১২ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশি তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রে এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশি তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রে ছয় দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই বাংলাদেশি তরুণ। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ২৪ বছর বয়সী শাহ আহসান আরদি এবং মিশিগানের ওয়ারেন শহরে মাহবুব রহমানের মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। দুই দুর্ঘটনায় দুই তরুণের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে গত ৩ অক্টোবর ভোরে নিউইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে। পুলিশকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ টুয়েলভ জানায়, ভোর আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটে মেজর ডিগ্যান এক্সপ্রেসওয়ের উত্তরমুখী লেনে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ওয়েকফিল্ড এলাকার বাসিন্দা শাহ আহসান আরদি। ম্যাকম্বস ড্যাম ব্রিজের কাছে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গার্ডরেলে ধাক্কা দেন। সংঘর্ষের পর তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে এক্সপ্রেসওয়ের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য এক্সপ্রেসওয়ের উত্তরমুখী লেনগুলো প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।

দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে মিশিগানের ওয়ারেন শহরে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী , শহরের ১২ মাইল রোড ও হুভার রোডের সংযোগস্থলে মাহবুব রহমানের মোটরসাইকেলের সঙ্গে একটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর তাঁকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে ওয়ারেন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে মাহবুব রহমানের বয়স, পারিবারিক পরিচয় এবং সংঘর্ষের বিস্তারিত পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

দুটি ঘটনাই আলাদা স্টেটে ঘটলেও কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু প্রবাসী কমিউনিটির জন্য বেদনাদায়ক খবর। নিউইয়র্কের দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গার্ডরেলে ধাক্কা লাগার কথা পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, মিশিগানের ঘটনায় অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উভয় দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল জানা গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রে কাজ ও জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে সড়কে নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ বা ব্যক্তিকে দায়ী করা যাচ্ছে না। দুই তরুণের মৃত্যুতে তাঁদের পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটির লোকজন।