১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ

বাংলাদেশে সব নির্বাচনের পরে আক্রান্ত সংখ্যালঘুরা’, ৯ দফা দাবিতে সরব হিন্দুরা

বাংলাদেশে সব নির্বাচনের পরে আক্রান্ত সংখ্যালঘুরা’, ৯ দফা দাবিতে সরব হিন্দুরা

ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির তরফ থেকে সভায় বলা হয়, ‘নির্বাচন নিয়ে সংখ্যালঘুদের অতীত অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বেদনার, একই সঙ্গে উদ্বেগ ও শঙ্কার। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ২০০৮ সালের নির্বাচন। এ ছাড়া স্বাধীনতার পর থেকে প্রত্যেকটি নির্বাচনে, নির্বাচনের আগে ও পরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হয়েছে।’

বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। এরই মাঝে বাড়ছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। এহেন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে ও পরে অন্তত এক মাস ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানাল বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। আজ ঢাকায় একটি মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির তরফ থেকে সভায় বলা হয়, ‘নির্বাচন নিয়ে সংখ্যালঘুদের অতীত অভিজ্ঞতা অত্যন্ত বেদনার, একই সঙ্গে উদ্বেগ ও শঙ্কার। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ২০০৮ সালের নির্বাচন। এ ছাড়া স্বাধীনতার পর থেকে প্রত্যেকটি নির্বাচনে, নির্বাচনের আগে ও পরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হয়েছে।’

এদিকে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনী প্রচারে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও বিদ্বেষকে প্রচারের হাতিয়ার বানানো হচ্ছে। আর বিগত দিনে নির্বাচনে পরাজিত দল হামলা ও নির্যাতন করেছে। দেখা গিয়েছে বিজয়ী দলও হামলা করে। আর নির্বাচনে হামলার মুখ্য শিকার হয় প্রধানত ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরা। ধর্মীয় সমাবেশে বিদ্বেষ ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সব সময় এক শঙ্কার মধ্যে রাখে।’

এই আবহে মোট ৯ দফা দাবি জানানো হয়েছে সভা থেকে। এক, রাজনীতি ও সব নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ হোক। দুই, ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করা হোক। তিন, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আইন আনা হোক। চার, নির্বাচনের আগে ও পরে ১ মাসের জন্য সংখ্যালঘুদের রক্ষার্থে সেনা মোতায়েন থাকুক। পাঁচ, সংখ্যালঘুদের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ছয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে নির্বিচারে চাকরিচ্যুত হওয়া সংখ্যালঘুদের পুনর্বহাল করতে হবে। সাত, সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও দোকানপাট, মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আট, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার করে ধৃতদের মুক্তি দিতে হবে। নয়, উল্লেখিত সব দাবি রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনী ইস্তেহারে রাখতে হবে।