২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

জালিয়াতি ও প্রতারণার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বাফেলোর বাংলাদেশী নিয়ামত উল্লাহ ভার্জিনয়ায় গ্রেফতার

জালিয়াতি ও প্রতারণার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বাফেলোর বাংলাদেশী নিয়ামত উল্লাহ ভার্জিনয়ায় গ্রেফতার Screenshot

জালিয়াতি ও প্রতারণার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগর গত ২১শে ফেব্রুয়ারী বাফেলোর বাংলাদেশী নিয়ামত উল্লাহকে গ্রেফতার করেছে ভার্জিনয়ার পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ১১টি (ফেলনি) অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার, আপশর কাউন্টির আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ৮৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে লক্ষ্য করে এই প্রতারণা চালানো হয়। অভিযুক্ত বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত নিয়ামত উল্লাহ ওই মহিলার কম্পিউটারে একটি ভাইরাস ছড়িয়ে দেন, যার মাধ্যমে তিনি দূর থেকেই তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার পান। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী ওই নারী মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। নিয়ামত উল্লাহ ওই মহিলার একটি ২০ ডলারের পেমেন্টকে জালিয়াতির মাধ্যমে ২০,০০০ ডলারে পরিবর্তন করেন।
এরপর তিনি ওই নারীকে বোঝান যে তিনি আইনি সমস্যায় পড়েছেন। তাকে নির্দেশ দেওয়া হয় ১৮,০০০ ডলার নগদ টাকা অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়িয়ে তার বাড়ি থেকে সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত রাখতে।
পরবর্তী দিন উল্লাহ আবারও ওই মহিলার অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ২০,০০০ ডলার তোলার চেষ্টা করেন। ব্যাংকের কর্মীরা বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে শেরিফ অফিসে খবর দেন।
শেরিফ অফিসের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২০ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার শেরিফ মাইক কফম্যানকে একটি স্থানীয় ব্যাংকে জালিয়াতি বা জালিয়াতির তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কফম্যান সাথে সাথেই স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের তদন্তকারীকে এই প্রতারণার বিষয়ে অবহিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কফম্যান এবং চিফ ডেপুটি থেরন ক্যানর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং প্রতারকদের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ স্থাপন করে টাকা সংগ্রহের একটি ফাঁদ পাতেন। নির্ধারিত স্থানে সার্জেন্ট টেইলর গর্ডন অবস্থান নেন, আর কফম্যান ও ক্যানর কাছাকাছি থেকে গাড়িটি আটকানোর জন্য প্রস্তুত থাকেন।
২০শে ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাতে নেয়ামত উল্লাহ আবারও মহিলার সাথে যোগাযোগ করে টাকা সংগ্রহের সময় পরিবর্তন করে ২১ ফেব্রুয়ারী শনিবার সকাল ৯টায় নির্ধারণ করে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, “ডেপুটিরা পুনরায় তাদের অবস্থানে ফিরে যান এবং অপেক্ষা করতে থাকেন। প্রতারক নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে তাকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই হেফাজতে নেওয়া হয়।”
নেয়ামত উল্লাহকে গ্রেপ্তারের পর তার গাড়ি তল্লাশি করে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ডলারের বেশি নগদ টাকা, স্বর্ণের মুদ্রা এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
ডেপুটি ডাকোটা লিঙ্গার তাকে আদালতে হাজির করার আগ পর্যন্ত নিয়ামত উল্লাহকে টাইগার্ট ভ্যালি রিজিওনাল জেলে স্থানান্তরিত করেন।

ব্যাংক একাউন্টের তথ্য চুরি করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া, গোপনীয় তথ্য জেনে ফেডারেল এজেন্টের ভয় দেখানোর মাধ্যমে অর্থ আদায় করছিলো একটি চক্র, যার সদস্য নিয়ামত উল্লাহ। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, “আপশুর কাউন্টি শেরিফ অফিস এই মামলার বিষয়ে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেলের তদন্তকারী, এফবিআই (FBI) এবং ইমিগ্রেশন তদন্তকারীদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করবে।