৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত

৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত

জনসহায়তা বা সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কায় ২১ জাানুয়ারী থেকে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার, ১৪ জানুয়ারী মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ ঘোষণা দেয়। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া, সোমালিয়াসহ এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের বহু দেশ।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে এটি অভিবাসী নন এমন ভিসা—যেমন পর্যটক, ব্যবসা, স্টুডেন্ট বা স্বল্পমেয়াদি ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ভিজিট ভিসার আবেদনকারীর সংখ্যাই যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সেক্রেটারি মার্কো রুবিও বলেন, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে জারি করা একটি বিস্তৃত নির্দেশনার আলোকে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এই পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়, যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর “পাবলিক চার্জ” বা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়,“ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করতে চায়। যারা আমেরিকান জনগণের অর্থ ও কল্যাণ সুবিধা ভোগ করতে আসে, তাদের প্রবেশ ঠেকানো হবে। এই ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে, যতক্ষণ না অভিবাসন যাচাই-বাছাই পদ্ধতি নতুন করে মূল্যায়ন করা হয়।”

বিশ্বকাপ ও অলিম্পিক ঘিরে অ-অভিবাসী ভিসার চাহিদা বাড়বে : পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, এই স্থগিতাদেশ পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসার ওপর প্রভাব ফেলবে না। বরং আগামী বছরগুলোতে এসব ভিসার চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ ও ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজন বা সহ-আয়োজন করবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অভিবাসন নীতি : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইতোমধ্যে আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ও অভিবাসী নন এমন ভিসা প্রক্রিয়া কঠোরভাবে সীমিত করেছে। নতুন এই সিদ্ধান্ত সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাস বা বৈধ অভিবাসনের জন্য আবেদনকারীদের আগেই প্রমাণ করতে হয় যে তারা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। তবে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে যেসব সরকারি সুবিধা অভিবাসীদের জন্য অযোগ্যতা সৃষ্টি করতে পারে, তার পরিধি ব্যাপকভাবে বাড়ান। সাম্প্রতিক নির্দেশনা সেই সীমা আরও কঠোর করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভিসা যাচাইয়ে আরও কঠোর মানদণ্ড : বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে অভিবাসীদের দূতাবাস অনুমোদিত চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা দিতে হয়। এতে যক্ষ্মার মতো সংক্রামক রোগ, মাদক বা মদ্যপানের ইতিহাস, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও সহিংসতার রেকর্ড যাচাই করা হয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু টিকাও বাধ্যতামূলক।

নতুন নির্দেশনায় এর সঙ্গে আরও বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এখন আবেদনকারীর—
বয়স, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষা ও দক্ষতা, অতীতে সরকারি সহায়তা নেওয়ার ইতিহাস, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা
এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে আবেদনকারীর ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য সাক্ষাৎকার ইংরেজিতে নেওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশনা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ আরও সীমিত হবে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিবাসীদের জন্য।

যেসব দেশের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত হচ্ছে : পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় যেসব দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হলো: আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার (বার্মা), কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কঙ্গো, কিউবা, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, আইভরি কোস্ট, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, ম্যাসেডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রিপাবলিক অব কঙ্গো, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।