১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়েতে দীর্ঘদিনের বিলম্ব নিরসনে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (এমটিএ)র উদ্যোগ, সংস্কারের তালিকায় ২৫ স্পট

নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়েতে দীর্ঘদিনের বিলম্ব নিরসনে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (এমটিএ)র উদ্যোগ, সংস্কারের তালিকায় ২৫ স্পট

নিউইয়র্ক সাবওয়ে সিস্টেমে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও ট্রেনের বিলম্ব কমিয়ে আনতে নতুন একটি উদ্যোগ নিয়েছে তদারকি সংস্থা মেট্রোপলিটান ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি বা এমটিএ।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক সিটির সাবওয়েতে যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে ৭০টিরও বেশি ‘বটেলনেক’ বা যানজটপূর্ণ স্থানকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত যেসব জায়গায় একাধিক লাইনের ট্রেন একই ট্র্যাক ব্যবহার করে বা ট্র্যাকের কাঠামোগত কারণে ট্রেনের গতি কমাতে হয়, সেখানেই এই যানজটের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সৃষ্টি করে এমন ২৫টি স্পটকে সংস্কারের জন্য শীর্ষ তালিকায় রাখা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ব্রুকলিনে অবস্থিত।

শীর্ষ সংস্কার এর তালিকায় থাকা একটি উল্লেখযোগ্য স্থান হলো মার্টল অ্যাভিনিউ। এখানকার যাত্রীদের কাছে ট্রেনের বিলম্ব যেন নিত্যদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রিসিলা সুয়ারেজ নামের এক যাত্রী তার হতাশা প্রকাশ করে জানান, প্রতিদিন এই যানজট পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টকর একটি অভিজ্ঞতা।

মেট্রোপলিটান ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি
(এমটিএ) জানিয়েছে, সবগুলো সংস্কারের কাজ রাতারাতি শেষ হবে না। তবে তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ট্র্যাকের সুইচ আধুনিকীকরণ, ইন্টারলকিং সিস্টেমের উন্নয়ন এবং ব্যস্ত জংশনগুলোতে সাবওয়ে ট্রেনের চলাচল ব্যবস্থা নতুন করে সাজানো।

মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট অথরিটি বা এমটিএ-এর সিনিয়র প্ল্যানার লিয়াম ও’কনেল সিনিয়র জানান, টাওয়ার অপারেটররা এখনও কয়েক দশকের পুরোনো ম্যানুয়াল ইন্টারলকিং সিস্টেম ব্যবহার করে কাজ করছেন। জংশনে কোনো একটি ট্রেন মাত্র এক বা দুই মিনিট আগে-পরে পৌঁছালে, ছোট এই সমস্যাটিই অন্যান্য ট্রেনের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক বিলম্বের (ক্যাসকেডিং ডিলে) কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাবওয়ে সিস্টেমের ইতিহাসও এই সমস্যার অন্যতম একটি কারণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ ইয়র্ক সিটির আজকের এই সাবওয়ে ব্যবস্থা মূলত তিনটি আলাদা কোম্পানির তৈরি করা ভিন্ন ভিন্ন রেললাইন জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছিল।

ননপ্রফিট সংগঠন রাইডার্স অ্যালায়েন্স-এর পলিসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিরেক্টর ড্যানি পার্লস্টেইন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমটিএ শুরু থেকেই এই পরিস্থিতি সামলাতে এবং আধুনিক ব্যবস্থার সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। মানুষের মধ্যে

মেট্রোপলিটান ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি
(এমটিএ)র কার্যক্রম নিয়ে নানা সন্দেহ থাকলেও, প্রতিদিন যাতায়াতে যাত্রীদের যে সময়টা নষ্ট হয়, তা ফিরিয়ে দেওয়াই এই সংস্কার কর্মসুচির মূল লক্ষ্য। এমটিএ কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সাফল্য নতুন ট্র্যাক নির্মাণের মাধ্যমে পরিমাপ করা হবে না, বরং যাত্রীদের বেঁচে যাওয়া সময়ের মাধ্যমেই এর সার্থকতা প্রমাণিত হবে। ইতোমধ্যে ডিকালব এবং নস্ট্রান্ড জংশনের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সংস্কারের কাজ শুরু হয়ে গেছে।