১২ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

জ‍্যাকসন হাইটসের পরিচিত মুখ কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই, মরদেহ বাংলাদেশে প্রেরণ

জ‍্যাকসন হাইটসের পরিচিত মুখ কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই, মরদেহ বাংলাদেশে প্রেরণ

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকন (৫৭) আর নেই। নিখোঁজ হওয়ার ৫ দিন পর তাঁর সন্ধান পাওয়া গেছে সিটি মর্গে আর যুক্তরাষ্ট্রে আসার ৩০ বছর পর দেশে ফিরেছেন লাশ হয়ে। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। ৫ দিন ধরে তিনি নিখোঁজছিলেন। তার মৃত্যুর খবর বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রথম নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুররহমান। তার বয়স হয়েছিলো ৫৭। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। কাজী খোকনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবার, বন্ধুমহল ও পরিচিতজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পেয়িং গেস্ট হিসেবে একাকী বসবাস করতেন কুইন্সের কিউ গার্ডেনের একটি ভাড়া বাসায়। বাংলাদেশের মাগুরা জেলার সদর উপজেলার বগিয়া ইউনিয়রের পকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। তার পিতার নাম কাজী জহিরুল হক ও মাতার নাম শুকুরুন নাহার। মা-বাবা উভয়ই মৃত। ৯ ভাই-বোনের মধ্যে কাজীখোকন ৬ নম্বর ছিলেন।

ড. সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত ৩ অক্টোবর শনিবার থেকে নিখোঁজ (বাসা থেকে) ছিলেন আজিজুল হক খোকন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজের দিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাকে সিটির একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিউইয়র্কে তার নিজের স্বজন ও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার মরদেহ ব্রুকলিনের আই ৫৯৯ উইনথ্রোপ স্ট্রীটচীফ মেডিকেল এক্সামিনার কার্যালয়ের ফিউনারেলে পাঠিয়ে দেয়। সেখানেই তার মরদেহ ছিলো।

ধারণা করা হচ্ছে, বাসা থেকে বের হয়ে কোথাও যাওয়ার পথে কাজী পথিমধ্যে স্টোক বা হার্ট অ্যাটাক-এর শিকার হন।পরবর্তীতে কে বা কারা তাকে জ্যামাইকা মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে গেলে সেখাতে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

কাজী আজিজুল হক খোকন প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন । শারীরিকভাবেও কিছুটা অসুস্থ ছিলেন তিনি। জ্যাকসন হাইটসের খামারবাড়ি গ্রোসারী ও নবান্ন রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন কাজী খোকন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্বপালন করছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ জানান, ১৯৯৬ সালে কাজী খোকন যুক্তরাষ্ট্রে আসেন । গত ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে কর্মস্থল জ্যাকসন হাইটসের অবকাশ স্টোর থেকে বাসায় ফেরার পর তাঁর কোন খোঁজ মিলছিলো না। শুক্রবার ও শনিবার অবকাশ-এর কর্ণধার হোসেন রানা একাধিকবার ফোন করেও কোন খোঁজ না পাওয়ায় শনিবার রাতে আমরা কয়েকজন তার বাসায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতায় ঘরের দরজা খুললে রুমের লাইট অফ আর ফ্যান চালু দেখতে পাই । এসময় সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম উপস্থিত ছিলেন এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। জুয়েল বলেন, বাসার মালিক জানান- গত দুদিন কাজী খোকন বাসায় আসেননি এবং খাবারও খাননি। ধারণা করা হচ্ছে রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জ্যামাইকা হসপিটাল সেন্টারে মারা যান। পরবর্তীতে পুলিশের সহযোগিতায় তার সন্ধান পাওয়া যায় ।

জুয়েল আহমেদ আরো বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও তার নিখোঁজ হওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যুর খবরপাওয়া পর্যন্ত রাজনীতির উর্ধ্বে দলমত নির্বিশেষে কমিউনিটির সবাই যে সহযোগিতা করেছেন, সহমর্মিতা দেখিয়েছেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

কাজী খোকনের নামাজে জানাজা শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাদ জুমা জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় দলমত নির্বিশেষে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী অংশ নেন। পরবর্তীতে তার মরদেহ এমিরেটস এয়ারলাইন্সের শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) রাতের ফ্লাইটে বাংলাদেশে প্রেরণ করা হয়।

নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটি কাজী খোকনের ফিউনারেল খরচ ও মরদেহ দেশে প্রেরণ করাসহ যাবতীয় খরচ বহন করেছে বলে জানিয়েছেন সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।

গত ৮ অক্টোবর জ‍্যাকসন হাইটসের নবান্ন পাটি হলে আয়োজিত এক শোক ও স্মরণ সভায় উপস্থিত সকলে দল ও মতের উর্ধ্বে উঠে একজন অমায়িক, সজ্জন ও নির্লোভ মানুষ- কাজী খোকনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সমাবেশে বাংলাদেশে তাঁর পরিবারের অবশিষ্টদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং ১০ হাজারের ডলারের বেশি অর্থ প্রাপ্তির প্রাথমিক তথ্য জানানো হয়। সকল অর্থ অবকাশ স্টোরের হোসেন রানার নিকট জমা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অনুদান সংগ্রহে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।