মিনেসোটা ষ্টেটে অভিবাসীদের তাড়ানোর অভিযানে নিয়োজিত প্রায় ৭০০ ফেডারেল এজেন্টকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত ৪ জানুয়ারী বুধবার হোয়াইট হাউজের সীমান্তবিষয়ক বিশেষ কর্মকর্তা (বর্ডার জার) টম হোমান এই ঘোষণা দেন। তবে ৭০০ এজেন্ট সরিয়ে নেওয়া হলেও সেখানে এখনও প্রায় ২ হাজার কর্মকর্তা মোতায়েন থাকছেন, যা ওই অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতাদের মতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি
চলতি বছরের শুরু থেকে মিনিয়াপোলিস ও এর আশপাশে হাজার হাজার সশস্ত্র অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামের এই নজিরবিহীন অভিযানের উদ্দেশ্য হলো অবৈধ অভিবাসীদের আটক ও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো। এই অভিযানকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মিনেসোটার নির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধ চলছে। এছাড়া বাসিন্দাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সহিংস সংঘাত ও দেশজুড়ে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে।
টম হোমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। কিছু কাউন্টি জেলের শেরিফদের কাছ থেকে ‘অভূতপূর্ব’ সহযোগিতা পাওয়ায় এজেন্টের সংখ্যা কিছুটা কমানো হচ্ছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মেয়াদে অভিবাসীদের বিতাড়নের কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। অভিবাসনবিরোধী এই অভিযান প্রতিদিন চলবে।
এই অভিযান নিয়ে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি বুঝতে পেরেছি যে আমাদের হয়তো কিছুটা নমনীয় হওয়া প্রয়োজন। তবে আপনাকে অবশ্যই কঠোর থাকতে হবে।
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে শুরু থেকেই এই অভিযানের বিরোধিতা করে আসছেন। তারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতেও মামলা করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের এই অতিরিক্ত মোতায়েনকে তারা স্থানীয় পুলিশের সংখ্যার চেয়েও বেশি এবং ব্যবসায়িক ও আবাসিক পরিবেশের জন্য ‘বিপর্যয়কর’ বলে অভিহিত করেছেন।
জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই অভিযানের পর থেকে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। বিশেষ করে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের পর রাজপথে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে। গত ৬ জানুয়ারি আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে রেনি গুড নামে এক মার্কিন নারী এবং তার দুই সপ্তাহ পর অ্যালেক্স প্রেটি নামে আরেক মার্কিন নাগরিক নিহত হন।
হোমান জানান, তার লক্ষ্য হলো মিনেসোটায় ফেডারেল এজেন্টের সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থায় অর্থাৎ ১৫০ জনে নামিয়ে আনা। তবে সেটি কবে নাগাদ হবে তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, মিনিয়াপোলিসের প্রধান কারাগারসহ অনেক শহরের পুলিশ অভিবাসন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের দাবি, অভিবাসীদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন করলে অপরাধের শিকার বা প্রত্যক্ষদর্শী অভিবাসীরা পুলিশের কাছে আসতে ভয় পাবে, যা জননিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।