৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

বিচারকের ওয়ারেন্ট ছাড়াই বাড়িতে ঢোকার অনুমতি – আইসের নতুন নীতিতে উদ্বেগ, আশঙ্কা

বিচারকের ওয়ারেন্ট ছাড়াই বাড়িতে ঢোকার অনুমতি – আইসের নতুন নীতিতে উদ্বেগ, আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দশকের পর দশক ইমিগ্রেন্ট কমিউনিটিগুলোতে একটি মৌলিক পরামর্শ প্রচলিত ছিল: ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা যদি বিচারকের স্বাক্ষরযুক্ত ওয়ারেন্ট না দেখান, তবে দরজা খুলবেন না। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী অনুযায়ী সরকারের পক্ষে কোনো ব্যক্তির বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করা নিষিদ্ধ, যদি না স্বাধীন বিচারকের অনুমোদন থাকে।

এই আইনি বাস্তবতার কারণে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা সাধারণত বাড়ির বাইরে প্রকাশ্য স্থানে গ্রেপ্তার করতেন। অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নজরদারি চালিয়ে অপেক্ষা করতে হতো—কেউ কখন ঘর থেকে বের হবেন, সেই সুযোগের জন্য।

কিন্তু এই দীর্ঘদিনের চর্চায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর একটি অভ্যন্তরীণ মেমো। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এর হাতে আসা ওই নথিতে বলা হয়েছে, বিচারকের স্বাক্ষরযুক্ত ওয়ারেন্ট ছাড়াও, শুধু অভিবাসন কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত প্রশাসনিক ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আইস এজেন্টরা জোরপূর্বক কারও বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবেন যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ থাকে।

এই নীতিগত পরিবর্তন এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দেশজুড়ে গণহারে অভিবাসী গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করছে। এর ফলে মিনিয়াপলিসসহ বিভিন্ন শহরে আইন প্রয়োগের কৌশলেও দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

মেমোর নির্দেশনা কতটা বিস্তৃতভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে এপি ১১ জানুয়ারি মিনিয়াপলিসে প্রত্যক্ষ করেছে—আইস কর্মকর্তারা ভারী কৌশলগত পোশাক পরে এবং হাতে রাইফেল নিয়ে, কেবল প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট দেখিয়ে এক লাইবেরীয় নাগরিকের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছেন।

এই ঘটনায় কংগ্রেসে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল আইসের এই গোপন নীতি নিয়ে কংগ্রেসীয় শুনানির দাবি জানিয়েছেন এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোমের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই নীতি প্রতিটি আমেরিকানের জন্য ভীতিকর—যেখানে সরকারি এজেন্টরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকার অনুমতি পাচ্ছে।”

এর আগেই, ১৯৮০ সালে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে লিখতে গিয়ে বিচারপতি জন পল স্টিভেন্স মন্তব্য করেছিলেন, “বাড়িতে শারীরিকভাবে প্রবেশই চতুর্থ সংশোধনীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় হুমকি।”

দীর্ঘদিন ধরে অনেক অভিবাসী কাজ ও বাইরে যাওয়া বন্ধ রেখে গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। এক জ্যেষ্ঠ আইস কর্মকর্তা একবার এই দীর্ঘ অপেক্ষাকে তুলনা করেছিলেন “রং শুকাতে দেখার” সঙ্গে। এপি’র পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় একাধিক ঘটনায় কর্মকর্তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি।

আইস অতীতে ‘নক অ্যান্ড টক’ কৌশলও ব্যবহার করেছে—যেখানে কর্মকর্তারা সাধারণ কথাবার্তার ছলে বাসিন্দাদের বাইরে আনতে চাইতেন। তবে ২০২০ সালে এক ফেডারেল বিচারক এই পদ্ধতিকে বেআইনি ঘোষণা করেন।

২০০৩ সালে আইস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অধিকারকর্মী সংগঠন, অভিবাসন আইনজীবী এবং অনেক রাজ্য ও স্থানীয় সরকার নিয়মিতভাবে অভিবাসীদের জানিয়ে আসছে—বিচারকের স্বাক্ষরযুক্ত ওয়ারেন্ট না দেখালে দরজা না খোলার অধিকার রয়েছে। ‘নিজের অধিকার জানুন’ শিরোনামে প্রশিক্ষণ, লিফলেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়েছে।

ইউসিএলএ ল স্কুলের সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন ল অ্যান্ড পলিসির সহ-পরিচালক আহিলান আরুলানন্থাম এই মেমোকে “গভীরভাবে উদ্বেগজনক” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশের অনুমতি দিলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে—বিশেষ করে যেসব অঙ্গরাজ্যে ‘স্ট্যান্ড-ইউর-গ্রাউন্ড’ আইন কার্যকর, সেখানে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সহিংস সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করেন, আইসের নথিতে ভুল ঠিকানা থাকার ঘটনাও বিরল নয়, যা নিরপরাধ মার্কিন নাগরিকদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আরুলানন্থামের ভাষায়, “এটি একটি বিপজ্জনক পথে আরেক ধাপ অগ্রসর হওয়া। এর অর্থ—মানুষ হয়তো আর নিজের ঘরেও নিরাপদ বোধ করবে না।”