৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির জন্য আত্মশুদ্ধি অপরিহার্য – মুনা’র এডুকেশন ক্যাম্পে ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমাম দেলোয়ার

ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির জন্য আত্মশুদ্ধি অপরিহার্য – মুনা’র এডুকেশন ক্যাম্পে ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমাম দেলোয়ার

পার্থিব জীবনে মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হলো আত্মিক পরিশুদ্ধি অর্জন করা। তাজকিয়া শব্দের অর্থ পবিত্রতা ও প্রবৃদ্ধি। আত্মার পবিত্রতা হলো কপটতা ও পাপাচার থেকে মুক্তি লাভ। আর প্রবৃদ্ধি হলো ঈমান ও উত্তম গুণাবলিতে নিজেকে সুসজ্জিত করা। একজন ঈমানদার ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির অপরিহার্য দাবি হলো আত্মশুদ্ধি। মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা)’র নিউইয়র্ক নর্থ জোনের এডুকেশন ক্যাম্পে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুনার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমাম দেলোয়ার হোসাইন এসব কথা বলেন। গত ২৯ মার্চ দিনব্যাপী এডুকেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয় কুইন্সে অবিস্থত মুনা সেন্টার অফ জ্যামাইকায় (মসজিদ আর রাইয়্যান)। এতে সভাপতিত্ব করেন নিউইয়র্ক নর্থ জোনের সভাপতি মমিনুল ইসলাম মজুমদার। পরিচালনা করেন জোনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান।

দুই শতাধিক সিনিয়র মেম্বার ও মেম্বারদের উপস্থিতিতে বিষয় ভিক্তিক আলোচনা করেন, মুনার সাবেক ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আবু আহমেদ নুরুজ্জামান, ডা: সাইদুর রহমান চৌধুরী, হারুন অর রশীদ, ন্যাশনাল এসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আহমদ আবু উবাইদা, আব্দুল্লাহ আল আরিফ, নাহার এর চেয়ারম্যান বিশিস্ট চিকিৎসক আতাউল হক ওসমানী, এমডি। দুপুরে খাবার উদ্বোধন করেন বিশিস্ট আইনজীবি ও কমিউনিটি এক্টিভিস্ট এটর্ণী মঈন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা: ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক সমাধান এর সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান, বিশিস্ট ব্যবসায়ী আবু নোমান মোহাম্মদ শাকিল, মুনা ন্যাশনাল ফাইনান্স এসিস্ট্যান্ট ডাইরেক্টর শেখ জালাল উদ্দিন, মুনা আলবেনী চ্যাপ্টার প্রেসিডেন্ট জিয়া উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমাম দেলোয়ার হোসাইন বলেন, তাজকিয়া নফস আত্মিক পরিশুদ্ধি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ভালোবাসা ও সান্নিধ্য লাভের এমন পথ যা পরিচ্ছন্ন এবং আল্লাহর বিধান অনুসারে পরিচালিত। আল্লাহর রাসুস (সা:) এর অনুসারী ও সৎকর্মশীলরাই এ পথে চলতে পারে। তিনি বলেন, আরবি তাজকিয়া শব্দের অর্থ পবিত্রতা ও প্রবৃদ্ধি। আত্মার পবিত্রতা হলো কপটতা ও পাপাচার থেকে মুক্তি লাভ। আর প্রবৃদ্ধি হলো ঈমান ও উত্তম গুণাবলিতে নিজেকে সুসজ্জিত করা। একই সঙ্গে যে পথ মুক্ত হবে সব ধরনের বিদআত, বিশ্বাস ও ম‚ল্যবোধের বিকৃতি থেকে। যে পথে চললে আত্মা পরিশুদ্ধ হয়, হৃদয় প্রশান্ত হয়, মনে সজীবতা আসে, ঈমান দৃঢ় হয়, আমলের সৌন্দর্য বাড়ে, চরিত্র সুন্দর হয়, সর্বোপরি মনুষ্যত্ব তৈরি হয়। ঈমান ও ইসলামের পরিপন্থী কোনো পথ ও পদ্ধতি উদ্দেশ্য নয়।

তিনি বলেন, বস্তুবাদী পৃথিবীর নৈরাজ্যের মধ্যেও আল্লাহর বহু বান্দা তাঁর আনুগত্য, ভালোবাসা ও সান্নিধ্য লাভে পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন ঈমানে পরিশুদ্ধার ফলে। ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যেক কর্মীকে বিশুদ্ধ ঈমান, নিষ্ঠাপ‚র্ণ আনুগত্য ও নিখাঁদ ভালোবাসার দীক্ষা নিয়ে জীবন পরিচালিত করতে হবে। তিনি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দরবারের সকলের দৃঢ় ঈমান এবং আত্মার পরিশুদ্ধতার জন্য দোয়া করেন।

অন্যান্য আলোচকবৃন্দ বলেন, রহমানের বান্দারা হবে, সর্বদা বিনয়ী, নম্র, ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার গুণে গুণান্বিত। তারা গর্ব ও অহঙ্কারসহ সকল অসদাচরণ পরিত্যাগ করে আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক উন্নয়নে রাতের সালাত ( কিয়ামুল লাইলে) অভ্যস্ত হতে হবে। আল্লাহর এ যমীনে আল্লাহর দাসত্ব প্রতিষ্ঠায় পৃথিবীর পথে-প্রান্তরে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তাওহীদের দাওয়াত পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। তারা আরো বলেন, দুনিয়া জীবন খুবই সীমিত, মানুষের আসল স্থান হলো আখেরাত। আখেরাতের অনন্ত জীবন সুন্দর ও স্বার্থক করার লক্ষ্যে দুনিয়াতে অনৈতিক কাজ পরিহার করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জোনের কার্যকরী কমিটির সদস্য, মাওলানা তোয়াহা আমিন খান, দিদারুল আলম, প্রসেফর দেলোয়ার মজুমদার, এডভোকেট আবুল হাসেম, নূরুস সামাদ চৌধুরী, মঞ্জুর আহমেদ, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, কায়কোবাদ কবির, সামসুল আলম প্রমুখ।