১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশে হালাল পণ্য বাজার পাচ্ছেনা

বাংলাদেশের বাজারে ২০১৭ সালে সানসিল্ক হিজাব রিফ্রেশ নামে নতুন একটি শ্যাম্পু আনে বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার বাংলাদেশ। নতুন এ পণ্যের লক্ষ্য ছিল ক্রমবর্ধমান হিজাব ব্যবহারকারী নারী ভোক্তারা। দীর্ঘ সময় আবৃত মাথার চুলের বিশেষ যত্নের কথা মাথায় রেখে ইউনিলিভার বাংলাদেশে সানসিল্ক হিজাব রিফ্রেশ বাজারে নিয়ে আসে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির মোট শ্যাম্পুর বাজারে উল্লেখযোগ্য হিস্যা তৈরি করতে পারেনি হিজাব ব্যবহারকারী নারীদের জন্য আনা সানসিল্ক হিজাব রিফ্রেশ।

অন্য আরো পণ্যের ক্ষেত্রেও এমন উদাহরণ রয়েছে। যেমন অ্যারোমেটিক হালাল সাবান নামে একটি সাবান বাজারজাত হয়েছিল বাংলাদেশে। হালাল শব্দের ব্যবহার ও উপস্থাপন থাকা সত্ত্বেও পণ্যটি দীর্ঘমেয়াদে বাজারে টিকে থাকতে পারেনি। বিপণন বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, শুধু হালাল লেখা থাকলেই ভোক্তা দীর্ঘদিন একটি ব্র্যান্ডের প্রতি অনুগত থাকেন না। বরং গুণমান, দাম ও অভ্যাসই হালাল বা যেকোনো পণ্যের ভোক্তা ধরে রাখার প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, হালাল পণ্যের সনদ নিয়েছে দেশের এমন উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে কাজি অ্যান্ড কাজি টি এস্টেট, নেসলে বাংলাদেশ পিএলসি, ব্র্যাক চিকেন, এসিআই, প্যারাগন, স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড, কিশওয়ান এগ্রো প্রডাক্টস লিমিটেড, ইফাদ মাল্টি প্রডাক্টস, ইউনিলিভার বাংলাদেশ, প্রাণ ডেইরি, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ইস্পাহানি, বম্বে সুইটস, আব্দুল মোনেমসহ আরো বেশকিছু প্রতিষ্ঠান।

দেশের বড় করপোরেটগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে হালাল পণ্যের বিষয়ে সচেতনতার প্রভাব পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভোক্তা আচরণে এখন পর্যন্ত খুব একটা দৃশ্যমান না। সাধারণভাবে কিছু নির্দিষ্ট খাদ্য পণ্য ব্যতীত এ চিত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে শিল্প ও সেবা সব ধরনের পণ্যেই। এ কারণে শুধু খাদ্যপণ্যনির্ভর কোম্পানি ছাড়া তাদের মোট টার্নওভারে হালাল সনদ নেয়া পণ্যের হিস্যা এখনো অনেক কম।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালনাগাদ তালিকায়ও দেখা যাচ্ছে, কোম্পানিগুলোর হালাল সনদ নেয়া পণ্যের বেশির ভাগই খাদ্যপণ্য। বিপুল বৈচিত্র্যের পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন স্বাদের নর স্যুপের জন্য হালাল সনদ নিয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। চা জাতীয় পণ্যের জন্য হালাল সনদ নিয়েছে কাজি অ্যান্ড কাজি টি এস্টেট। নুডলস ও সিরিয়াল পণ্যের জন্য নিয়েছে নেসলে বাংলাদেশ। ফ্রেশ চিকেন ও হিমায়িত খাদ্যের জন্য নিয়েছে ব্র্যাক চিকেন। ময়দার জন্য হালাল সনদ নিয়েছে এসিআই পিওর ফ্লাওয়ার। চিকেন নাগেটসসহ এ ধরনের বিভিন্ন খাদ্যপণ্যসহ বিস্কিট জাতীয় পণ্যের জন্য সনদ নিয়েছে প্যারাগন। চানাচুর, হালিম মিক্স থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্যের জন্য হালাল সনদ নিয়েছে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ। কিশওয়ান এগ্রো প্রডাক্টসের হালাল সনদের আওতায় থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে অ্যারোমেটিক চিনিগুঁড়া রাইস, অ্যারোমেটিক কালিজিরাসহ আরো অনেক পণ্য। ইফাদ মাল্টি প্রডাক্টস লিমিটেডের হালাল সনদপ্রাপ্ত পণ্যের পণ্যে আছে বিস্কিট, কেক, নুডলস, চিপসসহ আরো অনেক পণ্য। প্রাণ ডেইরির হালাল সনদপ্রাপ্ত পণ্যের মধ্যে রয়েছে পরাটা, সমুচা, শিঙাড়াসহ আরো বেশকিছু পণ্য।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটা আমাদের ব্যর্থতা যে আমরা হালাল পণ্যের ধারণাকে ক্যাপিটালাইজ করতে পারিনি। একটা ভালো মার্কেট আছে কিন্তু প্রচারের মাধ্যমে বাজার গড়ে তোলার পাশাপাশি এ বাজারের সুবিধা আদায় করা যায়নি। আমাদের দেশে স্থানীয় পর্যায়ে হালাল পণ্য জনপ্রিয় না হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে মুসলিম দেশ বলে ভোক্তারা মনে করেন সবই বোধহয় হালাল। এ রকম মনোভাব কাজ করে বিধায় এটার আর আলাদা প্রয়োজনীয়তা ভোক্তা পর্যায়ে অনুভব করেন না। আমরা যখন বিদেশে যাই, বিশেষ করে নন-মুসলিম কান্ট্রিতে, ইউরোপ-আমেরিকায়—ওইখানে হারাম-হালালের পার্থক্য করার প্রয়োজন হয়। দেরিতে হলেও বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন হালাল সনদ দিতে শুরু করেছে। এখন বিএসটিআইও দিচ্ছে, এগুলো ইতিবাচক দিক। আমার ধারণা যে অন্য ছোট উৎপাদনকারীরাও এ ফ্যাসিলিটিসটা আগামী দিনে গ্রহণ করতে পারবে এবং এক্সপোর্ট মার্কেটে একটা কম্পিটিটিভনেস ক্রিয়েট করতে পারবে।’

২০২৫ সালের এপ্রিলে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন ইন সোশ্যাল সায়েন্স (আইজেআরআইএসএস) প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ মুসলিম। এ বিপুল জনগোষ্ঠী ব্যাংকিং, খাদ্য ও পানীয়, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ওষুধ শিল্প, পর্যটন, ফ্যাশনসহ বিভিন্ন খাতে হালাল পণ্যের ধারণার প্রতি ক্রমবর্ধমান ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, এ কথা ঠিক যে হালাল পণ্যের প্রতি ইতিবাচক প্রবণতা বাড়ছে কিন্তু ভোক্তা আচরণে এর সক্রিয় প্রতিফলন এখন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়নি। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে স্থানীয় পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে সব পণ্যই হালাল এমন ধারণা পোষণ করেন ভোক্তারা। আবার বৈশ্বিক পর্যায়ে হালাল পণ্যের বড় বাজার থাকলেও সরকারি নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোর দুর্বলতায় হালাল পণ্যের রফতানি বাজারে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারছে না বাংলাদেশ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আ. ছালাম খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হালাল পণ্যের বাজার শক্তিশালী হচ্ছে না কারণ বাংলাদেশে চর্চার ঘাটতি আছে। ফলে সম্ভাবনা থাকলেও হালাল পণ্যের বাজার নিয়ে আমরা ব্যাপক প্রচারণা করতে পারিনি। যেমন অনেকেই এখনো জানে না যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন হালাল সার্টিফিকেট দেয়। বাংলাদেশে সমস্যা হচ্ছে হালাল স্বীকৃতি কে দেবে সে বিষয়টিও স্পষ্ট না। মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন দিলেও (হালাল সনদ) এখন বিএসটিআই থেকেও হালাল সনদ দেয়া হচ্ছে।’

বাংলাদেশের বাজারে হালাল পণ্যের প্রসঙ্গটির জোরদার অবতারণা ঘটে ২০০০ সাল-পরবর্তী সময়ে। ২০০৫ সালে পাবনাস্থ বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড মালয়েশিয়া ও দুবাইতে মাংস রফতানি করতে গেলে আলোচনায় আসে হালাল সনদ গ্রহণ ও প্রাপ্তির বিষয়টি। বেঙ্গল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করলে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে মাংসে হালাল সনদ প্রদানের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন দায়িত্ব পালন করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, হালাল সনদ প্রদান শুরু হয় ২০০৭ সালে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যদ্রব্য, ভোগ্যপণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস ও প্রসাধন সামগ্রীর ২৫৬টি প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন থেকে হালাল সনদ নিয়েছে। এ সনদের আওতায় থাকা পণ্যের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। এর মধ্যে ৭৬টি কোম্পানি ছয় শতাধিক পণ্য হালাল সনদ নিয়ে বিশ্বের ৪৬টি দেশে রফতানি করেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, অনেক সম্ভাবনা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হালাল পণ্যের শক্তিশালী বাজার গড়ে না ওঠার পেছনে অন্যতম কারণ হলো হালাল পণ্য নিয়ে ভোক্তাসাধারণ ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অসচেতনতা। আর রফতানি বাজার শক্তিশালী না হওয়ার পেছনে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দুর্বলতা হলো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃত কাঠামো ও প্রচারণার ঘাটতি।

বৈশ্বিক গবেষণার (প্রিসিডেন্স রিসার্চ) তথ্য অনুযায়ী, হালাল খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারের আকার ২০২৫ সালে ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এটি ৯ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০৩৪ সাল হালাল খাদ্যপণ্যের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধির হার হবে ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ।

গবেষকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে হালাল খাদ্যপণ্যের যেটুকু চাহিদা বেড়েছে তার পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হলো হালাল সনদের সুফল সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি—বিশেষত খাদ্যনিরাপত্তা ও মানসম্পর্কিত বিশ্বাস। তবে এ ইতিবাচক প্রবণতা সত্ত্বেও হালাল খাদ্য শিল্প এখনো সঠিকভাবে বাজারে অবস্থান নির্ধারণে ব্যর্থ হচ্ছে এবং ধারাবাহিক ভোক্তা আকর্ষণের কৌশল স্পষ্ট করতে পারছে না।

আন্তর্জাতিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দিনারস্ট্যান্ডার্ডের দ্য স্টেট অব গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্ট ২০২৪-২৫ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে হালাল খাদ্যপণ্যের সম্ভাবনাময় বাজার প্রায় ১৩৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের। হালাল পোশাকের সম্ভাবনাময় বাজার ১৭ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারের। আর হালাল প্রসাধনীর সম্ভাবানময় বাজার ৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।

বিপণনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের বেশির ভাগ মানুষের ধারণা ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশের পণ্য এমনিতেই হালাল। কাজেই পণ্যটির হালাল সনদ আছে কি নেই তা নিয়ে তারা মাথা ঘামান না। হালাল-হারাম চিন্তা আসে মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজার ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের হলেও সেখানে বাংলাদেশের বড় অংশগ্রহণ নেই। এর কারণ হিসেবে তারা মনে করেন, দেশের হালাল সনদের পণ্য বিদেশে মূলত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এছাড়া, বাংলাদেশের হালাল সনদ দেয়ার কর্তৃপক্ষের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পরিসর সীমিত হওয়াও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হালাল ধারণার অস্পষ্টতা হালাল পণ্যের বাজার না বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। ভোক্তা জানেন না হালাল মানে কী, কোন পণ্য হালাল, আর কোনটি নয়। এছাড়া রয়েছে সনদ দুর্বলতা। হালাল সার্টিফিকেশন এখনো বাংলাদেশে বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করতে পারেনি। দেশের অনেক ভোক্তা বিষয়টিকে অনেক সময় ‘মার্কেটিং কৌশল’ হিসেবে দেখেন। এছাড়া হালাল পণ্য মানেই আলাদা গুণমানসম্পন্ন এমন ধারণাও তৈরি হয়নি।

ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ বাংলাদেশের (এনবিইআর) চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হালাল পণ্যের বাজার সৃষ্টি ও তদারকির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ রয়েছে। তবুও সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, ইসলামিক ভাবধারার সামাজিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বাজার অর্থনীতিতে হালাল ধারণাভিত্তিক ব্যবসা কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারছে না। এর একটি প্রধান কারণ পণ্য পার্থক্যকরণ কৌশলে ব্যর্থতা। হালাল পণ্যের ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী বা বিপণনকারীরা ব্যর্থতা দেখাচ্ছেন। পণ্য পার্থক্যকরণের মূল দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে অনন্য বিক্রয় প্রস্তাব বা ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন। এছাড়া প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরিতে ব্যর্থতার পাশাপাশি রয়েছে বাজারে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরে ক্রেতা আকর্ষণ করতে না পারা। আরো রয়েছে অনুধাবিত মূল্য। বর্তমানে বিপণনকারীরা বা উৎপাদনকারীরা তাদের পণ্যের পক্ষে ক্রেতার মনে অনুধাবিত মূল্য বৃদ্ধি বা সৃষ্টি করতে পারছেন না।’