কুখ্যাত যৌন নিপীড়নকারী ধনকুবের জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ডেমোক্র্যাট এবং কয়েকটি বড় ব্যাংকের কথিত যোগসাজশ নিয়ে তদন্ত করবে মার্কিন বিচার বিভাগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি এবং এফবিআইকে এপস্টিনের সঙ্গে ক্লিনটন ও অন্যদের ‘সম্পৃক্ততা এবং সম্পর্ক’ খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডি বলেছেন, বিচার বিভাগ ‘জরুরিভিত্তিতে এবং সততার সঙ্গে’ বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। এই তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি মার্কিন অ্যাটর্নি জে ক্লেটনকে নিয়োগ দিয়েছেন।
মার্কিন কংগ্রেস এপস্টিনের হাজার হাজার ইমেইল প্রকাশ করার কয়েকদিন পরই ট্রাম্প এই তদন্তের অনুরোধ জানালেন। প্রকাশিত সেইসব ইমেইলে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামও উল্লেখ রয়েছে। মনোযোগ সরানোর চেষ্টা, অভিযোগ ডেমোক্র্যাটদের ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, এপস্টিনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে ওঠা প্রশ্ন থেকে মনোযোগ সরানোর জন্যই ট্রাম্প এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মার্কিন হাউস ওভারসাইট কমিটির প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রকাশিত ২,৩২৪টি ইমেইল থ্রেডের মধ্যে ১,৬০০টিরও বেশি থ্রেডে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রবার্ট গার্সিয়া বলেছেন, ট্রাম্প ‘এপস্টিনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে নতুন ও গুরুতর প্রশ্ন’ এড়াতেই নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছেন।
ক্লিনটনের পাশাপাশি ট্রাম্প জানান যে তিনি বিচার বিভাগকে ব্যাংক জেপিমরগ্যান চেজ, সাবেক ট্রেজারি সেক্রেটারি ল্যারি সামার্স এবং লিঙ্কডইন–এর প্রতিষ্ঠাতা ও ডেমোক্র্যাট দাতা রিড হফম্যানের সঙ্গেও অ্যাপস্টিনের যোগসূত্র তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘এপস্টিন একজন ডেমোক্র্যাট ছিল, এবং সে ডেমোক্র্যাটদের সমস্যা, রিপাবলিকানদের নয়! তারা সবাই তার সম্পর্কে জানে, ট্রাম্পকে নিয়ে সময় নষ্ট করবেন না। আমাকে দেশ চালাতে হবে!’ মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে আগামী সপ্তাহে এপস্টিন সম্পর্কিত সমস্ত ফাইল প্রকাশের বিষয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে, যার আগেই ট্রাম্প এই তদন্তের অনুরোধ করলেন।
ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডেলিতা গ্রিজালভার শপথ গ্রহণের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি হাউসে যোগ দিয়েই ফাইলগুলো প্রকাশের জন্য একটি ডিসচার্জ পিটিশনে স্বাক্ষর করেন। তার স্বাক্ষরটি ছিল ২১৮তম, যা ফ্লোর ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত স্বাক্ষর। এই পিটিশনে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে চারজন রিপাবলিকান সদস্যও যোগ দেন।
বুধবার প্রকাশিত নথিতে ২০১৭ সালে অ্যাপস্টিন ও ল্যারি সামার্সের ই-মেইল যোগাযোগ দেখা যায়। এক বার্তায় সামার্স তখনকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ে নিজের মতামত দেন—’বিরোধী, অর্থনীতি ইত্যাদির দিক থেকে ডি.জে.টি [ট্রাম্প] পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান মানুষ… তবু মনে করি, তার পৃথিবী একসময় ভেঙে পড়বে।’
সামারসের একজন প্রতিনিধি ২০২৩ সালে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ‘এপস্টিনের সাজার পরেও তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত’।
নথিগুলোতে এপস্টিন এবং তার দীর্ঘদিনের সহযোগী গিসলাইন ম্যাক্সওয়েলের মধ্যে ইমেইল চালাচালির তথ্যও রয়েছে, যিনি বর্তমানে যৌন পাচারের অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
২০১১ সালের এক ইমেইলে অ্যাপস্টিন ম্যাক্সওয়েলকে লিখেছেন: ‘তোমাকে বুঝতে হবে, যে কুকুরটি এখনো ঘেউ ঘেউ করেনি—সে হচ্ছে ট্রাম্প… [ভুক্তভোগী] তার সঙ্গে আমার বাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়েছে।’
ট্রাম্প বছরের পর বছর ধরে এপস্টিনের বন্ধু ছিলেন, তবে তিনি দাবি করেছেন যে ২০০০-এর দশকের শুরুতে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, যা ছিল এপস্টিনের প্রথম গ্রেপ্তারের দুই বছর আগে। ট্রাম্প বরাবরই এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, বিল ক্লিনটনও এপস্টিনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো কিছু জানার বিষয়টি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। জেপি মরগান চেজের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এপস্টিনের সঙ্গে তাদের ‘যেকোনো ধরনের সম্পর্ক’ থাকার জন্য তারা অনুতপ্ত এবং প্রতিষ্ঠানটি ‘তাকে তার জঘন্য কাজ করতে সাহায্য করেনি।’
কংগ্রেসকে উদ্দেশ্য করে লেখা এক চিঠিতে এপস্টিনের হাত থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা এবং তার বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া গিফ্রের পরিবার সব ফাইল প্রকাশের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনারা যখন ভোট দেবেন, আমরা ব্যালট বাক্সে আপনাদের সিদ্ধান্ত মনে রাখব।’

























