৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

আমার সঙ্গী ভারতীয়’ ছেলের নাম শেখর, বর্ণবৈষম্য ও মুসলিমবিদ্বেষীর অভিযোগে জবাব দিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ ইলন মাস্ক

আমার সঙ্গী ভারতীয়’ ছেলের নাম শেখর, বর্ণবৈষম্য ও মুসলিমবিদ্বেষীর অভিযোগে জবাব দিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ ইলন মাস্ক

তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বর্ণবাদ ও মুসলিমবিদ্বেষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজের সঙ্গীর ভারতীয় বংশপরিচয় এবং তাঁদের সন্তানদের উদাহরণ সামনে এনেছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ ই ইলন মাস্ক। ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গী শিভন জিলিস অর্ধেক ভারতীয় এবং তাঁদের চার সন্তান রয়েছে। এ কারণেই নিজেকে বর্ণবাদী বলা ঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

গত ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ইলন মাস্ক বলেন, তাঁদের এক সন্তানের নাম রাখা হয়েছে বিখ্যাত ভারতীয় বংশোদ্ভূত পদার্থবিজ্ঞানী সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরের সম্মানে। নোবেলজয়ী এই বিজ্ঞানীর নাম অনুসারে মাস্ক ও জিলিসের যমজ ছেলেদের একজনের মধ্যনাম রাখা হয়েছে ‘সেখর’। নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রসঙ্গও তুলে ধরে মাস্ক দাবি করেন, তাঁর কোম্পানিগুলোর শীর্ষ পদে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ কাজ করছেন এবং সেখানে বর্ণবাদের কোনো উপস্থিতি তিনি দেখেন না।

টেক্সাসে টেসলার একটি কারখানায় ধারণ করা প্রায় ৯০ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দ্য ইকোনমিস্টের প্রধান সম্পাদক জ্যানি মিন্টন বেডোস। ইউরোপের অভিবাসন, মুসলিম জনগোষ্ঠী ও উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে মাস্কের ধারাবাহিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, এসব বক্তব্য বর্ণবাদী বা মুসলিমবিদ্বেষী কি না।

যুক্তরাজ্য নিয়ে আগের সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করে মাস্ক বলেন, পশ্চিমা মূল্যবোধের বিরোধী বিশ্বাস ধারণকারী কোনো জনগোষ্ঠী দ্রুত বাড়তে থাকলে একসময় সেখানে বড় ধরনের সংঘাত বা ‘হিসাব-নিকাশের পরিস্থিতি’ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কয়েক বছর ধরে তিনি যুক্তরাজ্যে যাননি। এর আগে তিনি দেশটিতে ভবিষ্যতে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

সাক্ষাৎকারে সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, তিনি মুসলিমবিদ্বেষী কি না। জবাবে মাস্ক স্পষ্টভাবে হ্যাঁ বা না বলেননি। তিনি বলেন, ধর্ষণ ও হত্যার বিরোধিতা করেন এবং পশ্চিমা বিশ্বে প্রচলিত আইন ও মূল্যবোধের বিপরীত কোনো বিধান চাপিয়ে দেওয়ারও বিরোধী। ইউরোপের যেসব রাজনৈতিক শক্তিকে সংবাদমাধ্যম ‘উগ্র ডানপন্থী’ হিসেবে বর্ণনা করে, তাদের তিনি নিরাপদ শহর, সুরক্ষিত সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রিত সরকারি ব্যয়ের দাবি তোলা ‘স্বাভাবিক মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মাস্কের বর্ণবাদবিরোধী এই আত্মপক্ষসমর্থন নতুন নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন বিনিয়োগকারী বিনোদ খোসলা তাঁকে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মনোভাব ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করলে মাস্ক একইভাবে শিভন জিলিসের ভারতীয় পরিচয় ও তাঁদের সন্তানের নামের উদাহরণ দিয়েছিলেন। জবাবে খোসলা বলেছিলেন, পরিবারের পরিচয় সামনে না এনে মাস্কের এমন বক্তব্য প্রকাশ করা এড়িয়ে চলা উচিত, যেগুলো মানুষের কাছে বর্ণবাদী বলে মনে হতে পারে।

মাস্ক অতীতে শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী বিশ্বে দ্রুত সংখ্যালঘু হয়ে পড়ছে বলে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন। তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিবাসন, জাতিগত পরিচয় ও ইউরোপের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মাস্ক অবশ্য বরাবরই বর্ণবাদ, ইহুদিবিদ্বেষ ও সহিংসতার সমর্থক হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

একই সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও কথা বলেন মাস্ক। তিনি স্বীকার করেন, রাজনীতিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জড়িয়ে পড়েছিলেন এবং কিছুটা ‘মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন’। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সম্মিলিত মানববুদ্ধিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেন তিনি।