১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

মক্কা থেকে যৌন অপরাধী এপস্টিনের কাছে পাঠানো হয়েছিল কাবার গিলাফের কাপড়

মক্কা থেকে যৌন অপরাধী এপস্টিনের কাছে পাঠানো হয়েছিল কাবার গিলাফের কাপড়

সদ্য প্রকাশিত কিছু এপস্টিন ফাইলে ইমেইলের এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে মক্কার পবিত্র কাবার গিলাফের (কিসওয়াহ) কয়েকটি টুকরো সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের কাছে এই কাপড় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের এই ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত-ভিত্তিক ব্যবসায়ী আজিজা আল-আহমাদি ও আবদুল্লাহ আল-মারি নামের এক ব্যক্তি কাবার গিলাফের তিনটি টুকরো পাঠানোর আয়োজন করছেন। কিসওয়াহ হলো একটি স্বর্ণখচিত কালো বস্ত্রখণ্ড, যা দিয়ে ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান কাবাকে আচ্ছাদিত করে রাখা হয়।

সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে কিসওয়াহর ধর্মীয় তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। প্রতি বছর কাবা শরীফের পুরনো গিলাফ সরিয়ে নতুন গিলাফ পরানো হয়। পুরনো গিলাফের অংশগুলোকে অত্যন্ত মূল্যবান স্মারক হিসেবে গণ্য করা হয়।

এপস্টিন ফাইলসে পাওয়া ইমেইলগুলো থেকে জানা যায়, এই পবিত্র কাপড়গুলো সৌদি আরব থেকে আকাশপথে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মাধ্যমে ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়েছিল। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ইনভয়েস তৈরি করা, কাস্টমমের অনুমোদন নেওয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে ডেলিভারি নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোর সমন্বয় করা হয়।

ইমেইলগুলোতে তিনটি আলাদা টুকরোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে: একটি কাবার ভেতর থেকে আনা, একটি ব্যবহৃত গিলাফের অংশ ও তৃতীয়টি একই উপাদানে তৈরি হলেও অব্যবহৃত। নথিতে দেখা যায়, চালানের সুবিধার্থে অব্যবহৃত টুকরোটিকে ‘শিল্পকর্ম’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।

২০১৭ সালের মার্চে এই পার্সেল এপস্টিনের বাড়িতে পৌঁছায়। এর অনেক আগেই এপস্টিন কারাগারে সাজা ভোগ করেছিলেন এবং নিবন্ধিত যৌন অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন।

একটি ইমেইলে আহমাদি সরাসরি এপস্টিনকে উদ্দেশ করে এই কাপড়ের ধর্মীয় গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে লেখেন: ‘এই কালো কাপড়টি সুন্নি, শিয়া ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের অন্তত ১ কোটি মুসলমান স্পর্শ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা কাবার চারপাশে সাতবার প্রদক্ষিণ করে এবং তারপর কাপড়টি স্পর্শ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। এই কাপড়ের ওপর তারা তাদের প্রার্থনা, ইচ্ছা, চোখের জল আর আশা জমা রাখে; যেন আল্লাহ তাদের সব প্রার্থনা কবুল করেন।’

তবে আজিজা আল-আহমাদির সঙ্গে এপস্টিনের কীভাবে পরিচয় হলো বা কেন এই অমূল্য ধর্মীয় নিদর্শনগুলো তাকে পাঠানো হলো, সে বিষয়ে ইমেইলগুলোতে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

অন্য কিছু ইমেইলে দেখা যায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় ‘ইরমা’ আঘাত হানার পর আহমাদি এপস্টিনের খোঁজখবর নিচ্ছেন। সে সময় এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপটি ঘূর্ণিঝড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আহমাদি বেশ কয়েক দিন ধরে এপস্টিনের সেক্রেটারির সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্বীপের অবস্থা ও তার শারীরিক সুস্থতা সম্পর্কে জানতে চান।

সেক্রেটারি উত্তরে লিখেছিলেন, ‘সবাই নিরাপদে আছেন, এটাই সবচেয়ে বড় কথা…কিছু স্থাপনা ভেঙে পড়েছে…গাছপালা উপড়ে গেছে…জেটির প্যাভিলিয়নগুলো নেই…রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী…বাইরে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে ঘরের ভেতরটা ঠিক আছে…চারপাশটা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে, তবে সব আবার মেরামত করা সম্ভব! খোঁজ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’ জবাবে আহমাদি লিখেছিলেন, ‘নতুন একটি তাঁবু পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি ;)’।

আহমাদি কখনো এপস্টিনের দ্বীপে গিয়েছিলেন কি না বা সেখানে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ড চলত সে সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন কি না, তা ইমেইলগুলো থেকে স্পষ্ট নয়। লিটল সেইন্ট জেমস নামের এই দ্বীপটি এপস্টিনের যৌন পাচার চক্রের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

আরেকটি বার্তায় দেখা যায়, আহমাদিকে একটি ডিএনএ পরীক্ষার কিট পাঠিয়েছেন এপস্টিনের দীর্ঘদিনের সহকারী লেসলি গ্রফ। তবে এটি ঠিক কী উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল, তা জানা যায়নি।

পুরো ইমেইল আদান-প্রদানে এপস্টিন নিজে আহমাদির সাথে খুব কমই সরাসরি কথা বলেছেন। একটি ইমেইলে আহমাদি গ্রফকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আমি নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়ার আগে কি আজ জেফরির বাড়িতে একটু ঢুঁ মারতে পারি? তাকে বিদায় জানাতে এবং জন্মদিনের শুভেচ্ছা দিতে চাই। মাত্র ১৫ মিনিট সময় লাগবে।’

এদিকে, একটি এফবিআই মেমোতে বলা হয়েছে, এপস্টিন মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করতেন। মেমোটিতে বলা হয়েছে, ‘এপস্টিন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার অধীনে গোয়েন্দা হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।’