৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

গ্রিনল্যান্ড কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হতে পারে ৭০০ বিলিয়ন ডলার; ৮০ শতাংশ আমেরিকানই কিনতে চায় না

গ্রিনল্যান্ড কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হতে পারে ৭০০ বিলিয়ন ডলার; ৮০ শতাংশ আমেরিকানই কিনতে চায় না

গ্রিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই রণহুঙ্কার ক্যাপিটল হিলেই বাধার মুখে পড়েছে। এমনকি তার কিছু রিপাবলিকান মিত্র—যারা ভেনিজুয়েলায় তার প্রশাসনের সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেছিলেন—তারাও এই ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণ করছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কেনার লক্ষ্য পূরণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ৭০০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এ বিষয়ে অবগত তিন ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছে।

এই হিসাবটি তৈরি করেছেন শিক্ষাবিদ ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা। আর্কটিক অঞ্চলে আমেরিকার প্রধান শত্রুদের বিরুদ্ধে কৌশলগত রক্ষাকবচ হিসেবে ৮ লাখ বর্গমাইলের এই দ্বীপটি অর্জনের যে আকাঙ্ক্ষা ট্রাম্পের রয়েছে, এটি তারই পরিকল্পনার অংশ। এই মূল্যতালিকাটি ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিরক্ষা দপ্তরের বার্ষিক বাজেটের অর্ধেকেরও বেশি। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে আটক করতে মার্কিন সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে তার আচরণ ইউরোপ এবং ক্যাপিটল হিল জুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ডেনমার্ক রাজ্যের অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র ‘যেভাবেই হোক’ গ্রিনল্যান্ড দখল করবে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড কেনার একটি প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবং ট্রাম্প এই পরিকল্পনাকে ‘উচ্চ অগ্রাধিকার’ হিসেবে দেখছেন।

বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের উদ্দেশ্য ও প্রস্তাব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতেই তারা ওয়াশিংটনে সফর করছেন। এর আগে গত সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নিম্নপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রিনল্যান্ড কোনো প্রস্তাব দিতে পারে কি না—রোববার সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাদের সঙ্গে একটা চুক্তি করতে চাই। এটা সহজ হবে। কিন্তু কোনো না কোনোভাবে আমরা গ্রিনল্যান্ড পাবোই।’

বুধবারের বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে গ্রিনল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে একই বার্তা পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে পৌঁছে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ড বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন হতে চায় না, তাদের দ্বারা শাসিত হতে চায় না কিংবা তাদের অংশ হতেও চায় না। আমরা আজ গ্রিনল্যান্ডকে যেভাবে চিনি—অর্থাৎ ডেনমার্ক রাজ্যের অংশ হিসেবে—তাকেই বেছে নিচ্ছি।’

গ্রিনল্যান্ডের ব্যবসা ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী নাজা নাথানিয়েলসেন মঙ্গলবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আসা বার্তাগুলো গ্রিনল্যান্ডবাসীদের মধ্যে এতটাই উদ্বেগের সৃষ্টি করছে যে তাদের ঘুমাতেও কষ্ট হচ্ছে।