যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বাংলাদেশ কিনছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটা জিনিস চেয়েছে যে, ‘আমাদের বোয়িংগুলি ইউজ করেন’। আমরা করছি, আমরা কিনছি। ১৪টি বোয়িং কিনছি, আরও আমরা লিজ নিব। “আমরা এদিকে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এবং জার্মানি থেকে যে এয়ারবাস (উড়োজাহাজ) তৈরি হয়, সেখান থেকে ওদের কাছ থেকেও কিনছি, ওদের কাছ থেকেও কিনব। আমরা সবকিছুই বাড়াব, ভালো করব।”
গত ৩১ আগস্ট সোমবার ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা বলেন। জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মিল্লাত ময়মনসিংহ, শেরপুর ও নেত্রকোণায় সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য গত ২৭ অগাস্ট দায়িত্ব পান। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবদান তুলে ধরতে গিয়ে বাংলাদেশের কাছে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বেচার কথা রোববার এক্স পোস্টে তুলে ধরেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর।
তিনি বলেছেন, “চলতি সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আরেকটি অসাধারণ চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের প্রাথমিক ক্রয়াদেশের চেয়ে অনেক বেশি। আমাদের প্রেসিডেন্ট আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে এবং আমাদের অংশীদারদেরও মহান করে তুলছেন!”
নানা আলোচনার মধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই এয়ারক্রাফটগুলো বিমানকে সরবরাহ করবে বোয়িং।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। তবে জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আর ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিমানের ক্রয়াদেশ গেছে বোয়িংয়ের ব্যাগে। তবে ইউরোপীয়দের চাপে তাদের কোম্পানি এয়ারবাস থেকেও এখন উড়োজাহাজ কিনতে চাইছে বিএনপি সরকার।
বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী বলেন, “আমরা দেশটাকে উন্নত করব; যার যার যে দায়িত্ব রয়েছে—আমার যে দায়িত্ব রয়েছে, আমি পালন করব। এখানে কিন্তু সকলেই, যার যার দায়িত্ব আছে—শুধু দায়িত্ববান হলেই হলো, আর কিছু লাগে না।”
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “আপনারা জানেন যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন এখন। বিগত সরকারের আমলে, ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে যেভাবে কাজ চলেছে, এই বর্ণনা করতে গেলে অনেক সময় লাগবে বা আপনারা সবাই জানেন। এবং অনেকেই হয়তো ইচ্ছা না থাকলেও যেহেতু সরকারি কর্মকর্তা, তাদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে হয়েছে। যে কাজগুলি জনবিরোধী কাজ ছিল।”
তিনি বলেন, “এখন আমরা করতে চাই জনবান্ধব কাজ। জনবান্ধব কাজ করতে হলে আপনাদের সকলকে একটু সেক্রিফাইস করতে হবে। …আমাদের কাজগুলি যদি আমরা না করি, তাহলে আমাদের নিজেদের কাছে লজ্জাবোধ করব—এরকম ধরনের একটা মানসিকতা যাতে সৃষ্টি হয়, তাহলেই আপনি দেখবেন যে আমাদের কাজ করার প্রবণতা বেড়ে যাবে এবং আমরা স্বেচ্ছায় যার যার যে কাজের পরিধি রয়েছে, সে কাজগুলি আমরা করতে পারব।”
মন্ত্রী মিল্লাত বলেন, “আমি মনে করি যে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—ময়মনসিংহ, শেরপুর এবং নেত্রকোণা; আমি মনে করি সকল এমপিদের সাথে নিয়ে, আমাদের প্রশাসনের লোকদের সাথে নিয়ে, কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে আপনাদের যা যা প্রয়োজন রয়েছে—এই জেলাগুলির উন্নয়ন করার জন্য, আমি আমার সর্বাত্মক চেষ্টা করব।
“কতটুকু পারব আমি জানি না, বাট আমি ১০০% চেষ্টা আপনাদের জন্য দিব—এই এলাকাগুলির উন্নয়ন করার জন্য এবং জনগণের এই যে ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা এগুলো পূরণের জন্য আপনাদের মাধ্যমে।” সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, “আমরা নিজেরা জনপ্রতিনিধি যারা আছে, তারা যদি কাজগুলি ঠিকমতো না করি, তাহলে তারা কিন্তু বিরক্ত হবে, মুখ ফিরিয়ে নিবে।
“…শেখ হাসিনার বিদায় যদি এরকম হয়ে থাকে এবং তার থেকে যদি আমরা রাজনীতিবিদেরা শিক্ষা না নিই, তাহলে এই বাংলাদেশ আর কোনদিন শিক্ষিত হবে না। শিক্ষা নিতে হবে। জোরপূর্বক কোনো কিছু করা এবং স্বৈরাচারতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে আমাদের কর্মকর্তাদের হুকুম দেওয়া এবং তাদেরকে কাজে বাধ্য করা, অকাজে বাধ্য করা—এইগুলির কাজ যে ছিল, এই কাজগুলি আমাদের মাননীয় প্রধান তারেক রহমান খণ্ডন করতে চান। এটার অপোজিট ওয়ার্ক করতে চান। সেটা কাদেরকে নিয়ে? আপনাদেরকে নিয়ে।”













