৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন আইনগতভাবে বৈধ ছিল না: ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন আইনগতভাবে বৈধ ছিল না: ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নির্বাচন আইনগতভাবে বৈধ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস.ওয়াই. কুরাইশি। নির্বাচনে যেসব এলাকায় মুসলিম ভোটারদের বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, সেসব এলাকাগুলোতে পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। প্রয়োজনে সেসব এলাকায় আবার ভোট নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কলকাতায় হাশিম আবদুল হালিম স্মারক বক্তৃতায় মূল বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব অভিযোগ তোলেন কুরাইশি। ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, কমিশনের সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।

কুরাইশি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কি আইনগতভাবে বৈধ ছিল? আমার মতে, ছিল না। আমি এ কথা কয়েকবার বলেছি, আবারও বলছি। বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্টের সামনে রয়েছে। আশা করছি, আদালত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।’

তিনি বলেন, নির্বাচনের কিছু অংশ হয়তো বৈধ ছিল। তবে যেসব এলাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ রয়েছে, সেসব এলাকায় আবার যাচাই করা উচিত। প্রয়োজন হলে সেখানে পুনরায় ভোট নিতে হবে।

কুরাইশির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এই সরকার ছয়-সাত মাস ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। মানুষ খুশি। তবে কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, হয়তো তারা নিজেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পাননি বলে।’

তিনি আরও বলেন, জনগণের রায় ও তাদের পছন্দের সরকারকে মেনে নেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত। তা না হলে যারা এর বিরোধিতা করছেন, তাদের সামনে কঠিন পথ অপেক্ষা করছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন কুরাইশি।

তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) একাই নির্বাচন কমিশন নন। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে কমিশনের সদস্যদের সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তা সম্ভব না হলে তিন সদস্যের কমিশনে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কুরাইশির ভাষ্যমতে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এককভাবে পুরো নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তাই তার একক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হতে পারে না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ কথা বলেন। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এককভাবে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব সিদ্ধান্তের অন্তত ১৪টি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি আপত্তি জানিয়েছিলেন।

ভোটারদের অধিকার নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার অধিকার পেতে কোনো ভোটারকে কারও কাছে অনুরোধ জানাতে হবে—এমনটা হওয়ার কথা নয়। অতীতে ভোটার কার্ড প্রত্যেকের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হতো। ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য কাউকে দেনদরবার করতে হতো না।

কুরাইশির অভিযোগ, ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়াকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের গোপন পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রক্রিয়াটি সহজ বা স্বচ্ছ কোনোটিই ছিল না। এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে, যেগুলো এখন সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হচ্ছে। আদালতের রায় এলে কী ভুল হয়েছে আর কোনটি সঠিক ছিল, তা স্পষ্ট হবে।’ সংবাদসুত্র দ্য হিন্দু