১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র
অ্যান্ড্রু কোরিবকো

রাশিয়া–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমন বিশ্ব অর্থনৈতিক কাঠামোর বিপ্লব ঘটাতে পারে

রাশিয়া–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমন বিশ্ব অর্থনৈতিক কাঠামোর বিপ্লব ঘটাতে পারে

ইউক্রেনে সংঘাতের অবসানের পর যৌথ কৌশলগত সম্পদে বিনিয়োগ—বিশেষ করে, জ্বালানি ও বিরল খনিজ খাতে—যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সহায়তা করতে পারে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ; যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এটি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হতে পারে, যা ওয়াশিংটনের কৌশলগত লক্ষ্য আরও এগিয়ে নেবে।

বাস্তবে, কৌশলগত নথিটির এশিয়া বিষয়ক অংশের বড় অংশই চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রতিযোগিতা নিয়ে নয়—যদিও তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগরে প্রতিরোধমূলক প্রচেষ্টার কথাও রয়েছে। তবে মূল জোর দেওয়া হয়েছে, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ওপর। আর সেই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা কীভাবে পশ্চিমা বিশ্বকে চীনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে।

এমনকি এতে “আফ্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে যৌথ সহযোগিতা”-র প্রস্তাবও রয়েছে, যার লক্ষ্য ধাপে ধাপে চীনের সংশ্লিষ্ট সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর সম্মিলিত নির্ভরতা কমানো এবং শেষ পর্যন্ত তা দূর করা।

রাশিয়ার বিপুল গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ভাণ্ডারকে—রুশ-মার্কিন ‘নতুন দাতাঁত’-এ কেন্দ্রীয় ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। চীনের মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল বাস্তবায়নে এসব বিনিয়োগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিলে, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের এশীয় মিত্রদের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এর বাস্তব রূপ হতে পারে—ইউক্রেন শান্তিচুক্তিতে রাশিয়ার সহযোগিতার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ানসহ অন্য মিত্রদের নির্দিষ্ট খাতে রাশিয়ান আমদানিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে, যাতে যৌথ বিনিয়োগে প্রণোদনা তৈরি হয়।

এতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তার এশীয় মিত্রদের চীনের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর সামষ্টিক নির্ভরতাই কমবে না, একই সঙ্গে রাশিয়া যেন অতিমাত্রায় চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে—সেই ঝুঁকিও এড়ানো যাবে। ফলে চীনের প্রশ্নে উভয় পক্ষের স্বার্থই রক্ষা পাবে। তদুপরি, প্রস্তাবিত এই খাতভিত্তিক সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার ছাড়—জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতেও সম্প্রসারিত হতে পারে, ফলে রাশিয়ার আর্কটিক এলএনজি–২ মেগা প্রকল্পে পশ্চিমারা বিনিয়োগের সুযোগ পাবে। চীনের কম্পিউটার চিপের ওপর রাশিয়ার যে নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে— সেটাও কমাবে।

এর ফলে যে জটিল কৌশলগত পারস্পরিক নির্ভরতা তৈরি হবে, তা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। রাশিয়ার পশ্চিমে (ইউরোপ), উত্তরে (আর্কটিক), পূর্বে (পূর্ব এশিয়া) এবং সম্ভাব্যভাবে দক্ষিণে (দক্ষিণ ককেশাস ও মধ্য এশিয়া, যেমন এখানে প্রস্তাব করা হয়েছে) যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক হুমকি মোকাবিলার চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। কারণ, কৌশলগত সম্পদ ও সংশ্লিষ্ট সরবরাহ শৃঙ্খলে রাশিয়ার অপরিহার্য ভূমিকার কারণে তার জাতীয় নিরাপত্তা নতুন রূপে প্রতিষ্ঠিত হবে।

রাশিয়া বহু দশক ধরেই এমন একটি অবস্থান কামনা করে আসছে, এবং এখন তা বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে পারে।

একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ইউক্রেন শান্তিচুক্তি মেনে চলার ক্ষেত্রেও রাশিয়া প্রণোদনা পাবে, যাতে এই কাঠামো টিকে থাকে। এর ফলে রাশিয়া অতিমাত্রায় চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে পারবে এবং পাশাপাশি বাস্তব অর্থনৈতিক সুফলও অর্জন করবে।

বাস্তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার এশীয় মিত্ররা কার্যত রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে ‘মূল্য পরিশোধ’ করবে—যাতে রাশিয়া সেই শান্তিচুক্তি মেনে চলে। আর চীনের সঙ্গে মস্কোর বর্তমান যে মিত্রতা, যা চলতে থাকলে একদিন হয়তো জুনিয়র অংশীদারে পরিণত হবে, সেটিকে কয়েকটি প্রায় সমান কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটিতে রূপান্তর করতে পারবে।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত রাশিয়া–যুক্তরাষ্ট্র নতুন দাঁতাত (উত্তেজনা প্রশমন) বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে—চীনের কেন্দ্রীয় অবস্থানকেও সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার এশীয় মিত্ররা তাদের অভিন্ন লক্ষ্য অনুযায়ী, চীনের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবে, যেখানে রাশিয়া সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই কাঠামোর অধীনে রাশিয়া বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রান্তিক অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে তার কেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হবে। রাশিয়ার কৌশলগত সম্পদের গুরুত্বের কারণেই এই পরিবর্তন সম্ভব হবে—যার মাধ্যমে দেশটি তার দীর্ঘদিনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগোতে পারবে। – এশিয়া টাইমস