


সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সময়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন ও ইরানি আলোচকদের মধ্যে বৈঠকে অগ্রগতির খবরও পাওয়া গেছে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে, নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেবে—তা বিশ্ববাসী সম্ভবত ‘আগামী ১০ দিনের মধ্যেই’ (১ মার্চ) জানতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন ডিসিতে বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারী তার ‘বোর্ড অফ পিস’-এর উদ্বোধনী সভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের একটি অর্থবহ চুক্তি করতে হবে, অন্যথায় খারাপ কিছু ঘটবে।’
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সময়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন ও ইরানি আলোচকদের মধ্যে বৈঠকে অগ্রগতির খবরও পাওয়া গেছে। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা এবং কিছু রিপাবলিকান সদস্য। ট্রাম্প তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো কিছু বৈঠক’ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে ইরানের সঙ্গে অর্থবহ চুক্তি করা সহজ নয়। অন্যথায় খারাপ কিছু ঘটে।’
এর আগের দিন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করা ইরানের জন্য ‘খুবই বুদ্ধিমানের কাজ’ হবে। তিনি আরও জানান, ট্রাম্প এখনো তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের আশা করছেন। ট্রাম্প যখন প্রথম ‘বোর্ড অফ পিস’ ঘোষণা করেছিলেন, তখন ধারণা করা হয়েছিল এর লক্ষ্য গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের দুই বছরের যুদ্ধ বন্ধ করা এবং পুনর্গঠন তদারকি করা। তবে গত এক মাসে পর্ষদটির লক্ষ্য কেবল একটি সংঘাতে সীমাবদ্ধ নয় বলেই মনে হচ্ছে। প্রায় দুই ডজন দেশ নিয়ে গঠিত ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই পর্ষদ জাতিসংঘকে কোণঠাসা করার উদ্দেশ্যে গঠিত কি না—তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
গত বছরের জুনে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে। চলতি সপ্তাহে হোয়াইট হাউস নতুন হামলার বিকল্প নিয়েও আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরিসহ ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।
তবে বিবিসি জানতে পেরেছে, ইরানে সম্ভাব্য কোনো হামলার সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি ব্রিটিশ সরকার। অতীতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্র গ্লুচেস্টারশিয়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরে ব্রিটিশ ভূখণ্ড ডিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহার করেছিল।
স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ইরান তাদের সামরিক স্থাপনাগুলো শক্তিশালী করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে হুমকি দিয়ে বার্তা দিয়েছেন। খামেনির এক পোস্টে বলা হয়, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্রমাগত বলছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে। অবশ্যই, যুদ্ধজাহাজ সামরিক সরঞ্জামের একটি বিপজ্জনক অংশ। তবে ওই যুদ্ধজাহাজের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা ওই যুদ্ধজাহাজকে সাগরের তলে পাঠিয়ে দিতে পারে।’ এদিকে, মার্কিন কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সদস্য ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট রো খান্না এবং কেন্টাকির রিপাবলিকান থমাস ম্যাসি জানিয়েছেন, তারা ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের উদ্ধৃতি দিয়ে আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে ভোটাভুটির চেষ্টা করবেন। এই আইন সশস্ত্র সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা খতিয়ে দেখার অধিকার কংগ্রেসকে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রো খান্না লিখেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হবে বিপর্যয়কর। ইরান ৯ কোটি মানুষের একটি জটিল সমাজ, যাদের উল্লেখযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা এবং সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত হাজার হাজার মার্কিন সেনা পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর পরবর্তী সামরিক অভিযানের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়ার একই ধরনের একটি প্রস্তাব সিনেটের রিপাবলিকান সদস্যরা আটকে দিয়েছিলেন।













