রাশিয়ার তেল কেনার কারণে ভারত ও চীনের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। তবে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কের প্রয়োগ আপাতত শিথিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প জানান, রাশিয়াসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা, বিধিনিষেধ ও শুল্ক কার্যকরের ক্ষেত্রে আপাতত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য তিনি মার্কিন কংগ্রেসে একটি সনদও জমা দিয়েছেন।
তবে এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি। বরং সেগুলোর প্রয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে চাইলে ট্রাম্প আবারও এসব পদক্ষেপ কার্যকর করতে পারবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে স্বাক্ষরিত ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট’-এর আওতায় এসব পদক্ষেপ নেয়ার কথা ছিল।
এ সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত ১০০ শতাংশ শুল্কের আশঙ্কা থেকে রেহাই পেল ভারত। এর আগে দেশটি জানিয়েছিল, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ভারত সতর্ক করেছিল, এ ধরনের শুল্ক শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে রাশিয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়েও আলোচনা চলছে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের আইন তৈরি হলেও তা কার্যকরে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল সরবরাহের জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নতুন একটি চুক্তিও করেছে তাঁর প্রশাসন। চুক্তির আওতায় প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্রের ৩ লাখ টন ডিজেল পাওয়ার কথা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার এই ডিজেল চুক্তির সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি এটিকে ‘দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন জেলেনস্কি। এ কারণে ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট বা নেতা বেছে নেওয়ার সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
























