শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে বাংলাদেশ খুব বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে মনে করেন না ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এবং বাংলাদেশে ভারতের সাবেক ডেপুটি হাই কমিশনার সর্বজিৎ চক্রবর্তী৷ ডিডাব্লিউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা দূর হওয়া মুশকিল৷ কারণ, বাংলাদেশের জন্য যা কিছু করা যায়, তারপরেও তাদের একটা আশা থাকে, আরো কিছু করা হবে৷’’ তার মতে, ‘‘ইনফিলট্রেশন বা অনুপ্রবেশ এবং স্মাগলিং বা চোরাকারবার হলো সমস্যার মূল কারণ৷’’
প্রশ্ন: শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে৷ বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন কোনদিকে যাচ্ছে?
সর্বজিৎ চক্রবর্তী: ভালো দিকেই যাচ্ছে বলতে হবে৷ এটা তো সাধারণ ব্যাপার৷ শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ অনেকদিন ফেরত চেয়েছে৷ তারা আগে বলেছিল, তিনি যেন কোনো সাক্ষাৎকার না দেন৷ কিন্তু তার উপরে তো আমাদের কোনো হাত নেই৷ এটা আমরা ব্যবস্থা করিনি, আমরা সরকারিভাবে জড়িত নই৷ তিনি যা করেছেন নিজের প্রচেষ্টায় করেছেন৷ এরপর যদি ক্ষুব্ধ হয় সেটা তাদের ব্যাপার৷ এমন কিছু ক্ষুব্ধ হয়েছে বলে আমরা মনে করছি না৷ তারপরেই তো হাই-কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দেখা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে৷ আলোচনার পর স্বাভাবিকভাবেই তিনি দিল্লিতে এসেছেন সরকারিমহলে সবার সঙ্গে আলোচনা করতে৷ আমরা আশা করছি, তারেক রহমান সেপ্টেম্বরে দিল্লি আসবেন ব্রিকসের সম্মেলনে যোগ দিতে বিশেষ অতিথি হিসাবে এবং একটা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে৷ ফলে সম্পর্কটা যে নেতিবাচক তা তো বলা যাচ্ছে না৷
বলা হয়, ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হবে, ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কারণে৷ সেদিকেই কি এগোচ্ছে দুই দেশ? সম্পর্ক তো থাকবেই, কখনও সুসম্পর্ক থাকবে, কখনও থাকবে না৷ দুই প্রতিবেশীর মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন তো থাকে৷ দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক খারাপ নয়৷ ব্রিকসের সময় তারেক রহমান আসবেন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে, তখন কি সম্পর্কের জটিলতা দূর হবে?
সম্পর্কের জটিলতা দূর হওয়া মুশকিল৷ বাংলাদেশ হামেশাই আশা করে, আমরা তাদের জন্য যতটা সম্ভব করে দেব৷ যা কিছু করা যায়, তারপরেও তাদের একটা আশা থাকে, আরো কিছু হবে৷ আমাদের সেটা বুঝে চলতে হবে৷ বাংলাদেশ যদি ভালো থাকে, তাহলে আমাদের পক্ষেও ভালো৷ তারা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন৷ অর্থনীতি, কর্মসংস্থান নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন৷ আমাদেরও সুবিধা হবে৷ আমাদের সুবিধেই হবে৷ কারণ, বাংলাদেশ ও ভারত বাণিজ্যিক সম্পর্কটা বেশ ব্যাপক৷ সেটা নষ্ট হলে দুই পক্ষেরই ক্ষতি৷
তারেক প্রথম বিদেশ সফর হিসাবে চীন, মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছিলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো হচ্ছে, এটা কি ভারতের চিন্তার কারণ?নট রিয়েলি৷ আমাদের তো চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো আছে৷ আমাদের তো চিন্তার বিশেষ কারণ দেখি না৷
বাংলাদেশের কাছ থেকে ভারতের প্রত্যাশা কী?
বাংলাদেশের কাছে ভারতের প্রত্যাশা হলো, আমরা তাদের দরকারে যথাসম্ভব সাহায্য করব৷ তারা যা করেন, আমরা তা মেনে নেব৷ আমাদের বাংলাদেশকে নিয়ে একটাই সমস্যা বা গণ্ডগোল যাই বলুন৷ স্মাগলিং ও আসা যাওয়ার ব্যাপারটা৷ এটা আমরা বলি ইনফিলট্রেশন, ওরা বলেন মাইগ্রেশন৷ এই দুটোই হচ্ছে আসল প্রবলেম৷ স্মাগলিংটা বন্ধ, রেগুলারাইজ করা যেতে পারে৷ লোকজন তো আসা যাওয়া করবেন, তাদের যদি উদ্দেশ্য ভালো হয়, তাহলে কোনো অসুবিধা তো নেই৷ জার্মান বেটার ডয়চে ভেলের পক্ষে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গৌতম হোড়৷














