গত দুই বছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন কমেছে ১২ শতাশের বেশি। গভীর সাগরে সোনার স্ক্যানার দিয়ে নির্বিচারে মা ইলিশ ধরা হচ্ছে। এছাড়া, সাগর-নদী মোহনায় অসংখ্য জাল ও নদী দূষণে মাছের উৎপাদন কমাচ্ছে, মনে করেন মৎস্য গবেষকরা।
মৎস্য গবেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি উন্নয়নে উদ্যোগ না নিলে বাংলাদেশের ইলিশের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসবে। তখন চাহিদা মেটাতে আমদানি নির্ভরতা বেড়ে যাবে।
গভীর সাগরের রূপালী ইলিশ বঙ্গোপসাগরের ব-দ্বীপাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বর্ষায়। ডিম ছাড়া ও জাটকা হয়ে ওঠা পর্যন্ত এরা মিঠাপানিতে থাকে। ইলিশের শরীরে ফ্যাটি এসিডের ওমেগা থ্রি চর্বি অন্য মাছ থেকে আলাদা করেছে।
মিয়ানমার, ভারত, আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকাতেও পাওয়া যায় রূপালী ইলিশ। পূর্ব এশিয়ার চীন সাগরের মোহনাতে বাস চন্দনা ইলিশ ও গুরতা ইলিশের।
মিঠা পানির প্রাচুর্যতা ও অনুকূল পরিবেশের কারণে এক দশক ধরে বিশ্বের ৮০ ভাগ ইলিশ আহরণ করছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে প্রায় পৌনে ২ লাখ টন থেকে ২০২২ এ সর্বোচ্চ প্রায় পৌনে ছয় লাখ টন ইলিশ আহরণ হয়। তবে এরপর থেকেই বাংলাদেশে কমছে উৎপাদন।
ইলিশ শিকারে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বেড়েছে। গভীর সাগরে নির্বিচারে দেড় থেকে তিন কেজি ওজেনের মা ইলিশের ঝাঁক ধরা হচ্ছে সোনার স্ক্যানার যন্ত্রে। উজানে অসংখ্য জাল, সেতু-বাঁধ নির্মাণ, নদী দূষণ, ডুবোচরের কারণেও ইলিশের উৎপাদন কমছে।
ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, উৎপাদন কমছে। সোনার স্ক্যানার দিয়ে যখন ধরা হচ্ছে,তখন আর একেবারেই বাঁচার সুযোগ পাচ্ছে না ইলিশ। কমার যে ধারা, এটা অব্যাহত থাকলে মারাত্মক একটা সংকেত আসছে।
উৎপাদন ঘাটতি মেটাতে গত বছর মিয়ানমার থেকে ১,০২৫ টন ইলিশ আমদানি হয়। এবছর ভারত থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়ামুল নাসের বলেন, আগে যেসব মাছ ধরা হতো না, এখন কিন্তু ধরে ফেলা হচ্ছে। না ধরলে এই সমস্যাটা হতো না। ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। কিন্তু এটার ব্যবস্থাপনা নতুন করে করতে হবে।
মৎস্য গবেষকরা বলছেন, সাগর-নদীতে এখন ডালা গোণ বা মরা গোণ চলছে। ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত ভরা গোণে নদীতে ইলিশের মজুদ বাড়বে। সংবাদ সুত্র দ্য ইনডিপেনডেন্ট টিভি













