদের বলতে পারি—যদি তোমরা আবার (পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি) পুনর্গঠন শুরু করো তবে কয়েক বছর পর আবার দেখা হবে।’ একই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো অবস্থাতেই, এই আক্রমণ থেকে সেরে উঠতে তাদের কয়েক বছর সময় লাগবে।’

ইরানের প্রতিক্রিয়া : শীর্ষ নেতাদের হারানো সত্ত্বেও ইরান দ্রুত প্রতিশোধ গ্রহণ করেছে, যাকে ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার (আইএসডব্লিউ) ‘দ্রুততম পাল্টা আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে ৩৫টি মিসাইল নিক্ষেপের কথা উল্লেখ করে আইএসডব্লিউ বলেছে, `ইরান নজিরবিহীন দ্রুততার সাথে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাব দিয়েছে।’

ইরান ইসরায়েলের পাশাপাশি বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট জানা যায়নি।

ইরান এর আগেই তাদের কমান্ড চেইন বা নেতৃত্ব কাঠামোকে বিকেন্দ্রীকরণ করেছিল। কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছিল যাতে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হলেও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

ট্রাম্প এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বেশ কিছু সম্ভাব্য ‘অফ র‍্যাম্প’ বা বিকল্পের ইঙ্গিত দিয়েছেন—যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘায়িত সামরিক অভিযান থেকে শুরু করে কয়েক দিনের মধ্যে হামলা বন্ধ করা, যদি ইরান তাদের কৌশলগত কর্মসূচিগুলো পুনর্গঠনের চেষ্টা না করে। উভয় পক্ষ সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ায় তেহরান কীভাবে উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বা আরও উত্তেজনা এড়ানো সম্ভব কি না, তা এখনও অস্পষ্ট।

পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘পুরো সপ্তাহজুড়ে বোমা হামলা চলবে—ভারী এবং নিখুঁত এই বোমা হামলা পুরো সপ্তাহজুড়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে অথবা যতক্ষণ না মধ্যপ্রাচ্য এবং প্রকৃতপক্ষে সমগ্র বিশ্বে আমাদের শান্তির লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে, ততক্ষণ এটি অব্যাহত থাকবে!’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। তিনি এই মুহূর্তটিকে চলমান সংঘাতের একটি সম্ভাব্য `টার্নিং পয়েন্ট’ বা মোড় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘পুরো সপ্তাহজুড়ে বোমা হামলা চলবে—ভারী এবং নিখুঁত এই বোমা হামলা পুরো সপ্তাহজুড়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে অথবা যতক্ষণ না মধ্যপ্রাচ্য এবং প্রকৃতপক্ষে সমগ্র বিশ্বে আমাদের শান্তির লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে, ততক্ষণ এটি অব্যাহত থাকবে!’

তেহরানে নেতৃত্বের শূন্যতা : খামেনি ছাড়াও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং গোয়েন্দা প্রধানসহ আরও বেশ কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ফরচুন-এর মতে, এই মৃত্যুগুলো ইরানের নেতৃত্ব কাঠামোকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে এবং উত্তরাধিকার সংকটের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুকে ‘ইরানি জনগণের জন্য তাদের দেশ ফিরে পাওয়ার একমাত্র শ্রেষ্ঠ সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।