২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

‘ট্রাম্পকে নিয়ে তর্কের জেরে’ যুক্তরাষ্ট্রে মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেন বাবা

‘ট্রাম্পকে নিয়ে তর্কের জেরে’ যুক্তরাষ্ট্রে মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেন বাবা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে তর্ক করায় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে নিজের মেয়েকে গুলি করে হত্যা করেছেন এক বাবা। ঘটনাটি ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি ঘটলেও, সম্প্রতি এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের চেশায়ারের ওয়ারিংটনের বাসিন্দা লুসি হ্যারিসন (২৩) ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি ডালাসের কাছে প্রসপার এলাকায় বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানের শুনানিতে (ইনকোয়েস্ট) জানা গেছে, ঘটনার দিন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বাবার সঙ্গে তার তর্ক হয়েছিল।

ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ হত্যাকাণ্ডটিকে সম্ভাব্য ‘ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড’ নয় এমন দৃষ্টিকোণ থেকে তদন্ত শুরু করে। তাছাড়া, টেক্সাসের কলিন কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরি লুসির বাবা ক্রিস হ্যারিসনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন না করায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করা সম্ভব হয়নি।

তবে চেশায়ার করোনারস কোর্টে শুরু হওয়া শুনানিতে লুসির বন্ধু স্যাম লিটলার জানান, ঘটনার দিন সকালে ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে বাবা-মেয়ের ‘বড় ধরনের তর্ক’ হয়েছিল। ট্রাম্প তখন দ্বিতীয় মেয়াদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ছুটিতে লুসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া লিটলার বলেন, বাবা বন্দুক রাখার বিষয়ে কথা বললে লুসি প্রায়ই মন খারাপ করতেন। শুনানিতে আরও জানা যায়, মেয়ে ছোট থাকতেই যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ক্রিস হ্যারিসন আগে মদ্যপানের আসক্তির কারণে পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) ছিলেন।

শুনানিতে উপস্থিত না থাকলেও আদালতে পাঠানো এক বিবৃতিতে ক্রিস হ্যারিসন স্বীকার করেছেন, গুলির ঘটনার দিন তিনি আবার মদ্যপান শুরু করেছিলেন এবং প্রায় ৫০০ মিলিলিটার হোয়াইট ওয়াইন পান করেছিলেন।

লিটলার জানান, ১০ জানুয়ারি সকালে ট্রাম্পকে নিয়ে তর্কের সময় লুসি তার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘ওই পরিস্থিতিতে মেয়েটি যদি আমি হতাম এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হতাম, তবে তোমার কেমন লাগত?’

জবাবে ক্রিস হ্যারিসন বলেছিলেন, তার আরও দুই মেয়ে তার সঙ্গে থাকে, তাই এতে তিনি খুব একটা বিচলিত হতেন না। লিটলার জানান, এতে লুসি ‘খুবই মন খারাপ’ করেন এবং ওপরতলায় চলে যান।

শুনানিতে ক্রিস হ্যারিসন আদালতে জানিয়েছেন, ওই দিন তার মেয়ে লুসি বিমানবন্দরে যাওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে রান্নাঘরে ছিলেন। সেই সময় তিনি তাকে হাত ধরে নিচতলায় নিজের বেডরুমে নিয়ে যান। লিটলার বলেন, ‘প্রায় ১৫ সেকেন্ড পরেই আমি একটি বিকট শব্দ শুনতে পাই এবং এরপর ক্রিস তার স্ত্রী হেডারকে চিৎকার করে ডাকতে থাকেন।’

লিটলার আরও জানিয়েছেন, ‘আমার মনে আছে আমি দৌড়ে ঘরে ঢুকলাম এবং দেখলাম লুসি বাথরুমের দরজার কাছে মেঝেতে পড়ে আছে এবং ক্রিস অসংলগ্নভাবে চিৎকার করছে।’

বিবৃতিতে ক্রিস হ্যারিসন বলেন, তিনি এবং তার মেয়ে বন্দুক অপরাধসংক্রান্ত একটি খবর দেখছিলেন। তখন তিনি মেয়েকে জানান যে, তার কাছে একটি বন্দুক আছে এবং এটি দেখতে চায় কি না তা জিজ্ঞেস করেন। এরপর তারা বেডসাইড ক্যাবিনেটে রাখা গ্লক ৯ মিমি সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগানটি দেখাতে বেডরুমে যান।

হ্যারিসন বলেন, পরিবারের ‘নিরাপত্তার কথা ভেবে’ কয়েক বছর আগে তিনি বন্দুকটি কিনেছিলেন। তবে মেয়ের সঙ্গে আগে এ নিয়ে আলোচনার কথা তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘বন্দুকটি তুলে তাকে দেখানোর সময় হঠাৎ আমি বিকট শব্দ শুনতে পাই। কী ঘটেছিল তা আমি বুঝতেই পারিনি। লুসি সঙ্গে সঙ্গে পড়ে যায়।’

হ্যারিসন আরও বলেন, ট্রিগারের ওপর তার আঙুল ছিল কি না তা তিনি মনে করতে পারছেন না। তিনি স্বীকার করেছেন, অতীতে তার মদ্যপানের সমস্যা ছিল। মেয়ে চলে যাচ্ছিল বলে আবেগপ্রবণ হয়ে ওই দিন তিনি ‘সামান্য মদ্যপান’ করেছিলেন।

শুনানিতে পুলিশ কর্মকর্তা লুসিয়ানা এসকালেরা জানান, ঘটনার পর তিনি যখন বাড়িতে যান, তখন হ্যারিসনের নিঃশ্বাসে মদের গন্ধ পান। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই দিন স্থানীয় সময় দুপুর ১টার কিছুক্ষণ আগে তিনি একটি সেভেন-ইলেভেন দোকান থেকে দুটি ৫০০ মিলি শার্ডনে ওয়াইন কিনেছিলেন।

আইনজীবীদের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্রিস হ্যারিসন বলেছেন, তিনি তার কাজের পরিণাম ‘সম্পূর্ণরূপে মেনে নিয়েছেন’। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো দিন নেই যেদিন আমি এই ক্ষতির ভার অনুভব করি না, এই ভার আমাকে সারাজীবন বহন করতে হবে।’

লুসির মা কোটস বলেন, ফ্যাশন ব্র্যান্ড বুহু-র বায়ার হিসেবে কর্মরত তার মেয়ে ছিল ‘অদম্য জীবনীশক্তিতে ভরপুর’। তিনি বলেন, ‘সে সবার খেয়াল রাখত। যেকোনো বিষয়ে তার ছিল প্রবল আগ্রহ। নিজের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে তর্ক করতে সে ভালোবাসত।’