২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

বাংলাদেশ সোসাইটি, নিউ ইয়র্ক এর বিশেষ সাধারণ সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধন – কমিটির মেয়াদ হলো ৩ বছর; বাড়লো আরো ২টি সম্পাদকীয় পদ ও জ্যামাইকার ভবন ক্রয় হচ্ছে না

বাংলাদেশ সোসাইটি, নিউ ইয়র্ক এর বিশেষ সাধারণ সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধন – কমিটির মেয়াদ হলো ৩ বছর; বাড়লো আরো ২টি সম্পাদকীয় পদ ও জ্যামাইকার ভবন ক্রয় হচ্ছে না

বাংলাদেশ সোসাইটির বিশেষ সাধারণ সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়েছে। সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের সভাপতিত্বে গত ১৫ ফেব্রুয়ারী, রোববার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কসিটির উডসাইডের কুইন্স প্যালেসে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে গঠনতন্ত্র সংশোধিত হয়। সভায় সোসাইটির কার্যকরী কমিটির মেয়াদ ২ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর, কার্যকরি পরিষদ ১৯ সদস্যে স্থলে বৃদ্ধি করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট এবং তিন বছরের জন্য চাঁদা ৩০ ডলার ধার্য করা হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কার্যকরী পরিষদে নতুন পদের মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও ইয়ুথ এবং আইটি বিষয়ক সম্পাদক যুক্ত করা হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের জানুয়ারী থেকে কার্যকর হবে।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সোসাইটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক জামিল এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী । সভামঞ্চে ট্রাষ্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, গঠনতন্ত্র সংশোধনী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন খান, সদস্য সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ, তাজুল ইসলাম এসএমএ রহমান সেলিম ও রিজু মোহাম্মদ উপবিষ্ট ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম বিশেষ সাধারণ সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রবাসে মাদার সংগঠন হিসাবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটির এ সাধারণ সভা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সভায় আমাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটি তাদের সংশোধনী উপস্থাপন করবেন। সংগঠনের স্বার্থেই আমরা সংশোধনীগুলো এনেছি। আজকের সভায় যা পাশ হবে তা আগামী কমিটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। আমাদের কমিটি ২ বছরের জন্যই থাকবে।

সভায় সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গঠনতন্ত্র সংশোধনী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন খান তার বক্তব্যে বলেন, এবারের সংশোধন বাংলাদেশ সোসাইটির ৬ষ্ঠ গঠনতন্ত্র সংশোধনী। আমরা মোট ৪৩ ক্লজে সংশোধনী করেছি। যার মধ্যে ২৪টি মত উপস্থাপন করছি। এক এক করে তিনি সংশোধনী উপস্থাপন করেন। অধিকাংশ সংশোধনীর সঙ্গে সবাই একমত থাকলেও কার্যকরী কমিটির মেয়ার তিন বছরের বিপক্ষে ছিলেন কেউ কেউ। তবে পাস হয় সব সংশোধনীই। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- কার্যকরি কমিটির মেয়াদ ২ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর। কার্যকরি পরিষদের ১৯ পদের স্থলে করা হয়েছে ২১ পদ। নতুন পদের মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক ও ইয়ুথ এবং আইটি বিষয়ক সম্পাদক। তিন বছরের জন্য চাঁদা ধার্য করা হয়েছে ৩০ ডলার। আরো একটি সংশোধনী পাস হয়, সেটি হলো- বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকান্ড নিয়ে কেউ মামলা করতে পারবেন না। তবে নির্বাচন নিয়ে মামলা করতে পারবেন। এই সংশোধনী যেকেউ অধিকার হরণ উল্লেখ করে মামলা করতে পারেন। যিনি কোর্টে মামলা করবেন তার ব্যয় তাকেই বহন করতে হবে।

সভায় শাহ নেওয়াজ বলেন, আমরা সোসাইটির ভবন ক্রয়ের জন্য কুইন্সের জ্যামাইকায় যে ভবনটি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেটির কন্ট্রাক্ট সাইন করতে গিয়ে শর্ত দেয়া হয় যে ভবনটিতে যেসকল ভায়োলেন্স রয়েছে তা সহ কন্ট্রাক্ট সাইন করতে হবে। কিন্তু তা সম্ভব নয় বলে আমরা ভনটি ক্রয় থেকে পিছিয়ে এসেছি এবং জামানতও ফিরিয়ে নিয়েছি। তবে হতাশ হয়ার কিছু নেই। আমরা নতুন ভবন খুজছি এবং যা করার সবাইকে নিয়ে ও জানিয়েই তা করা হবে। সভার শেষ পর্যায়ে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সোসাইটির কার্যকরী পরিষদ ও ট্রাষ্টি বের্ডের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।

সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম বিশেষ সাধারণ সভা সফল করার জন্য উপস্থিত সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন আজকের সভায় গৃহীত সংশোধিত সিদ্ধান্তগুলো আগামী বছরের জানুয়ারী মাস থেকে কার্যকরী হবে।
উল্লেখ্য, সভায় সোসাইটির সদস্যদের উপস্থিতি কম থাকায় এনিয়ে সাবেক কর্মকর্তা জামান তপন প্রশ্ন তুলে বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান সদস্য অনুযায়ী ১৯১ জন সদস্য প্রয়োজন, কিন্তু উপস্থিত রয়েছে ১৪৪ সদস্য। এত কোরাম হয়নি। এসময় সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এটা বিশেষ সাধারণ সভা, আগের সাধারণ সভার এক্সটেনশন। এখানে কোরামের কোনো প্রয়োজন বা বিষয় নেই। খবর ইউএনএ’র।