১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি ৩৪ বছরের সর্বোচ্চে

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ৩৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি নথিভুক্ত হয়েছে গত নভেম্বরে। মূলধনী পণ্যের আমদানি বৃদ্ধির কারণে ঘাটতি বেড়ে ৫৬ দশমিক আট বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই রেকর্ড ঘাটতি চতুর্থ প্রান্তিকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসকে প্রভাবিত করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিস এবং সেন্সাস ব্যুরো বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য ঘাটতি ৯৪ দশমিক ছয় শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে। শতাংশের হিসাবে এটি ১৯৯২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ। রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, ঘাটতি ৪০ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।

গত নভেম্বরে মার্কিন সরকারি শাটডাউনের কারণে প্রতিবেদন প্রকাশে ৪৩ দিনের বিলম্ব হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানি পাঁচ শতাংশ বেড়ে ৩৪৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। পণ্য আমদানি ছয় দশমিক ছয় শতাংশ বেড়ে ২৭২ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। এর মধ্যে মূলধনী পণ্যের আমদানি সাত দশমিক চার বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। কম্পিউটার ও সেমিকন্ডাক্টরের আমদানির বৃদ্ধিই মূল কারণ। তবে কম্পিউটার আনুষঙ্গিক পণ্যের আমদানি তিন বিলিয়ন ডলার কমেছে।

অন্যান্য পণ্যের আমদানি রেকর্ড পর্যায়ে ছিল। ভোক্তা পণ্যের আমদানি ৯ দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। বিশেষ করে ওষুধজাত পণ্য আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, শিল্প সরবরাহ সামগ্রীর আমদানি দুই দশমিক চার বিলিয়ন ডলার কমেছে।

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি তিন দশমিক ছয় শতাংশ কমে ২৯২ দশমিক এক বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। পণ্য রফতানি ১৬৫ দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার বা পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ কমেছে। শিল্প সরবরাহ ও উপকরণের রফতানি ছয় দশমিক এক বিলিয়ন ডলার কমেছে। এর মধ্যে মূল্যবান ধাতু এবং অপরিশোধিত তেলের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। শুধু অপরিশোধিত তেলের রফতানি এক দশমিক চার বিলিয়ন ডলার কমেছে। ভোক্তা পণ্যের রফতানি তিন দশমিক এক বিলিয়ন ডলার কমেছে।

পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ৪৭ দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে ৮৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যদিও সেবা খাতের আমদানি কমেছে, তবে রফতানি রেকর্ড পরিমাণ হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নভেম্বরে এই বাণিজ্য ঘাটতি চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

২০২৫ সালের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বাণিজ্য ইতিবাচক অবদান রেখেছিল। তবে আমদানি বৃদ্ধি ও রফতানি হ্রাসের ফলে চতুর্থ প্রান্তিকে সেই অবদান কমতে পারে। বিশেষ করে মূলধনী পণ্যের আমদানির কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপ পড়বে।

মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কম্পিউটার ও সেমিকন্ডাক্টরের আমদানির বৃদ্ধি এবং ভোক্তা পণ্যের রেকর্ড আমদানি বাণিজ্য ঘাটতি চরমে পৌঁছাতে মূল ভূমিকা রেখেছে। শিল্প সরবরাহ সামগ্রীর কম আমদানি এবং মূলধনী পণ্যের নির্দিষ্ট হ্রাসের সত্ত্বেও সামগ্রিক ঘাটতি ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসের তুলনায় কম হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও মুদ্রানীতি পরিকল্পনাকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে হতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য ঘাটতির ধারাবাহিকতা এবং আমদানি বৃদ্ধি দেশের মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যালান্স অফ পেমেন্টে প্রভাব ফেলতে পারে।

রাষ্ট্রীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, আমদানি বৃদ্ধির মধ্যে মূলধনী পণ্য, কম্পিউটার ও সেমিকন্ডাক্টর উল্লেখযোগ্য। ভোক্তা পণ্যের মধ্যে ওষুধজাত সামগ্রী প্রধান ভূমিকা রেখেছে। রফতানিতে মূল্যবান ধাতু, অপরিশোধিত তেল ও ভোক্তা পণ্যের হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাণিজ্য ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। চতুর্থ প্রান্তিকে জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হলেও সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করছে। মার্কিন শাটডাউন ও বিশ্ববাজারে পণ্যের দামের ওঠানামা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। খবর রয়টার্স।