৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র উদ্যোগে নিউইয়র্ক’র রাজধানী আলবেনীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র উদ্যোগে নিউইয়র্ক’র রাজধানী আলবেনীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

বিশ্বের রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্ক ষ্টেটের রাজধানী আলবেনীর ক্যাপিটাল হিলে বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সিনেট ও অ্যাসেম্বলী হাউজে সর্বসম্মতিক্রমে পৃথক পৃথক দুটি রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়েছে। রেজুলেশন দুটিতে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস স্থান পায়। বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র উদ্যোগে প্রথমবারের মতো গত ২৪ মার্চ মঙ্গলবার এবং ব্রঙ্কস বাংলাদেশী কমিউনিটির উদ্যোগে গত ২৩ মার্চ সোমবার ক্যাপিটাল হিলে ১০ম বারের মতো বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়।

বাংলাদেশ সোসাইটি : নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলী হাউজের একাধিক সদস্যের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের ‘আমব্রেলা সংগঠন’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক গত ২৪ মার্চ মঙ্গলবার নিউইয়র্ক ষ্টেটের রাজধানী আলবেনী’র ক্যাপিটাল হিলে বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। এদিন অ্যাসেম্বলী হাউজে একটি রেজ্যুলেশনও পাশ হয়।

অ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমার রেজুলেশনের প্রস্তাবটি উপস্থাপন করলে অ্যাসেম্বলীওম্যান কারিনেস রিয়েস, অ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিড ওয়েপ্রীন, অ্যাসেম্বলীওম্যান গ্রেস লী ও অ্যাসেমলীম্যান নাদের সায়িং সহ ৭ জন অ্যাসেম্বলী সদস্যর সমর্থনে হাউসে উপস্থিত শতাধিক সদস্য করতালির মাধ্যমে তা অনুমোদন করেন। ঐতিহাসিক এ মুহূর্তে বাংলাদেশ সোসাইটির নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসীরা হাউজে উপস্থিত ছিলেন। দিবসটি উদযাপনে ষ্টেট সিনেটর জন সি ল্যু ও সিনেটর নাথালিয়া ফার্নানডেজ সহ কয়েকজন ষ্টেট সিনেটর সমর্তন ও সহযোগিতা করেন।

এর আগে দুপুরে বাসযোগে বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মহিউদ্দীন দেওয়ান, ট্রাষ্টি বোর্ড সদস্য আজিমুর রহমান বোরহান, কাজী আজম ও নাঈম টুটুল, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র সভাপতি বদরুল হোসেন খান, বাংলাদেশী আমেরিকান সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আমীন মেহেদী সহ বিভিন্ন কমিউনিটির প্রায় অর্ধশত নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসী বাংলাদেশী আলবেনীতে পৌঁছে তাদের স্বাগত জানান অ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমার।

এই সময় বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন অ্যাসেম্বলীওম্যান কারিনেস রেয়েস, অ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন, অ্যাসেম্বলীওম্যান গ্রেস লি, অ্যাসেম্বলীম্যান নাদের সায়েগ সিনেটর জন সি লু ও সিনেটর নাথালিয়া ফার্নান্দেজ।

ঐতিহাসিক বিলটির প্রস্তাব পাসের পর বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেট এবং অ্যাসেম্বলী হাউজের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মকাÐের মাধ্যমে বাংলাদেশ সোসাইটি আমেরিকার মূলধারায় আরো এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সোসাইটির নেতৃবৃন্দ।

ষ্টেট অ্যাসেম্বলীতে গৃহীত পৃথক রেজল্যুশনে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়। রেজল্যুশনে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদান, বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার অবদান স্বীকার করে তাদের কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করা হয়। এতে আরো বলা হয় যে, নিউইয়র্ক সিটিতে ৮০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী বসবাস করছেন। আমেরিকার অর্থনীতি বিনির্মাণে তাদের ভূমিকা অনন্য। এ সময় উভয় কক্ষের জনপ্রতিনিধিরা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযথ সম্মান নিবেদন করেন। স্টেট সিনেটর ও অ্যাসেম্বলী সদস্যরা এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশী কমিউনিটির অবদানেরও উচ্ছ¡সিত প্রসংশা করেন।

এসময় বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মহিউদ্দীন দেওয়ান, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, ট্রাষ্টি বোর্ড সদস্য আজিমুর রহমান বোরহান, কাজী আজম ও নাঈম টুটুল সহ সোসাইটির অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কমিউনিটির বিশিষ্টজন সহ প্রবাসী বাংলাদেশীরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাপিটাল হিলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন প্রসঙ্গে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ আর স্বাধীনতার কথা নিউইয়র্ক ষ্টেটের রাজধানী আলবেনীর ক্যাপিটাল হিলে উত্থাপনের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের কথা আমেরিকার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। এই ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম জানবে। প্রবাসে জন্ম নেয়া ও বেড়ে উঠা আমাদের প্রজন্ম এই ইতিহাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে জানবে। খবর ইউএনএ-র