ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র সিটিজেন অর্থাৎ প্রবীণ নাগরিকদের প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য বীমা ভর্তুকি কর্মসূচি বাতিল করতে যাচ্ছে। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)-এর প্রশাসক মেহমেত ওজ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচির সুবিধা মূলত কর্পোরেট বীমা কোম্পানিগুলো ভোগ করছে। ‘মেডিকেয়ার পার্ট ডি’ নামের এই কর্মসূচিটি মূলত সরকারি স্বাস্থ্য বীমার একটি অংশ, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক কোটি প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নাগরিক ওষুধের সুবিধা পেয়ে থাকেন।
ট্রাম্প প্রশাসন গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ঘোষণা দিয়েছে যে, চলতি বছরের শেষেই এই ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত আগামী ২০২৭ সাল থেকে পুরোপুরি কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং আসন্ন শরতেই গ্রাহকদের নতুন খরচের হিসাব জানিয়ে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তার মতে, এই পদক্ষেপের ফলে প্রায় অর্ধেক গ্রাহকের ওষুধের দাম ও মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্য নীতি বিষয়ক অলাভজনক সংস্থা কেএফএফ-এর প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকার বীমা কোম্পানিগুলোকে শত শত কোটি ডলার ভর্তুকি দেয়, যাতে জনপ্রতি ওষুধের প্রিমিয়াম গড়ে ৩৬ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এই ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নেওয়া হলে অনেকের ক্ষেত্রেই মাসিক প্রিমিয়াম ২০ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে যোগ্য প্রবীণরা ওজন কমানোর জন্য মাসে মাত্র ৫০ ডলারে জিএলপি-১ (GLP-1) ওষুধ পাওয়ার সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবেন।
ওবামা কেয়ার হিসেবে পরিচিত অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (এসিএ)-এর ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান খরচ যখন মার্কিন ভোটারদের কাছে একটি বড় ইস্যু, ঠিক তখনই এই সিদ্ধান্ত সামনে এল। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বাইডেন প্রশাসনের স্বাক্ষরিত ‘ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্ট’-এর তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেছেন যে, এর মাধ্যমে বীমা কোম্পানিগুলোকে আর্থিকভাবে অন্যায্য সুবিধা দেওয়া হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত আমেরিকানদের প্রিমিয়ামের বোঝাই ভারী হয়েছে। অন্যদিকে, ওই সময় বাইডেন প্রশাসন দাবি করেছিল যে এই আইনের ফলেই সরকার সবচেয়ে দামি কিছু ওষুধের দাম নিয়ে কোম্পানিগুলোর সাথে দরকষাকষির সুযোগ পেয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রথম প্রকাশিত এই খবরের পর স্বাস্থ্য খাতে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস বা সিএমএস প্রশাসক মেহমেত ওজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে লিখেছেন যে, তারা বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করছেন বলে বীমা কোম্পানিগুলোকে আর আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, বেশিরভাগ মেডিকেয়ার গ্রাহকের প্রিমিয়াম ১০ ডলারেরও কম বাড়বে এবং অনেকে উল্টো কম খরচে সেবা পাবেন। প্রবীণদের জন্য মাসে ৫০ ডলারে জিএলপি-১ ওষুধ নিশ্চিত করাসহ অন্যান্য দেশের সমমূল্যে মার্কিনিদের ওষুধ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে প্রশাসন কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রশাসনের দাবি, প্রায় অর্ধেক গ্রাহক ১০ ডলারেরও কম প্রিমিয়াম বৃদ্ধি বা প্রিমিয়াম হ্রাসের সুবিধা পাবেন এবং বেশিরভাগের জন্যই ১০ ডলার বা তার কম মূল্যের প্ল্যান উপলব্ধ থাকবে।















