১১ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস) নিয়ন্ত্রণ হারালে কংগ্রেস থেকে সরে দাঁড়াবেন স্পিকার মাইক জনসন

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস) নিয়ন্ত্রণ হারালে কংগ্রেস থেকে সরে দাঁড়াবেন স্পিকার মাইক জনসন

কংগ্রেসের স্পিকার মাইক জনসন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা যদি প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস) নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে তিনি হয়তো কংগ্রেস থেকেই পুরোপুরি সরে দাঁড়াবেন। নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর পরাজয়ের প্রভাব নিয়ে এটিই তাঁর সবচেয়ে স্পষ্ট ও খোলামেলা স্বীকারোক্তি।

বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) ফক্স নিউজের প্রতিনিধি আয়েশা হাসনির সাথে এক সাক্ষাৎকারে জনসনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির (জিওপি) সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা হাতছাড়া হলে তাঁর ভবিষ্যৎ কী হবে। তিনি বলেন, “ঈশ্বর না করুন, যদি আমরা এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা যা-ই হোক তা হারিয়ে ফেলি, তবে জানি না আমার জীবনের পরবর্তী অধ্যায় কী হবে।” এ বিষয়ে আরও জানতে চাইলে লুইজিয়ানার এই রিপাবলিকান নেতা ‘মাইনরিটি লিডার’ বা বিরোধী দলীয় নেতা হওয়ার চেষ্টার পরিবর্তে নিজ শহরে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ঈশ্বর যদি আমাদের হৃদয়ে এমন কোনো ইঙ্গিত দেন যে আমাদের—মানে, আমার—নিজ শহর শ্রেভপোর্টে ফিরে গিয়ে লন বা বাগান পরিচর্যার ব্যবসা শুরু করা উচিত, তবে আমি সমান উদ্দীপনা নিয়েই তা করব।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোরতর সমর্থক স্পীকার জনসন বারবার ভবিষ্যদ্বাণী করে আসছেন যে রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঐতিহাসিক ধারা ভেঙে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়াবে; তাই তিনি পরাজয়ের মতো বিকল্প পরিস্থিতির কথা ভাবছেন না বলেই জোর দিয়ে বলেন। সম্ভাব্য পরাজয়ের জন্য তিনি যে দায়ী হতে পারেন—এমন কোনো ইঙ্গিতও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, “আমরা যদি হাউস বা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাই, তবে তার কারণ হবে জনগণকে বিভ্রান্ত করা।” তিনি আরও জানান যে নির্বাচনের আগে প্রচারণার কাজে তিনি “বিরামহীনভাবে ভ্রমণ” করছেন এবং নির্বাচনের আগ পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদের কার্যক্রম স্থগিত (রিসেস) রেখেছেন।

বেশ কয়েকটি স্টেটে ইতিমধ্যে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এমন সময়ে জনসনের এই মন্তব্যগুলো এল, যখন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ইরান-সংক্রান্ত যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো কংগ্রেস ও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভোটারদের মতামতের ওপর প্রভাব ফেলছে।

স্পীকার জনসন এর আগেও রিপাবলিকানদের পরাজয়ের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন—মূলত তহবিল সংগ্রহ ও ভোটারদের উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে। তিনি সতর্ক করেছেন যে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের অর্থ হতে পারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আবারও অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) চেষ্টা।

বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তবে আগামী মাসে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে না।