প্রখ্যাত বাংলাদেশি কার্ডিওলজিস্ট চৌধুরী এইচ আহসানকে সোসাইটি ফর কার্ডিওভাসকুলার অ্যাঞ্জিওগ্রাফি অ্যান্ড ইন্টারভেনশনস (SCAI)-এর আন্তর্জাতিক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
২৭ মার্চ তারিখে SCAI-এর প্রেসিডেন্ট জে ডন অ্যাবট স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আহসানের দুই বছরের মেয়াদ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে এবং ২০২৮ সালের SCAI সায়েন্টিফিক সেশনস পর্যন্ত বহাল থাকবে।
ঢাকা মেডিকেলের অন্যতম মেধাবী ছাত্র, স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত, সন্ধানীর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন—তিনি যুক্তরাজ্য থেকে এমআরসিপি ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্রে মেডিসিন ও কার্ডিওলজিতে কৃতিত্বের সঙ্গে ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে লাস ভেগাসে ইউনিভার্সিটি অব নেভাদায় বিভিন্ন সম্মানজনক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে তিনি কার্ডিওলজি ফেলোশিপ প্রোগ্রামের ডিরেক্টর এবং কার্ডিয়াক ক্যাথ ল্যাবের ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত।
চৌধুরী এইচ আহসান নেভাদা অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজির পদেও নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নর্থ আমেরিকা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সংগঠনটিকে একটি বৃহৎ ও উন্নত মানের প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার প্রয়াস চালিয়েছেন।
আমেরিকায় কোভিড-১৯ মহামারির সময় তাঁর সম্পাদনায় কোভিড চিকিৎসা বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বই প্রকাশিত হয়, যা সে সময় চিকিৎসকদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক ছিল। তাছাড়া, যখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভ্যাকসিন সংগ্রহে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন তিনি একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে ২৫ মিলিয়ন কোভিড ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে বাংলাদেশে পাঠাতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সহায়তায় তিনি হোয়াইট হাউসের কোভিড টিমে একজন আমেরিকান বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত হন।
সেই সময়ে চৌধুরী এইচ আহসান, অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দীন আহমেদ ও ডা. মাসুদুল হাসানের সঙ্গে একটি টিম গঠন করে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও প্রেরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ডা. জিয়াউদ্দীন আহমেদ ৮৫০টি ভেন্টিলেটর পাঠালে তাতেও তিনি সহযোগিতা করেন।
এছাড়াও, চৌধুরী এইচ আহসান প্রতিবছর বাংলাদেশে গিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বারডেমের ইব্রাহিম কার্ডিয়াক সেন্টার আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তিনি প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন।
নিজ এলাকা খুলনার বাগেরহাটে তিনি পরীক্ষামূলকভাবে একটি আন্তর্জাতিক মানের কার্ডিয়াক সেন্টার চালু করেছেন। বিশ্বজুড়ে তাঁর সম্মান ও পরিচিতি আমাদের গর্বিত করে। চৌধুরী এইচ আহসানের স্ত্রী একজন স্বনামধন্য নিউরোলজিস্ট এবং তাঁদের দুই ছেলে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে














