৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে প্রতিদিনের যে অভ্যাস

বর্তমান সময়ের অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস ও হজমজনিত সমস্যা ঘরে ঘরে পৌঁছেছে। তবে এই জটিল সমস্যা নিয়ন্ত্রণে কোনো কঠিন ডায়েট বা দামী ওষুধ নয়, বরং প্রতিদিনের একটি ছোট্ট অভ্যাস জাদুর মতো কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবেলা খাবারের পর মাত্র ১০ মিনিট হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অত্যন্ত কার্যকর।

স্পোর্টস মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত ২০২২ সালের একটি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, খাবারের পর মাত্র ২ থেকে ৫ মিনিট হাঁটলে রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। হাঁটার ফলে শরীর ইনসুলিনকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে, যার ফলে গ্লুকোজ দ্রুত কোষে প্রবেশ করে এবং রক্তে জমে থাকার সুযোগ পায় না। এটি বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য জীবন রক্ষাকারী অভ্যাস হতে পারে।

হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠির মতে, খাওয়ার পর প্রায় ১ হাজার পদক্ষেপ বা ১০ মিনিট হাঁটলে পাচনতন্ত্র সক্রিয় হয়। এতে খাবার দীর্ঘক্ষণ পাকস্থলীতে আটকে থাকে না, ফলে গ্যাস, পেটফাঁপা ও বুকজ্বালার মতো সমস্যা কমে। ‘জার্নাল অব গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল লিভার ডিজিজ’ জানিয়েছে, এই অভ্যাসটি অন্ত্রের ওপর চাপ কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম’- এর ঝুঁকিও কমায়।

অনেকেই খাওয়ার পর ঝিমুনি বা অলসতা অনুভব করেন। হালকা হাঁটা শরীর থেকে এই জড়তা দূর করে এবং শরীরে হালকা বোধ তৈরি করে। এছাড়া ধীরে হাঁটার ফলে মানসিক চাপ কমে এবং দিনের বাকি সময় কাজের প্রতি মনোযোগ বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসের জন্য বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন নেই। খাবার শেষ করার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে হাঁটা শুরু করুন। খুব দ্রুত হাঁটার প্রয়োজন নেই; স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্যময় গতিতে হাঁটুন। সম্ভব হলে খোলা জায়গায় বা বাড়ির ছাদ/বারান্দায় হাঁটতে পারেন।

পরিশেষে, সুস্বাস্থ্যের জন্য বড় কোনো পরিবর্তনের চেয়ে প্রতিদিনের এই ছোট অভ্যাসটি দীর্ঘমেয়াদে বড় সুফল বয়ে আনতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও সুস্থ অন্ত্রের জন্য খাবারের পর ১০ মিনিটের এই বিনিয়োগ হতে পারে আপনার সেরা সিদ্ধান্ত।