১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রমাণ যারা করতে পারবেন, তারাই অন্তর্বর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন-‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ বিল পাশ কংগ্রেসে

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রমাণ যারা করতে পারবেন, তারাই অন্তর্বর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন-‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ বিল পাশ কংগ্রেসে

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে যারা পারবেন, তারাই অন্তর্বর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন-‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ বিল পাশ হয়েছে কংগ্রেসে।

বিশ্ব জুড়ে নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাওয়া ট্রাম্প নিজ দেশে বেশ চাপের মুখে রয়েছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার কঠোর অভিবাসন নীতিসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের। এর মধ্যেই ট্রাম্পের অভিশংসন এড়াতে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ বিল অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদ। এ বিলের মাধ্যমে নভেম্বরের অন্তর্বর্তী নির্বাচনে ভোটদানের জন্য ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণ দেখাতে বাধ্য করা হবে। মূলত ট্রাম্পের অভিশংসন এড়াতেই এ কৌশল নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গত বুধবার বিলটি মূলত পার্টি-লাইনের ভোটে ২১৮-২১৩ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। পরবর্তী ধাপে বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উচ্চকক্ষ সিনেটে পাঠানো হবে। সেটিও রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় বিল পাস হতে কোনো বাধার মুখে পড়বে না।

‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ বা ‘সেভগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিব্লিটি’ নামে পরিচিত এই বিল অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ পাসপোর্ট বা জন্মসনদ দেখিয়ে যারা নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারবেন, তারাই অন্তর্বর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। ভোট দেওয়ার সময় ভোটারদের বৈধ ছবিসহ পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছ। এ ছাড়া বিলে বলা হয়েছে, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় যদি এসব নিয়ম অমান্য করা হয় তবে নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিলের পক্ষে রিপাবলিকানদের যুক্তি, এ নাগরিকত্ব যাচাই ভোটার প্রতারণা রোধের জন্য অপরিহার্য। ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, এই বিল মূলত রিপাবলিকানদের সুবিধা নিশ্চিত করবে। বিলটি লাখ লাখ ভোটারের ভোটাধিকারে প্রভাব ফেলবে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচনী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ দেবে। এ বিলের কারণে বিবাহিত নারীরা যারা নাম পরিবর্তন করেছেন তাদের জন্য ভোট দেওয়া কঠিন হবে। আনুমানিক ৬৯ মিলিয়ন নারী ও ৪ মিলিয়ন পুরুষের জন্মসনদ বর্তমান নামের সঙ্গে মেলে না।

হাউজের নির্বাচনী কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জো মোরেল বলেছেন, সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট হলো রিপাবলিকানদের ক্ষমতা স্থায়ী করার পরিকল্পনার অংশ। স্পিকার জনসন আমেরিকানদের ভোট দেওয়া কঠিন করতে এবং নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে রাখতে চাইছেন। নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিস রিপোর্ট অনুযায়ী, লাখ লাখ আমেরিকান নাগরিকের কাছে পাসপোর্ট, জন্মসনদ বা নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রয়োজনীয় নথি সহজলভ্য নয়।