১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

ফাঁকা মাঠে জামাত গোল দিতে পারেনি এটি ভাল, জামাত বিরোধী দলে বসবে এটি শুভ নয়

ফাঁকা মাঠে জামাত গোল দিতে পারেনি এটি ভাল, জামাত বিরোধী দলে বসবে এটি শুভ নয় Screenshot

শিতাংশু গুহ : এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে জাতি ড. ইউনুস গং থেকে মুক্তি পেয়েছে। এটি জনমনে স্বস্তি এনেছে। বিএনপি’র অতীত তমসাচ্ছন্ন হলেও জাতি তা ভুলে তারেক রহমানকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। রাজাকার, ধর্মান্ধ গোষ্ঠী, জঙ্গীদের ১৮-মাসের আস্ফালনে জাতি হাফিয়ে উঠেছিলো। নির্বাচনটি ভাল হয়েছে, এ কৃতিত্ব সেনাবাহিনী’র। ড. ইউনুস, জামাত, এনসিপি’র সকল ষড়যন্ত্র সেনাবাহিনী নস্যাৎ করে দিয়েছে। ইউনুস দ্রুত দেশ ছাড়বেন। এনসিপি এখনো হম্বতম্বি করলেও শিগগিরই হারিয়ে যাবে, এর নেতারা পালতে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের নীচের স্তরের নেতারা ঘরে ফিরতে পারবেন, ওপরের স্তরের নেতাদের জন্যে আপাতত কোন সুসংবাদ নেই? পঁচাত্তরের পট-পরিবর্তনের পর যেমন আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হয়েছিল এবারো এর ব্যতিক্রম হবেনা। তারেক জিয়া যত সফল হবেন, আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন ততটা বিলম্বিত হবে? এবারের নির্বাচনের ভাল দিক হচ্ছে, জামাত ফাঁকা মাঠেও গোল দিতে পারেনি। খারাপ দিক হচ্ছে, স্বাধীনতা বিরোধী জামাত বিরোধী দলে বসবে।

বিএনপি’র এতবড় বিজয়ের বহুবিধ কারণ থাকলেও সম্ভবত: ‘ফ্যামিলি কার্ড’ গরিব মানুষের মনে আশার এল জ্বালিয়েছে। মাসে আড়াই হাজার টাকা হয়তো কিছুই না, কিন্তু যার কিছুই নাই, তার কাছে অনেক কিছু। এই প্রথম সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নৌকার বাইরে গিয়ে ব্যাপকভাবে বিএনপি’র প্রার্থীদের ভোট দিয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোট বর্জনের আহবান সত্বেও যারা ভোট দিতে বাধ্য হয়েছে, তারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। জামাতের নারী বিরোধী ভূমিকা বিএনপি’র পক্ষে গেছে। ড. শফিক কর্মজীবী নারীদের ;পতিতা বলেছেন। জামাত একজন নারীকে মনোনয়ন দেয়নি। শোনা যাচ্ছে, নরেন্দ্র মোদী আসবেন তারেক জিয়ার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে। খালেদা জিয়ার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে এসে জয়শঙ্কর দেখা করেছিলেন তারেক জিয়ার সাথে, ড. ইউনূসের সাথে দেখা করেননি। সজীব ওয়াজেদ জয় ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি তারেক জিয়ার সাথে বসতে রাজি আছেন। ৭১’র দানব ঠেকাতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্ত বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। এই নির্বাচন সম্ভবত: বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। তবে জুলাই যোদ্ধাদের খবর আছে, এদের কারণেই সাঈদী পুত্র, মীর কাশেম পুত্র, সাকা পুত্র এমপি হয়েছেন। কুড়িগ্রামে জামাত সন্ত্রাসী আতিক মুজাহিদ জিতেছেন, তিনিও সেভেন-সিষ্টার দখলের নায়ক? এরফলে ভারতের কুচবিহারে অস্ত্রের ঝনঝনানি বেড়ে যেতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া ঠাকুরগাঁও ২, রাজশাহী ১, রংপুর ২, মিলফামারির ৩, সাতক্ষীরার ৪ আসন, চাপাইনবাবগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা আসনে জামাত জিতেছে। অর্থাৎ ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে মৌলবাদ বাড়ছে।

কর্নেল অলি আহমদ বিএনপি ছেড়ে জামাতে গিয়েছিলেন, তিনি হেরেছেন। এটি ভাল হয়েছে। জামাত ক্ষমতায় গেলে হয়তো অলিকেই স্বাধীনতার ঘোষক বানিয়ে দিতো। মামুনুল হক, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস, ব্যারিষ্টার ফুয়াদ, শিশির মনির হেরেছেন। বিএনপি’র ভুলে কুমিল্লা থেকে অটোপাস করেছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। ঢাকা-১১ থেকে নাহিদ ইসলাম নাকি হেরে যাচ্ছিলো, পরে ইউনুস তাকে জিতিয়ে দিয়েছেন। একই গল্প শুনলাম ড. শফিকের ক্ষেত্রেও। মাহফুজ নির্বাচন করেননি। জারা ভোট বর্জন করেছেন। নিউইয়র্কে ডিম্ খাওয়া আখতার হোসেন জিতেছেন। যশোরে ৬জনের মধ্যে জামাতের ৫জন জিতেছেন। খুলনায় হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় জামাত ভাল ভোট পেয়েছে। গয়েশ্বর রায় এবার প্রথম এমপি হয়েছেন,স্বাধীনতার পর এই প্রথম ঢাকা থেকে কোন হিন্দু এমপি হলেন। বেয়াই বিএনপি’র নিতাই রায় চৌধুরী জিতেছেন। জামাত ও এনসিপি একজন করে সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছিলেন, তারা হেরেছেন। জয়ী তৃতীয় হিন্দু হলেন রাঙামাটির দীপেন দেওয়ান। জয়ী অপর সংখ্যালঘু হলেন সাচিং প্রু। বিজয়ী ৪জন সংখ্যালঘুর সবাই বিএনপি’র। বিএনপি মোট ৬জন সংখ্যালঘুকে প্রার্থী করেছিল, বাকি দু’জন হেরেছেন। এঁরা হচ্ছেন, বাগেরহাটের কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও সোমনাথ দে। জামাত ও এনসিপি ১জন করে হিন্দু প্রার্থী দেয়, তারা হেরেছেন। এরা হলেন, খুলনার জামাত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এবং মৌলভীবাজারের এনসিপির প্রার্থী প্রীতম দাশ। বরিশালে ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছেন। তিনি ভাল মানুষ, জনহিতৈষী, তার জেতার কথা নয়, পেয়েছেন মাত্র ২২হাজার ভোট। আমির হামজা বলেছিলেন যে, ড. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে না পারলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়বে দেশ। আমরা দেখছি পুরো বাংলাদেশ হাঁসছে। নিউইয়র্ক, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬