যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি বিশেষ করে আইস’র ধরপাকড় ঘিরে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অভিবাসীদের করনীয় সম্পর্কে কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটি’র উদ্যোগে নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের শেফ’স মহল রেস্টুরেন্টে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় এই সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্যানেল আলোচনায় এটর্নীগণ আইস’র কর্মকান্ডে ভীত না হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সমস্যা মোকাবেলার উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অভিবাসীরাই আমেরিকা গড়ে তুলেছে। নাগরিক অধিকার সংবিধান প্রদত্ত। কিন্তু আইস কোন কোন ক্ষেত্রে সংবিধান মানছে না।

উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাসপোর্ট/লীগ্যাল আইডি/ডকুমেন্ট সাথে রেখে সচেতনভাবে চলাফেরার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে জনমত সৃষ্টি করতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের আইস-কে দমানো যাবে না বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

ব্যতিক্রমী এই সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কাজী তোফায়েল ইসলাম। এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেটর জেসিকা রামোস, ষ্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান ষ্টেভেন রাগা, এটর্নী লাভ আজুয়া, এটর্নী অশোক কে কর্মকার, এটর্নী মনিকা কাউর, নিউইয়র্ক সিটি মেয়ল অফিসের ইমিগ্রেশন অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার তেনজিন তেস্যাং, সাউথ এশিয়ান এন্ড ইন্দো ক্যারাবিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ক্লাব ইন নিউইয়র্ক-এর প্রতিষ্ঠাতা

সভাপতি জাপনেথ সিং, ওভারসীস পাকিন্তানিস গ্লোবাল ফাউন্ডেশন (ওপিজিএফ)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আখতার জহির মালেক প্রমুখ।

সভায় জেসিকা রামোস ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করেন এবং অভিবাসীদের যেকোন সমস্যায় পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন এবং তার অফিসের কতিপয় উদ্যোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ষ্টেট সিনেটে আইস বিরোধী বিল উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ষ্টেভেন রাগা তার বক্তব্যে বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং অভিবাসীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

এটর্ণীগণ তাদের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে আমেরিকান নাগরিকদের অধিকারের কথা তুলে ধরে বলেন, নাগরিকদের অধিকারের অনেক ক্ষেত্রেই সংবিধান লংঘিত হচ্ছে। তবে সকল নাগরিককে সংবিধান মেনে আইসের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ, সোচ্চার আর রাজনৈতিকভাবে জনমত গতে তুলতে হবে। তারা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ‘শক্তিশালী পলিটিক্যাল পলিসি’ দরকার।

চলমান পরিস্থিতে পাসপোর্ট/লীগ্যাল আইডি/ডকুমেন্ট সাথে রেখে সচেতনভাবে চলাফেরার পাশাপাশি আইনজীবিদের সাথে পরামর্শ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন এটর্নীগণ। এছাড়াও আইস-এর অভিযান চলাকালে বা কেউ আটক বা গ্রেফতার হলে তাৎক্ষনিকভাবে কোন তথ্য না দিয়ে শান্ত থেকে এটর্নীর সাথে যোগাযোগ এবং এটর্ণীও মাধ্যমে তথা দেয়ার কথাও জানান এটর্নীগণ।

পরে উপস্থিত সাংবাদিক ও সুধীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্যানেল আলোচকগণ। প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে অর্ধ শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশী সভায় যোগ দেন।

সভায় সংগঠনের কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেন সভাপতি কাজী তোফায়েল ইসলাম। এছাড়াও সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটি’র সিনিয়র সহ সভাপতি জে মোল্লা সানী। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শেখ

মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম এবং ইভেন্ট কনভেনর ও সংগঠনের নারী বিষয়ক সম্পাদক ফারজানা হক। খবর ইউএনএ’র।



