প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাম হাতে কালশিটে দাগ দেখা গেছে। এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে ট্রাম্প নিজেই জানালেন এর কারণ। তিনি বলেছেন, সুইজারল্যান্ডে থাকার সময় টেবিলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে তাঁর হাতে এই অবস্থা হয়েছে।তিনি আরও জানান, কালশিটে পড়ার পর তিনি হাতে সামান্য ক্রিম লাগিয়েছেন।
এর আগে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও একই কথা বলা হয়েছিল। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে জানান, দাভোসে ‘বোর্ড অব পিস’ অনুষ্ঠানে নথিপত্রে সই করার সময় টেবিলে আঘাত পান প্রেসিডেন্ট। তাতেই হাতে কালশিটে পড়ে যায়।
তবে সামান্য আঘাতেই এমন দাগ কেন, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে তিনি নিয়মিত উচ্চমাত্রার অ্যাসপিরিন নেন। আর বেশি পাওয়ারের অ্যাসপিরিন খেলে শরীরে সহজেই কালশিটে পড়ে যায়।
ট্রাম্প বলেন, ‘হার্ট ভালো রাখতে চাইলে অ্যাসপিরিন খেতেই হবে। কিন্তু অ্যাসপিরিন খেলে আবার কালশিটে পড়ার ঝুঁকি থাকে। আমি বেশি পাওয়ারের ওষুধ খাই। ডাক্তার বলেছিলেন, ‘স্যার, আপনি যথেষ্ট সুস্থ, ওষুধ না খেলেও চলবে।’ কিন্তু আমি বলেছি, আমি কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।’
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালেও প্রেসিডেন্টের হাতে কোনো দাগ ছিল না। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানে ঢোকার সময় তাঁর হাত ঠিকই ছিল। কিন্তু টেবিলে বসে নথিপত্রে সই করার ১০ মিনিট পরই ওই দাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এর আগেও ট্রাম্পের ডান হাতে দীর্ঘ দিন ধরে কালশিটে দাগ দেখা গেছে। সিএনএন জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে ফেরার আগে থেকেই তাঁর এই সমস্যা ছিল। বিভিন্ন সময় তিনি মেকআপ বা ব্যান্ডেজ দিয়ে তা ঢাকার চেষ্টা করতেন। তবে গত বছরের শেষের দিকে বাম হাতে কালশিটে দাগ দেখা যাওয়ার পর তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
চলতি মাসের শুরুতে সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, চিকিৎসকের পরামর্শের চেয়ে বেশি মাত্রায় অ্যাসপিরিন সেবন করেন তিনি। তাঁর যুক্তি, ‘রক্ত পাতলা রাখতে অ্যাসপিরিন ভালো কাজ করে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের চিকিৎসক শন বারবাবেলা ওই সংবাদমাধ্যমকে জানান, ট্রাম্প দিনে ৩২৫ মিলিগ্রাম অ্যাসপিরিন নেন। মূলত উচ্চমাত্রার এই ওষুধ সেবনের কারণেই তাঁর শরীরে সহজে কালশিটে পড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে সাধারণত স্বল্প মাত্রার অ্যাসপিরিন সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়, যার পরিমাণ ৭৫ থেকে ১০০ মিলিগ্রাম। চিকিৎসকেরা সাধারণত ৮১ মিলিগ্রাম সেবনের কথা বলে থাকেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি আরও বলছে, অ্যাসপিরিন থেরাপির ক্ষেত্রে দৈনিক মাত্রা সাধারণত ৭৫ থেকে ৩২৫ মিলিগ্রামের মধ্যে হয়ে থাকে।