১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে ‘শাহ নেওয়াজ গ্রুপ’র আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে ‘শাহ নেওয়াজ গ্রুপ’র আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে নিউইয়র্কের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী গ্রুপ ‘শাহ নেওয়াজ গ্রুপ’-এর আয়োজনে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২ ফেব্রুয়ারী সোমবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শাহ নেওয়াজ গ্রুপের কর্ণধার লায়ন শাহ নেওয়াজ ছাড়াও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আলোচনায় অংশ নেন। এতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন এবং শবে বরাতের বিষয়ে কোরআন ও হাদিসের আলোকে বক্তব্য রাখেন কারী সাইয়্যেদ মুসতানজিদ বিল্লাহ রব্বানী। মাহফিলে শবে বরাতের তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন মিলাদ ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন ইমাম কাজী কাইয়্যুম।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, মূলধারার রাজনীতিক এটর্ণী মঈন চৌধুরী, জেবিবিএ’র একাংশের সাধারণ সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, সোসাইটির ট্রাষ্ট্রি বোর্ড সদস্য ও জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি’র সভাপতি এবং জেএমসি’র সেক্রেটারী ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, সোসাইটির ট্রাষ্ট্রি বোর্ড সদস্য মোহাম্মদ আতোয়ারুল আলম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট শাহ শহীদুল হক, বাংলাদেশ সোসাইটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মাহফিলে ইমাম কাজী কাইয়্যুম বলেন, শবে বরাত একটি পবিত্র রাত। এই রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষের অতীত গুণাগুলো মাফ করার জন্য বিশেষ সুযোগ রেখেছেন। কোন বান্দা যদি তার গুণাহ স্মরণ করে আল্লাহর কাছে মাফ চান, আল্লাহ তায়ালা তাকে মাফ করে দেন। তাই এ রাতে শুধু নিজেদের জন্য নয় আমাদের পূর্বপুরুষ সহ সকল মুসলিমের জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করা দরকার। তিনি আরো বলেন, আগে দেশে প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় ভাব গাম্ভীরে‌্যর মধ্য দিয়ে শবে-বরাত পালন করা হতো। এখন সে প্রচলন উঠে যাচ্ছে। মানুষ এখন শবে বরাতের তাৎপর্য অনুধাবন করতে পারছে না। তিনি সবাইকে শবে বরাতের তাৎপর্য ও গুরুত্ব উপলব্ধি করে এই রাতের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান।

শাহ নেওয়াজ বলেন, বান্দারা পাহাড়সম গুণা করে থাকলেও তা মাফ পাওয়ার পবিত্র রাত শবে বরাত। তওবার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে সকল গুণা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আল্লাহর কাছে মন থেকে ক্ষমা চাইলে, তওবা করলে তিনি তা মাফ করে দেন। তিনি বেশী বেশী নামাজ আদায় আর তওবা করার জন্য ধর্মপ্রান মুসলমানদের প্রতি আহবান জানান। সবশেষে তিনি তার বক্তব্যে স্বস্ত্রীক ওমরাহ হজ পালনে যাওয়ার কথা জানান এবং সবার দোয়া কামনা করেন।

আতাউর রহমান সেলিম বলেন, শবে বরাত পালন নিয়ে আমরা খুব বিপদে আছি। কেউ বলেন, শবে বরাত পালন বেদাত, কেউ বলেন ঠিক। তিনি সততা আর নিষ্ঠার সাথে সৃষ্টিকর্তার নামে ধর্ম-কর্ম পালন করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান এবং দেশের জন্য সবার দোয়া কামনা করেন।

এটর্নী মঈন চৌধুরী বলেন, প্রবাসে আমরা একটি পরিবার। আমাদের ভুলত্রুটি হলে সবাই সবাই ক্ষমা করে দিবেন। আমাদেও একটি লক্ষ্য থাকা উচিৎ যাতে আমাদের দ্বারা কারো যেনো ক্ষতি না হয়।

ফাহাদ সোলায়মান বলেন, পবিত্র শবে বরাতের রাতে নিউইয়র্কের মসজিদগুলো বন্ধ না রেখে ইবাদতের জন্য মসজিদগুলো সারারাত খোলা রাখার জন্য বিশেষ করে জ্যামাইকা মসলিম সেন্টার (জেএসি) মসজিদ পরিচালনা কমিটির প্রতি আহ্বান জানান।

মহিউদ্দিন দেওয়ান বলেন, আমাদের ইমাম-ওলামাদের বিভক্তির জন্যই আমরা ধর্মকর্ম পালনে দ্বিধা-দ্বন্দে পরছি। এর সমাধান প্রয়োজন। তিনি ইসলামকে ঘরে ঘরে পৌছে দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

মোহাম্মদ আলী বলেন, পবিত্র শবে বরাতের রাতে আমরা দেশে যা করাতাম তা প্রবাসে নেই। দেে এই রাতে শুধু ধর্ম-কর্মই হতো না, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বিষয়টিও পরিলক্ষিত হতো। সবাইকে নিয়ে শাহ নেওয়াজ গ্রুপের শবে বরাত পালনের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, ইমাম-ওলামারা আমাদের ধর্মীয় নেতা। তাদের নেতৃত্বেই আমরা ধর্ম-কর্ম পালন করে থাকি। আর ইসলামে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার কথা বলা হয়েছে। ধর্ম পালন সবার নিজস্ব ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে শবে বরাত পালন সহ ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে যেসব মতভেদ রয়েছে সেগুলো সমাধানের জন্য আলেম সমাজকে নিয়ে ইসলামিক দিবসগুলো পালনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মিডিয়ার সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক এবং শাহ নেওয়াজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান রানো নেওয়াজ সহ বাংলাদেশ সোসাইটির সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, ফোবানার সাবেক আহ্বায়ক আবু জুবায়ের দ্বারা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বেলাল হোসাইন, শাহ জে চৌধুরী, নিউইয়র্ক-বাংলাদেশ লায়ন্স ক্লাবের সাবেক সভাপতি রকি আলিয়ান ও বর্তমান সভাপতি জেএফএম রাসেল, রিয়েলটর নুরুল আজিম, বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকর্তা আবুল কাশেম চৌধুরী ও তোফায়েল আহমেদ সহ সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী শাহ মাহবুব সহ কয়েকজন নাতে রাসূল ও হামদ পরিবেশন করেন। খবর ইউএনএ-র