১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শরীরের জন্য কেন জরুরি ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড?

হজমের সমস্যা হলে এনজাইম, শরীরের দুর্বলতায় ভিটামিন আর হাড়ের ব্যথায় ক্যালশিয়াম—এই ধারণাগুলো বাঙালির কাছে বহুদিনের পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় এসেছে ভিটামিন ডি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। ভিটামিন ডি সম্পর্কে অনেকেই সচেতন হলেও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের গুরুত্ব এখনো সবার কাছে স্পষ্ট নয়। চিকিৎসকদের মতে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা মস্তিষ্ক, চোখ ও হার্টের সঠিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

এটি শরীরের প্রদাহজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং প্রিম্যাচিউর বার্থের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে। পুষ্টিবিদরা জানান, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, বীজ এবং সামুদ্রিক মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় এই উপাদান রাখা প্রয়োজন। তবে বয়সভেদে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের চাহিদাও ভিন্ন।

‘নিউট্রিশন রিসার্চ’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গাইডলাইন অনুযায়ী, ছয় মাস বা তার কম বয়সী শিশুদের মোট ফ্যাটের মধ্যে এটি থাকা উচিত ০.৩২ শতাংশ। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিদিন ৫৫ থেকে ২০০ মিলিগ্রাম ওমেগা-৩ প্রয়োজন। আর ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য দৈনিক ২৫০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ওমেগা-৩ গ্রহণ নিরাপদ।

অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের ডোজ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন ১১০ থেকে ২৫০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ওমেগা-৩ গ্রহণ করা যেতে পারে।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সহজ কিছু খাবার যোগ করলেই ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। প্রয়োজন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত। সূত্র: এই সময়