৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যানে অনেক অভিবাসী কোনো না কোনো অপরাধে জড়িত

যুক্তরাষ্ট্রের পরিসংখ্যানে অনেক অভিবাসী কোনো না কোনো অপরাধে জড়িত Screenshot

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি অভিবাসী কোনো না কোনোভাবে নজরদারির মধ্যে থাকে। অভিবাসীদের সামান্য ব্যর্থতাও বড় করে সামনে আসে, অথচ তাদের সাফল্য সেভাবে আলোচনায় আসে না, এমন মন্তব্য করেছেন ‘পরিচয়’ পত্রিকার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাজমুল আহসান।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান ‘টক অব দ্য উইক’ এ অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বাস্তবতায় রক্ষণশীল মিডিয়া অভিবাসীদের নেতিবাচক ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে। ফলে একজনের জালিয়াতি বা অপরাধের খবর বড় হয়ে ওঠে, কিন্তু সফল অভিবাসীদের অবদান আড়ালেই থেকে যায়। এর ফলে কয়েকজনের ভুলের দায় পুরো কমিউনিটিকে বহন করতে হচ্ছে।

নাজমুল আহসান বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে যে কল্যাণভাতা সংক্রান্ত তালিকার কথা বলা হয়েছে, সেটি ট্রাম্প প্রশাসনের নিজস্ব কোনো রিপোর্ট নয়। বরং এটি বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও রাজনৈতিক জরিপের ফল। এসব জরিপে দেখা যায়, কোন দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কী ধরনের সহায়তা পেয়ে থাকেন। এ তথ্যই ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল মাধ্যমে তুলে ধরেন, যা পরে আলোচনায় আসে।

ওই জরিপ অনুযায়ী, ১২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের প্রায় ৫৪ দশমিক ৮ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পায়। তবে নাজমুল আহসান বলেন, সরকারি সুবিধা একটি নির্দিষ্ট আয়ের সীমার ভিত্তিতে দেওয়া হয়। আয় সেই সীমার নিচে থাকলে যেকোনো দেশের নাগরিকই এসব সুবিধা পেতে পারেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে সিস্টেম অপব্যবহারের ঘটনাও ঘটে আসছে।

চাইল্ড কেয়ার প্রোগ্রামে প্রতারণার অভিযোগে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, ইলিনয় ও মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল স্থগিত করা হয়েছে। যদিও নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুল ও সিনেটর চাক শুমার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, নাজমুল আহসান প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘদিন ধরে অপব্যবহার চললেও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলো কেন আগে ব্যবস্থা নেয়নি।

তিনি বলেন, ওয়েলফেয়ার ব্যবস্থার অপব্যবহার কেবল অভিবাসীরাই নয়, অনেক আমেরিকান নাগরিকও করেছেন। তবে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি চোখে পড়ছে। অভিবাসীবিরোধী মিডিয়ার মোকাবিলায় একজনের ভালো কাজ যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিউইয়র্ক সিটিতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার শিশু চাইল্ড কেয়ার প্রোগ্রামের ওপর নির্ভরশীল। তহবিল স্থগিত থাকলে অনেক পরিবারের জন্য শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থা সংকটে পড়বে। তবে নাজমুল আহসান জানান, গভর্নর ক্যাথি হকুল বলেছেন, ফেডারেল সহায়তা না পেলে রাজ্যের অন্য বাজেট থেকে অর্থ জোগাড় করে এসব প্রকল্প চালু রাখার চেষ্টা করা হবে।

সম্প্রতি মিনেসোটায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ‘ফিডিং আওয়ার ফিউচার’ এর মতো শিশু পুষ্টি, আবাসন ও মেডিকেড কর্মসূচির অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ একে রাজনৈতিক নাটক বললেও নাজমুল আহসান ঘটনাটিকে ‘খুবই হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত ভিসা বন্ড নীতি নিয়েও আলোচনা করেন নাজমুল আহসান। বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশকে এই নীতির আওতায় আনার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বি-১ ও বি-২ ভিসায় এসে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান শেষ হওয়ার পরও দেশে ফেরেন না। এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতেই ভিসা বন্ডের বিষয়টি এসেছে। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়; অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে ভিসা কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের ওপর।

এ ছাড়া মিনিয়াপোলিসে এক অভিবাসন অভিযানে আইস কর্মকর্তার গুলিতে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও মত দেন নাজমুল আহসান। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মুখোমুখি হলে শান্ত থাকা জরুরি। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে কোনো প্রতিক্রিয়া অনেক সময় প্রাণঘাতী পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

নাজমুল আহসান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিয়ে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, তারা কোনো না কোনো অপরাধে জড়িত। এই ধারণা ভাঙতে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল মিডিয়ার প্রয়োজন, যা বর্তমানে পর্যাপ্তভাবে নেই।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সোহানা নাজনীন এবং পরিচালনা করেন এইচ বি রিতা। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার ‘টক অব দ্য উইক’ অনুষ্ঠানটি প্রতি বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সময় রাত নয়টায় ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।